ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করিতে হইবে সামাজিকভাবে
১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ নামক ইন্টারনেটভিত্তিক গেমটি এখন আতঙ্কের ন্যায় বিশ্ববাসীকে তাড়া করিতেছে। কারণ ইহা কমবয়সী তরুণ-তরুণীদের আত্মহত্যা করিতে প্ররোচিত করে। ২০১৩ সালে রাশিয়ার এক গেমার কর্তৃক উদ্ভাবিত এই গেমটির কারণে রাশিয়া, ভারত, চিলিসহ বেশ কয়েকটি দেশে অনেক কিশোর-কিশোরী আত্মহত্যার পথ বাছিয়া নিয়াছে। বাংলাদেশেও এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরিয়া ব্লু হোয়েল গেমের নাম চলিয়া আসিয়াছে। তবে এই সংবাদের সত্যতা তেমন পাওয়া যায় নাই, এমনকি রাশিয়া অথবা ভারতের সকল ঘটনাও যাচাইকৃত নহে। কিছু ঘটনার সহিত ইহার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত। মূলত সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ভাইবার ইত্যাদির মাধ্যমে গেমটির ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ছড়াইয়া পড়িতে থাকে। তবে এইসকল সামাজিক মাধ্যমে আপাতত এই গেমের সাইটটিকে নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। আর রাশিয়ার উদ্ভাবক তরুণ ফিলিপ বুদেকিনকে সেই দেশের সরকার গ্রেফতার করিয়াছে।

প্রকৃতপক্ষে ইহা কোনো গেম নহে। ইহাতে আগ্রহী যাহারা, তাহাদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের কিউরেটর নানান কাজ বা টাস্ক দিয়া থাকেন। টানা ৫০ দিন নানান ধরনের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ টাস্ক সমাপ্ত করিবার পর শেষ কাজটি হইল উঁচু ভবন হইতে লাফ দিয়া আত্মহত্যা করা। প্রথম দিকের টাস্কগুলি মজাদার হইলেও ক্রমশ ইহা আত্মবিধ্বংসী হইয়া ওঠে। কেহ ফিরিয়া আসিতে চাহিলেও তাহাকে হুমকি দেওয়া হয়, বিশেষত তাহার পিতা-মাতা-স্বজনকে হত্যা করিবার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তাহার আর ফিরিয়া আসিবার উপায় থাকে না। বাংলাদেশের হলিক্রস কলেজের ছাত্রী অপূর্বার আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর কারণ হিসাবে তাহার পিতাই ব্লু  হোয়েল চ্যালেঞ্জের নাম উল্লেখ করিয়াছেন। কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণে উহার সত্যতা মিলে নাই। কিন্তু এই ঘটনাকে ঘিরিয়া ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে অন্যতম আলোচ্য বিষয়বস্তুতে পরিণত হইয়াছে। যদি সত্যিই ইহা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে টিন-এজার আত্মহত্যার কারণ হইয়া থাকে, তবে সেই বিষয়ে আতঙ্কিত না হইয়া সচেতন হওয়া খুবই জরুরি। বাংলাদেশে যেন একটি আত্মহত্যার ঘটনাও এই কারণে না ঘটিতে পারে তাহার জন্য আমাদের সকলকে সচেষ্ট থাকিতে হইবে। আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসির দিক হইতে কর্তব্য হইল গেমটির লিঙ্ক ফিল্টার করিয়া বাদ দেওয়া, এবং ইহার লিঙ্ক যেন নানান মাধ্যমে কিছুতেই শেয়ার না হইতে পারে সেই দিকে লক্ষ রাখা। তবে মূল দায়িত্ব পালন করিতে হইবে অভিভাবকদের।

উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের সহিত পিতা-মাতার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়িয়া তুলিতে হইবে এবং তাহা রক্ষার জন্য নিয়মিত তাহাদের সহিত সময় কাটাইতে হইবে। ব্যস্ত পিতামাতাকে তাহাদের ব্যস্ততা কমাইয়া সন্তানের জন্য সময় বাহির করিতে হইবে। ইহাতে দুইটি ফল পাওয়া যাইবে। প্রথমত, সন্তানের ইন্টারনেট নির্ভরতাজনিত আসক্তি কিছুটা কমিয়া আসিবে; এবং সন্তানেরা ইন্টারনেটে কীরকম সময় কাটাইতেছে, ক্ষতিকর কোনো কিছুর সংস্পর্শে আসিতেছে কিনা, সেই সম্পর্কে জানা যাইবে। আজিকার যুগে সন্তানদের ইন্টারনেট হইতে বিরত রাখা অসম্ভব এবং উচিতও নহে। কিন্তু ইন্টারনেটে কীধরনের বিষয়বস্তুর সংস্পর্শে সন্তানরা আসিতেছে তাহার খোঁজখবর রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের মনে রাখিতে হইবে, একাকী-আত্মকেন্দ্রিক ও অবসাদগ্রস্ত সন্তানেরাই এই ধরনের অদ্ভূতুড়ে গেমের প্রতি আকৃষ্ট হইবার ঝুঁকিতে বেশি রহিয়াছে। তাই এই ঝুঁকির মোকাবিলা পারিবারিক ও সামাজিকভাবেই করিতে হইবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন