ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
সমপ্রতি ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক খবরে বলা হইয়াছে যে, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে বাঁশের খুঁটিতে স্থাপন করা হইয়াছে বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন। খুঁটির দূরত্ব বেশি হওয়ায় সঞ্চালন লাইন ঝুলিয়া কোথাও কোথাও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করিয়াছে। বিশেষত বর্ষা মৌসুমে ঝুলিয়া থাকা এই তারই হইয়া ওঠে মরণফাঁদ। নৌকায় যাতায়াতের কারণে প্রায়শ নৌকার লগিতে লাগিয়া প্রতি বত্সরই এখানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়িবার ঘটনা ঘটে। ইহাতে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হইয়া অনেকে মারাও যান। শুধু তাহাই নহে, কোনো কোনো গ্রামে গাছে পেঁচাইয়াও নেওয়া হইয়াছে বিদ্যুত্ লাইন। এখানে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের কারণে খুঁটি বা খাম্বার পরিবর্তে বাঁশ ও গাছের খুঁটায় বিদ্যুত্ লাইন দেওয়া হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে। এই অভিযোগ আমলে নিয়া বিষয়টি তদন্ত করিয়া দেখা প্রয়োজন। সেই সাথে বাঁশের খুঁটি অপসারণ করিয়া সেখানে দ্রুত পাকা ও মজবুত খুঁটি প্রতিস্থাপন করাও বাঞ্ছনীয়।

শুধু ছাতক নহে, সমপ্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায়ও রহিয়াছে একই সমস্যা। বিস্ময়ের ব্যাপার হইল, বাঁশের খুঁটি দিয়া ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক লাইন টানিবার দৃষ্টান্ত খোদ ঢাকা শহরেও আছে। রামপুরা হইতে ডেমরাগামী সড়কের ত্রিমোহনী সেতুর পশ্চিম পাশ হইতে নাগদারপাড় সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশেও এভাবে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হইয়াছে। এইক্ষেত্রে ডিপিডিসির বক্তব্য হইল, তাহারা বাঁশের খুঁটি দিয়া বিদ্যুত্ সরবরাহ করেন না। ইহা অবৈধ লাইন। অথচ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা মাসের পর মাস বিদ্যুত্ বিল দিয়া আসিতেছেন। মূলত ডিপিডিসির খুঁটি বসানোর পর বিদ্যুত্ নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও অনিশ্চিত জানিয়া ঝুঁকি সত্ত্বেও বিদ্যুত্ সুবিধার জন্য এখানে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হইয়াছে। কিন্তু এই ব্যাপারেও সতর্কতার বিকল্প নাই।  অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনের নিচে গড়িয়া ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন। অথচ বিদ্যুত্ আইনে স্পষ্ট করিয়া বলা আছে যে, উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের নিচে ঘরবাড়ি বা স্থাপনা থাকিতে পারিবে না। ডানে ও বামে অন্তত ১০ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখিতে হইবে।

বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করিয়া যাইতেছে। গতকালই শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০টি উপজেলা উদ্বোধন করা হইয়াছে। ইহার আগে ১৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হইয়াছে। কিন্তু বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়িলেও পাল্লা দিয়া বাড়িতেছে চাহিদাও। এই কারণে লোডশেডিং আবারও দৃশ্যমান। তবে এখন আমাদের কর্তব্য হইল, বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনগুলি সংস্কার ও উন্নত করা। অতীতেও এমন বিপজ্জনক পন্থায় বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন যে স্থাপন করা হয় নাই তাহা নহে। তবে সাময়িকভাবে বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুত্ সংযোগ দিবার পর আশা করা হয় যে, অচিরেই সেখানে বসানো হইবে স্থায়ী খুঁটি। যেহেতু এখানে জননিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত, তাই ইহার সমাধান জরুরি। আশা করি এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন