খাদ্যে ভেজালকারীদের সহিত আপস নহে
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

একটি দেশ যখন সম্মুখে আগাইয়া যায়, তখন তাহারা কয়েকটি ক্ষেত্রে মানরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ইহার মধ্যে অন্যতম হইল শিক্ষা। কিন্তু ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁসের কারণে বাংলাদেশের শিক্ষাখাত কণ্টকিত। তবে বহুদিন ধরিয়াই যেই খাতটি পুরা জাতিকে বিপদগ্রস্ত করিয়া তুলিয়াছে, তাহা হইল খাদ্যনিরাপত্তা। যেই দেশ উন্নতির ধারায় রহিবে, তাহাকে এই কয়েকটি ক্ষেত্রে সুরক্ষা দিতেই হইবে। শিক্ষার মান রক্ষা করিতে হইবে, আমানতকারী সাধারণ মানুষের অর্থের নিরাপত্তা দিতে হইবে। আর খাদ্যে ভেজাল থাকা চলিবে না। কিন্তু বাংলাদেশের খাদ্যে ভেজাল রোধ করা যাইতেছে না। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহের পর তাহা নিয়মিত পরীক্ষা করিয়া আসিতেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। ২০১৭ সালের পুরা সময় জুড়িয়া ৬ হাজার ৪৭টি নমুনা সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। ইহার মধ্যে ৫ হাজার ১৪৬টি নমুনা জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। তন্মধ্যে ১ হাজার ৩৩৫টি নমুনায়ই ভেজাল পাওয়া গিয়াছে। কিছু পণ্যের আবার শতভাগই ভেজাল। ইহার মধ্যে রহিয়াছে জ্যাম-জেলি, দই, মিষ্টি ও ডালডা ইত্যাদি। সেমাই, সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপণ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ নমুনাতেও ভেজাল পাওয়া গিয়াছে।  

নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তায় আইন পূর্বেই হইয়াছে। ২০১৫ সালে গঠন করা হইয়াছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ভেজালবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাও তাহাদের দায়িত্বের অন্তর্গত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভেজালবিরোধী অভিযান তো আছেই। তাহার পরও খাদ্যে ভেজাল যেন অপ্রতিরোধ্য এক বিষয়। অসাধু ব্যবসায়ীর অসাধুতা চলমান। ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের অ্যালার্জি হইতে শুরু করিয়া ক্যান্সারের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাইতেছে। গ্যাস্ট্রিক আলসারের পাশাপাশি কিডনি রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাইতেছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা তাহাদের অপরাধ ঘটাইয়া যাইতেছে। খাদ্য অনিরাপদ থাকিয়া যাইতেছে। পুরা জাতি ক্রমশ অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়িতেছে। হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলিতে অসুস্থ মানুষের ভিড়।

সুখাদ্য না খাইলে জাতির বিকাশ হইবে কী করিয়া? মেধা-মননে কি এই দেশের মানুষ খর্ব হইয়া থাকিবে? বর্তমান প্রজন্ম কি হাসপাতালে হাসপাতালে দৌড়াইয়াই জীবন নিঃশেষ করিবে? আগামী প্রজন্ম কি বিকলাঙ্গ হইয়া জন্মাইবে? ইহার কি কোনো প্রতিকার নাই? কর্তৃপক্ষের উদ্যোগগুলি যে কোনো কাজে আসিতেছে না ইহা নিশ্চিত। সবচাইতে ভালো হইত যদি খাদ্য উত্পাদন ও বিপণনকারীবৃন্দ হঠাত্ সত্ মানুষ হইয়া যাইতেন। লাভের হিসাব একটু কম করিয়া পণ্যের মানের ব্যাপারে মনোযোগী হইতেন। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের সততার গড় মান নিম্নমুখী। অগত্যা আমাদের সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরদারির উপরই নির্ভর করিতে হইবে। আইন তো রহিয়াছে, তাহার প্রয়োগ ঠিকঠাকমতো হইতেছে না। আবার অসাধু ব্যবসায়ীদের সমাজে ব্যাপক প্রভাব, তাহারা যেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। অনেক ক্ষেত্রে তাহাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ঘনিষ্ঠ হইয়া থাকে। তাই অপরাধ করিয়াও তাহারা প্রায়ই পার পাইয়া যান। কিন্তু খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক অপরাধ। কোনো উন্নত ও সভ্য দেশেই খাদ্যে ভেজাল মেশানো সহ্য করা হয় না। আমরা উন্নত ও সভ্য হইবার সংগ্রামে রহিয়াছি। সেই সংগ্রামে পরাস্ত হওয়া চলিবে না।           

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন