মাদকের মূলোত্পাটনে বাধা কোথায়?
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
রাজশাহীর মোহনপুরের মৌগাছী কলেজের অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতা শামসুজ্জোহা ওরফে বেলাল আবারও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হইয়াছেন। গত এপ্রিলেও তাহাকে অনেকগুলি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করিয়াছিল  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জামিনে মুক্তি পাইয়া তিনি আবারও জড়াইয়া পড়িয়াছেন মাদক ব্যবসায়। কলেজের একজন অধ্যক্ষ যখন মাদকের ব্যবসায় জড়াইয়া পড়েন, এমনকি আইনের নজরদারিতে থাকিয়াও মাদক-ব্যবসা করিতে গিয়া পুনর্বার গ্রেপ্তার হন, তখন সহজেই অনুমান করা যায়, ইয়াবা নামের মাদকদ্রব্যটির ব্যবসা কত লোভনীয় হইয়া উঠিয়াছে এবং সমাজের উপর হইতে নীচতলা পর্যন্ত মাদকের আসক্তি কত প্রকট হইয়া উঠিয়াছে। ইয়াবা ব্যবসা এত দ্রুত বিস্তারের কারণ, আসক্তরাও ক্রমান্বয়ে  এই ব্যবসার সহিত জড়াইয়া পড়ে এবং ইহা সহজে বহনযোগ্য। উদ্বেগের বিষয় হইল, কক্সবাজার-টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকা শুধু নহে, সারা দেশেই এখন জীবনবিধ্বংসী ইয়াবার ব্যবসা জমজমাট।

সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলিতেছে, বর্তমানে মাদকাসক্তির চিকিত্সা লইতে আসা রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ইয়াবায় আসক্ত। অনুসন্ধানে দেখা গিয়াছে, গত পাঁচ বত্সরে নেশাখোর ছেলের হাতে ৩৮৭ জন পিতা-মাতা খুন হইয়াছে। একই সময়ে স্বামীর হাতে খুন হইয়াছে ২৫৬ জন নারী। মাদক সেবন নিয়া বিরোধে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটিয়াছে ৫ হাজার ৭৮০টি। একই কারণে প্রেমিক বা প্রেমিকার হাতে খুন হইয়াছে ৬ শতাধিক তরুণ-তরুণী। ইহা খণ্ডচিত্র মাত্র। ইয়াবার অবাধ গতি সমাজকে গতিহীন করিতেছে, আর অপরাধের গতি বাড়াইতেছে। বলা বাহুল্য, থানা পুলিশ ও প্রশাসনকে হাত করিয়াই চলিতেছে ব্যবসা। মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের সাগর সীমান্তে গড়িয়া উঠিয়াছে অন্তত ৪০টি ইয়াবা কারখানা। সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়া, কখনো-বা সহযোগিতায়, কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়াসহ ৪৫টি পয়েন্ট দিয়া নৌপথে চালান আসিতেছে, আর সড়কপথে ছড়াইয়া পড়িতেছে রাজধানীসহ সমগ্র দেশে। রাজনীতি-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এই ব্যবসায় জড়িত, পুলিশ কর্মকর্তা এমনকি সাংবাদিকদের যোগসূত্রের তথ্যপ্রমাণও আছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ১০০ জন মাদকসম্রাটের তালিকা করিয়াছেন। তাহাদের প্রায় সকলেই ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সাথে যুক্ত। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, অন্য দল ক্ষমতায় থাকিলে মাদকসম্রাটেরা সেই দলেরই আশ্রয় লইতেন। এই তালিকায় পুলিশ ১১০০ ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীর নামও লিপিবদ্ধ করিয়াছে। পুলিশের অনুসন্ধানে দেখা গিয়াছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের একটি অংশও এই ব্যবসার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

ভৌগোলিকভাবে আমাদের অবস্থান এমন জায়গায় যাহা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশের মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। অন্যান্য মাদকের চলাচল কমিলেও, ইয়াবা পাচার ঠেকানো যাইতেছে না। সমাজপতি, রাজনীতিক, সরকারি কর্মজীবী, পুলিশ সবাই যখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হইয়া পড়েন, তখন প্রতিরোধ গড়িবে কে! তবু আমরা বলিব, থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলি একসময় মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে বন্দি ছিল। তাহারা সেই সংস্কৃতি হইতে অনেকটাই বাহির হইয়া আসিয়াছে। সর্বপ্রকার দলপ্রীতি ও স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। সকলেই জানেন, মাদকের প্রধান উত্স সীমান্তের বাহিরে। তাই, মাদক প্রবেশের পথগুলিকেও নিশ্ছিদ্র করিয়া তোলা একান্ত আবশ্যক।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন