বান্দরবানে অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচার
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলায় পাথর আহরণের যে কোনো অনুমতি নাই স্বয়ং জেলা প্রশাসকই তাহা নিশ্চিত করিয়াছেন। কিন্তু অনুমতির তোয়াক্কা না করিয়াই উপজেলা দুইটিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচার অব্যাহত রহিয়াছে। যথেচ্ছভাবে পাহাড় কাটিয়া এবং ঝিরি ও ঝরনা খুঁড়িয়া লক্ষ লক্ষ ঘনফুট পাথর পাচার হইতেছে। জানা যায়, আলীকদম উপজেলার মাতামুহুরী রিজার্ভের তুলাতলী, বুজি ও ধুমচি খাল, চৈক্ষ্যং-এর বাঘের ঝিরি, আলীকদম থানচি সড়কের আশেপাশের ঝিরি এবং পাহাড় ও ঝরনা হইতে অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ পাথর পাচারের জন্য স্তূপ করিয়া রাখা হইয়াছে। লামাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাসমূহের চিত্রও ভিন্ন নহে। শুধু যে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলিতেছে তাহাই নহে, তাহা পাচারও হইতেছে পুরোদমে। অবিশ্বাস্য হইলেও সত্য যে, সবই হইতেছে প্রকাশ্যে। কিন্তু কীভাবে তাহা সম্ভব—সেই প্রশ্ন উঠিতে পারে। অভিযোগ হইল, ইহার পিছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আছে। আছে প্রশাসনিক ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের একাংশের সমর্থন। ইহা সহজেই বোধগম্য যে, এই ধরনের ক্ষমতাবানদের সমর্থন না থাকিলে পরিবেশ ও সড়ক অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি করিয়া এই অবৈধ বাণিজ্য চলিতে পারিত না কোনোক্রমেই।     

গত বৃহস্পতিবারের ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, অবৈধ পাথর পরিবহনের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নষ্ট হইয়া চলাচলের অনুপযোগী হইয়া পড়িতেছে। শুধু তাহাই নহে, যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের কারণে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়িতেছে এ অঞ্চলের পার্বত্য পরিবেশের উপর। মাটি আলগা হইয়া পাহাড় ধস ও ভূমি ধস বৃদ্ধি পাইতেছে আশঙ্কাজনকভাবে। শুকাইয়া যাইতেছে পানির প্রাকৃতিক উত্স পাহাড়ি ছড়া, ঝিরি ও ঝরনাসমূহ। অবশ্য প্রশাসন যে কিছুই করিতেছে না তাহাও নহে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে উত্তোলিত পাথর ঠিকই জব্দ করা হইতেছে। আবার সেই পাথর তোলা হইতেছে নিলামে। অভিযোগ আছে, অবৈধ পাচারকারীরাই জব্দকৃত পাথর নিলামে ক্রয় করিয়া নেন। আর গল্পের কুমির শাবকের মতো সেই নিলামের কাগজ দেখাইয়া দিনের পর দিন চলিতে থাকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচার। অর্থাত্ এইখানেও শুভঙ্করের ফাঁকি। পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানাইয়াছেন, অবৈধ পাথর উত্তোলন ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রকারান্তরে তাহাদের এক প্রকার বৈধতাই প্রদান করা হইতেছে।

ফাঁক ও ফাঁকির এই খেলা অবশ্যই বন্ধ করিতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে যে, জনসংখ্যার তুলনায় আমাদের ভূমি ও প্রকৃতিদত্ত সম্পদ সীমিত। খাল ও জলাশয়গুলি ক্রমেই উধাও হইয়া যাইতেছে। দখলে-দূষণে বিপন্ন হইয়া পড়িতেছে একের পর এক নদী। পাহাড়ও যে ভালো নাই— উপর্যুপরি ধসের মধ্য দিয়া তাহার জোরালো বার্তা দিয়া চলিয়াছে আমাদের পাহাড়ি জনপদ। অতএব, পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস চলিতে পারে না। এই ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও রহিয়াছে। তাই, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচারের সহিত জড়িত চক্রটি যত শক্তিশালীই হউক না কেন অনতিবিলম্বে তাহাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন