মাদকের প্রশ্নে কোনো আপস নহে
০৪ জুন, ২০১৮ ইং
কক্সবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনা লইয়া তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলিতেছে। চলমান অভিযানের প্রতি বিপুল জনসমর্থন সত্ত্বেও এই আলোচনা-সমালোচনার মূলে রহিয়াছে নানা মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত একটি অডিও। নিহত একরাম দোষী না নির্দোষ— সেই তর্কে না গিয়াও বলা যায় যে, এই মৃত্যু মর্মস্পর্শী ও দুঃখজনক এবং জনমনে যে মানবিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইয়াছে তাহাও অস্বাভাবিক নহে। অবশ্যই ইহার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। যদি কোনো অন্যায় কিংবা দুরভিসন্ধিমূলক কিছু ঘটিয়া থাকে তাহার বিচার হওয়া উচিত নিরপেক্ষভাবে। স্বস্তির বিষয় হইল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলিয়াছেন যে, ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত চলিতেছে। তদন্তে নিহত একরাম নিরপরাধ প্রমাণিত হইলে এবং কোনো প্রকার অস্বচ্ছতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হইবে। সেই সঙ্গে তিনি এই প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করিয়াছেন যে, মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলিবে। কারণ যুবসমাজকে বাঁচাইতে হইবে। বর্তমান জটিল প্রেক্ষাপটে— যখন মাদকবিরোধী অভিযানকে থামাইয়া দিবার জন্য নানামুখী তত্পরতা চলমান— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাটি খুব তাত্পর্যবহ বলিয়া আমরা মনে করি।

এমন মৃত্যু কাম্য নহে—তাহা লইয়া দ্বিমত নাই। কিন্তু প্রতিকার কী? প্রশ্নটি ছোট, কিন্তু ইহার ব্যঞ্জনা বিশাল। কারণ মাদকের আগ্রাসন যেই পর্যায়ে পৌঁছিয়াছে তাহাতে রাষ্ট্র তো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করিতে পারে না। সকলের চোখের সম্মুখে একটি প্রজন্ম ধ্বংস হইয়া যাইতেছে। নীরবে নিভৃতে তাহার কুফল ভোগ করিতেছে অসংখ্য পরিবার। সেই সঙ্গে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলিয়া দেওয়া হইতেছে গোটা সমাজকে। সর্বগ্রাসী মাদক বাণিজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দিন দিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করিতেছে অপরাধ প্রবণতা। কিশোর-তরুণরাই যে ইহার মূল ভিকটিমে পরিণত হইতেছে তাহাও সুবিদিত। সব চাইতে আতঙ্কের বিষয় হইল, মাদক-বাণিজ্যের মাধ্যমে গোপনে সারা দেশে যে বিশাল অঙ্কের টাকার হাতবদল হইতেছে সেই টাকা কাহারা কোথায় কী কাজে ব্যবহার করিবে বা করিতেছে— তাহা লইয়া রাষ্ট্রের একটা কনসার্ন বা উদ্বেগ তো অবশ্যই রহিয়াছে। আর বর্তমান বাস্তবতায় এই উদ্বেগ মোটেও অমূলক নহে। পরিহাসের বিষয় হইল, যাহারা প্রায়শ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও প্রতিকারহীনতার কথা বলেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিপক্ষে সরকার কেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করিতেছে না— তাহা লইয়া সমালোচনার ঝড় তোলেন তাহারাই এখন ভিন্ন সুরে কথা বলিতেছেন। কিন্তু মাদকের আগ্রাসন রোধে সরকারের কী করা উচিত সেই ব্যাপারে তাহারা নীরব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করিয়াছেন যে, মাদকবিরোধী অভিযানে কেহ নিহত বা আহত হউক— ইহা তাহাদের কাম্য নহে। কিন্তু বন্দুকযুদ্ধে যাহারা নিহত হইতেছে, তাহাদের কিছুতেই ‘কন্ট্রোল’ করা যাইতেছিল না। যত অপ্রিয়ই হউক, এই বাস্তবতা অস্বীকার করা কঠিন। ইহা সুবিদিত যে, মাদকের আগ্রাসন ইতোমধ্যেই অনিরাময়যোগ্য হইয়া উঠিয়াছে। কোনো হুঁশিয়ারি কিংবা সুবচনেই কাজ হইতেছে না। মাদকের কারবারীরা কদাচিত্ ধরা পড়িলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়া অচিরেই সদর্পে বাহির হইয়া আবারো একই কাজে লিপ্ত হইতেছে। মাদকের মূলোত্পাটন যে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ—তাহা আন্তর্জাতিকভাবেই স্বীকৃত। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে তাহা নিঃসন্দেহে আরও কঠিন। কারণ মাদক-বাণিজ্যের শিকড়বাকড় প্রশাসন ও রাজনীতির অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে প্রায়শ অপরাধীদের ‘কন্ট্রোল’ করা কঠিন হইয়া পড়ে। ভূমি দখল ও খাদ্যে ভেজাল হইতে শুরু করিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রে এই কথা প্রযোজ্য। অতএব, যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, মাদকবিরোধী অভিযান হইতে পিছপা হওয়া যাইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন