‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ ও দ্বীপাঞ্চলের উন্নয়ন
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
সম্প্রতি আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে বিশেষত তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশের ফলে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হইয়াছে। ইহাতে বাংলাদেশে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই কমিয়া আসিতেছে। বেসরকারি খাত বিকাশের কারণে মানসম্পন্ন শিক্ষা-দীক্ষা ও চিকিত্সা সুবিধাও এখন আসিয়া গিয়াছে হাতের নাগালে। এইভাবে বেশিরভাগ গ্রাম বদলাইতে শুরু করিলেও কিছু কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চল রহিয়াছে, যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া আজও লাগে নাই। দুর্গম পথ ও অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেখানে ঠিতমতো পৌঁছে নাই শিক্ষার আলো। এইসকল অঞ্চলের মধ্যে চরাঞ্চল, হাওরাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল অন্যতম। চরাঞ্চল ও হাওরাঞ্চলের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচি আছে। কিন্তু দ্বীপাঞ্চল বরাবরই উপেক্ষিত ও অবহেলিত। আশার কথা হইল, সরকার গত বত্সর এপ্রিলে কক্সবাজারের মহেশখালীতে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ নামে যে প্রকল্প গ্রহণ করে, তাহা এখন অনেকটাই দৃশ্যমান হইতে শুরু করিয়াছে।  মহেশখালী লবণ উত্পাদন ও বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছের জন্য বিখ্যাত হইলেও এখানে শিক্ষা ও চিকিত্সাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিতে এখন এই সমস্যা দূর হইতে শুরু করিয়াছে। এখানকার লোকসংখ্যা তিন লক্ষ ২০ হাজার। মূল জনপদ হইতে ইহা ১৪ মাইল দূরে অবস্থিত। কিন্তু ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পের আওতায় এখানে ই-কমার্স কেন্দ্র স্থাপন ও হাইস্পিড ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সুযোগ-সুবিধা সমপ্রসারিত হওয়ায় এখানকার অধিবাসীরা প্রভূত উপকৃত হইতেছেন। তাহারা যেমন ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাসপাতালের প্রসিদ্ধ চিকিত্সকদের নিকট হইতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চিকিত্সা পরামর্শ নিতে পারিতেছেন, তেমনি শিক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে নামকরা শিক্ষকদের নিকট হইতে শিক্ষাও গ্রহণ করিতে পারিতেছেন। এখানকার তরুণরা এখন চাকুরির জন্য আবেদন করিতেছে অনলাইনে। ব্যবসায়ীরা তাহাদের দূর-দূরান্তের ক্রেতাদের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করিতেছে অনায়াসেই।

মহেশখালী আমাদের মূল্যবান সম্পদ। ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পের মাধ্যমে এখানকার সম্ভাবনার দ্বার খুলিয়া গিয়াছে। আমরা আশা করি, মহেশখালীর উন্নয়নের এই মডেল বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত অন্যান্য দ্বীপাঞ্চলেও একদিন সমানভাবে ছড়াইয়া পড়িবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা এশিয়া প্রশান্ত অঞ্চলবিষয়ক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটে এই সম্পর্কিত এক নিবন্ধে লিখিয়াছেন যে, খুব শীঘ্রই মহেশখালীতে সমুদ্রবন্দর ও কয়েকটি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হইবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করা সম্ভব নহে। আর সমুদ্রবন্দর হইলে দ্বীপটিতে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ শুরু হইবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনেরই অংশ ডিজিটাল আইল্যান্ড। এইক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি সাধুবাদযোগ্য। নূতনভাবে ফোরজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির সমপ্রসারণই শুধু নহে, বর্তমানে আট কোটি তথা মোট জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষই ইন্টারনেট ব্যবহার করিতেছেন। মোবাইল ব্যবহার করিতেছেন ১৪ কোটি ৫০ লক্ষ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অনলাইন কর্মী সরবরাহে ভারতের পরই দ্বিতীয় অবস্থানে রহিয়াছে বাংলাদেশ। সুতরাং তথ্য-প্রযুক্তির এই সামগ্রিক উন্নয়ন হইতে দ্বীপাঞ্চল বা অন্য যেকোনো অঞ্চল কেন পিছাইয়া থাকিবে? ইহার মাধ্যমে আমাদের সহিত দ্বীপাঞ্চলের দুর্গমতাই শুধু ঘুচিবে না, পৃথিবীকেও তাহারা পাইয়া যাইবে হাতের মুঠোয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন