এই দুর্ঘটনা কি অনিবার্য ছিল?
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
প্রথমে বিস্ফোরণ। মুহূর্তেই আগুন ছড়াইয়া পড়ে চারতলা ভবনের নিচতলার বদ্ধ কক্ষটিতে। সাত মাসের শিশুসন্তানকে লইয়া এই কক্ষটিতেই থাকিতেন ভবনটির কেয়ারটেকার মানিক। নিজেদের চেষ্টায় ও ফায়ারব্রিগেডের সহায়তায় সেই অগ্নিকুণ্ড হইতে পরিবারটি যখন উদ্ধারপ্রাপ্ত হন, ততক্ষণে তাহাদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশই দগ্ধ হইয়া গিয়াছে। দগ্ধ তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই শিশু তামিমকে মৃত ঘোষণা করিয়াছিলেন চিকিত্সক। চিকিত্সাধীন অবস্থায় প্রথমে মানিকের স্ত্রী মীনা খাতুন এবং পরে মানিক নিজেও মৃত্যুর কোলে ঢলিয়া পড়েন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটিয়াছে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বরে। ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটিয়াছে তাহা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলিয়াছেন, গ্যাসের সংযোগ লাইনে ছিদ্র থাকার কারণে বিস্ফোরণ ঘটিতে পারে। তবে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জরুরি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক বলিয়াছেন যে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসলাইনে ছিদ্র থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় নাই। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হইবার পর মানিক সাংবাদিকদের জানাইয়াছিলেন যে রিজার্ভারে পানি ভরার জন্য মোটরের সুইচ অন করিয়া তিনি যখন ঢাকনা খুলিয়া দেখার চেষ্টা করিতেছিলেন তখনই ওই বিস্ফোরণ ঘটে। জানা যায়, ছয়-সাত মাস আগেও ওই ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হইয়াছে। সঙ্গত কারণেই ভবন মালিকের অবহেলাকেই উপর্যুপরি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলিয়া স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন। 

ময়মনসিংহের নান্দাইলের চণ্ডিপাশা গ্রামের মানিক ঢাকায় আসিয়াছিলেন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। মাত্র তিন মাস আগে সাতমাসের শিশুসন্তানসহ স্বামীর নিকট চলিয়া আসিয়াছিলেন তাহার স্ত্রী মীনাও। কিন্তু পরিবারটির স্বপ্ন শুধু নয়, জীবনটাও কাড়িয়া নিয়াছে ব্যক্তিবিশেষের দায়িত্বহীনতা ও অসাবধানতার আগুন। প্রায়শই এই ধরনের ট্র্যাজিক ঘটনার খবর পাওয়া যাইতেছে। তদন্তে দেখা গিয়াছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জরাজীর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ গ্যাসলাইনের লিকেজ কিংবা নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডারই এই ধরনের বিস্ফোরণজনিত অগ্নিদুর্ঘটনার জন্য দায়ী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেপটিক ট্যাংকে জমিয়া থাকা গ্যাসের কারণেও বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গিয়াছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সচেতনতা। গ্যাসলাইনের ত্রুটি সারানোর দায়িত্ব অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু ইহাও অনস্বীকার্য যে, তাহাদের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়া গ্যাসলাইন কিংবা গ্যাসের চুলার ত্রুটি চিহ্নিত করা সম্ভব নহে। এই ক্ষেত্রে ভবনমালিক এবং ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদেরই উদ্যোগী হইতে হইবে। আমাদের দুর্ভাগ্য হইল, বড় ধরনের দুর্ঘটনার আগে কাহারো বোধোদয় হয় না। আর মিরপুরের দুর্ঘটনাটিতে দেখা যাইতেছে যে, ছয়মাস আগে একটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সত্ত্বেও যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। কেন নেওয়া হয় নাই তাহা অবশ্যই তদন্ত করিয়া দেখা দরকার এবং সেই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা দরকার কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন