ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলির দিকে নজর দিন
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ হইয়া পড়িয়াছে। বরগুনার বেতাগী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও তথৈবচ। সারা দেশে এই ধরনের অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের জীর্ণদশা লইয়া প্রায়শ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হইতে দেখা যায়। মেয়াদোত্তীর্ণ হইয়া যাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে সাধারণত বিদ্যালয় ভবনগুলি জরাজীর্ণ হইয়া থাকে। তাহা ছাড়া প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিদ্যালয় ভবনের সংখ্যাও কম নহে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যালয় ভবনগুলিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হইলেও সেইখানে নূতন করিয়া ভবন নির্মাণে বা নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা অনিয়ম লক্ষ করা যায়। এমতাবস্থায় ঝুঁকি এড়াইতে ও শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখিতে খোলা মাঠ কিংবা পার্শ্ববর্তী স্থানে টিনের চালা ও বেড়া দিয়া অস্থায়ীভাবে পাঠদান চলে বত্সরের পর বত্সর।

শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরিয়া রাখিবার ক্ষেত্রে পাঠদানের পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ স্বস্তিকর ও আকর্ষণীয় না হইলে শিশুরা বিদ্যালয়বিমুখ হইবে, ইহাই স্বাভাবিক। অথচ, দেশের ৬৩ সহস্রাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২০ হাজারই জরাজীর্ণ বলিয়া জানা যায়। উপরন্তু দেশের ৬৫ শতাংশেরও অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  শ্রেণিকক্ষ সংকট রহিয়াছে বলিয়া সর্বশেষ প্রাথমিক বিদ্যালয়শুমারিতে উঠিয়া আসিয়াছে। ২০১৫ সালের ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ীও প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের হতাশাজনক চিত্র লক্ষ করা যায়। সংস্থাটির মতে, প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয়িত অর্থের মাত্র ৪ শতাংশেরও কম অর্থ ব্যয়িত হয় অবকাঠামো উন্নয়নে। অথচ অবকাঠামো সংকট মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এছাড়াও বিদ্যালয়গুলিতে আসবাবপত্র, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনেরও অপ্রতুলতা রহিয়াছে। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যান হইতে জানা যায়, গ্রামীণ পর্যায়েই এইসকল সমস্যা বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া বলবত্ থাকিতেছে। অথচ প্রতিটি উপজেলাতেই এই সকল সমস্যা দেখভালের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা আছেন, আছেন নির্বাহী কর্মকর্তাসহ শিক্ষা-সংশ্লি­ষ্ট কর্মকর্তাও। এতদসত্ত্বেও বিদ্যালয়সমূহের দৈন্যদশা কেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইতেছে—তাহা আমাদের বোধগম্য নহে।

বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, শিক্ষার প্রতি বর্তমান সরকার যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়া থাকেন। ফলে বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি পাইয়া প্রায় ৯৮ শতাংশে পৌঁছাইয়াছে। এমনকি প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান এমনকি চীনকেও ছাড়াইয়া গিয়াছে। সুতরাং এই সফলতা ধরিয়া রাখিতে অনুকূল পরিবেশে পাঠদানের নিমিত্ত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। সুতরাং সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হইলেও পরিত্যক্ত ভবনগুলি নূতন করিয়া নির্মাণের কোনো বিকল্প নাই। আর তাহা যদি সম্ভব না হয়, তবে নূতন বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দ দিয়াই প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয় ভবনগুলির জরাজীর্ণতা দূর করা যাইতে পারে। এই ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন