প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কোনো অজুহাত কাম্য নহে
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়া খোদ শিক্ষামন্ত্রী নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করিয়াছেন। বলিয়াছেন যে, কতিপয় শিক্ষকের কারণেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হইতেছে। তাহার মতে, শিক্ষকরাই যখন প্রশ্ন ফাঁসকারী, তখন (কাহারও কাহারও সুপারিশ অনুযায়ী) পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্ন পাঠাইয়া কী লাভ? সরকার বিজি প্রেস হইতে প্রশ্ন ফাঁস রোধের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়াছে। এই অবস্থায় শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলিয়া দিয়া নিশ্চিন্ত থাকিবার কথা থাকিলেও তাহা হইতেছে না। শিক্ষামন্ত্রী মনে করেন, কোচিং সেন্টারগুলি শিক্ষকদের প্রশ্ন ফাঁসে প্ররোচিত করিতেছে। কিন্তু তিনি শিক্ষকদের দায়ী করিলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন নাই। বরং এখানেও অসহায়ত্ব প্রকাশ করিয়া বলিয়াছেন যে, আইন না থাকায় সরকার এখন কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিতেছে না।

শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে— শিক্ষাবোর্ড, বিজি প্রেস, ট্রেজারি ও পরীক্ষা কেন্দ্র হইতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হইতেছে। এসকল প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে কোচিং সেন্টার, অসাধু শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের যোগসাজশ রহিয়াছে। অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস অপরাধমূলক অসদাচরণের মধ্যে পড়ে যাহা দুদক আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ। সুতরাং একেবারে আইন নাই এমন কথা বলিবার অবকাশ নাই। প্রয়োজনে যুগোপযোগী ও আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করা যায়। তবে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগে আমরা কতটুকু আন্তরিকতার পরিচয় দিতেছি? প্রশ্নপত্র ফাঁসের সহিত শিক্ষকরা জড়িত নাই তাহা আমরা বলি না। অর্থলোভে তাহারা নিজেরা যেমন অপকর্মে জড়াইয়া পড়িতে পারেন, তেমনি তাহাদের আশেপাশের লোকজনের অসাধুতার কারণেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হইতে পারে। মোটকথা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হইতে শুরু করিয়া ছাপা ও বিতরণের যে কোনো ধাপে প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কাকে উড়াইয়া দেওয়া যায় না। কিন্তু শুধু অন্যকে দোষারোপ করিয়া নিজেদের দায়দায়িত্ব আড়াল করিবার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁস শিক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য দুর্নীতি ও অনিয়মকে ছাড়াইয়া যাইতেছে। ইহাতে জাতির ভবিষ্যত্ নিয়াই শঙ্কা দেখা দিয়াছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা হইতে শুরু করিয়া চাকুরি ও ভর্তি পরীক্ষার পাশাপাশি এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠিতেছে। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থান হইতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সেই সকল পরীক্ষা বাতিলেরও খবর পাওয়া যাইতেছে। ইহার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নূতন করিয়া বলিয়াছেন যে, সরকারকে বিপদে ফেলিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হইতেছে। যে উদ্দেশ্যেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হউক না কেন, ইহা একটি গুরুতর অপরাধ। ইহার দায়-দায়িত্ব অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হইবে। এই ক্ষেত্রে হতাশা প্রকাশ নহে, বরং দ্রুত অ্যাকশনে যাওয়া উচিত। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আছে, আইন আছে। সাধারণ মানুষ অভিযোগ শুনিতে চাহে না, কাজ দেখিতে চাহে। প্রশ্ন ফাঁসের পিছনে যে বা যাহারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ সকলেরই একান্ত কাম্য।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন