মন্দির আক্রমণে আক্রান্ত হয় দেশের ভাবমূর্তি
০৪ জুন, ২০১৮ ইং
একটি দেশের সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের নিকট যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপদ না থাকে, তাহার অধিক লজ্জার আর কিছু নাই। একটি দেশ কতখানি সভ্য ও উন্নত মানসিকতার তাহা অনুধাবন করা যায় ওই দেশের ভিন্ন ভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ কতখানি নিরাপদ ও ভালো আছে—তাহার উপর। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলিয়া মিশিয়া শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকিবার হাজার বত্সরের সংস্কৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। কিন্তু সেই গৌরবের সংস্কৃতিতে কালিমা লেপনের ঘটনা আজকাল প্রায়শই ঘটিতে দেখা যাইতেছে। মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের ঘটনা কিছুদিন পরপরই পত্রিকার পাতায় ঠাঁই পায়। সর্বশেষ গত বুধবার বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাতের আঁঁধারে পেট্রোল ঢালিয়া বিষ্ণু মন্দিরে আগুন ধরাইয়া দিয়াছে কতিপয় দুর্বৃত্ত। এই ঘটনার একদিন পর গত বৃহস্পতিবার পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার সিন্দুরিয়া গ্রামে একটি মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়াছে। দুর্বৃত্তরা মন্দিরে থাকা নারায়ণের শিলা দুইটি দামি পাথর মনে করিয়া চুরি করিয়াছে এবং অন্য দুইটি প্রতিমা ভাঙচুর করিয়াছে।

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মন্দিরে আক্রমণের ঘটনায় আমরা বারংবার উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছি। আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে ন্যূনতম ঔদাসীন্য যাহাতে দেখানো না হয়, সেই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষ নজর রাখিবার কথা বলিয়াছি। আমরা দেখিয়াছি, এই ধরনের দুর্বৃত্তায়নের ঘটনা অধিকাংশই ঘটিয়াছে সেই সকল অঞ্চলে যেইখানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথেষ্ট দৃঢ়তার সহিত দায়িত্ব পালন করে নাই। অন্যদিকে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র, সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তিহীন। দেখা যায় যে, বিভিন্ন মন্দিরে আক্রমণ চালাইয়া অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুর করিবার ঘটনাগুলি ঘটিয়া থাকে রাতের অন্ধকারে। তাহার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত জনগোষ্ঠী দুর্বৃত্তদের সম্পর্কে পুলিশকে বিশেষ কিছু জানাইতে পারে না। পরিতাপের সহিত বলিতে হয়, অসামপ্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হইয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হইলেও সামপ্রদায়িকতা এখন পর্যন্ত এই দেশ হইতে দূর হয় নাই। বরং বিভিন্ন নাজুক পরিস্থিতিতে সামপ্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিয়া উঠিয়াছে।

সামপ্রদায়িকতা ব্যতীত সংখ্যালঘু নির্যাতনের আরেকটি দিকও রহিয়াছে। তাহা হইল দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার। অথবা বলপ্রয়োগ করিয়া দুর্বলের সম্পদ দখল। এইসকল নির্যাতনের মাধ্যমে যদি সংখ্যালঘু মনে ভীতির সঞ্চার করা যায়, তাহাতে যদি মানুষগুলি ভিটেমাটি ত্যাগ করিয়া অন্যত্র পলায়ন করে, তবে তাহার সম্পত্তি গ্রাস করিতে সুবিধা হয় বটে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মাধ্যমেই এইসকল অপকর্ম ঘটিয়া থাকে। নানা কারণে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় তাহাদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করিতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা সমাজে মানুষে-মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করিয়া থাকে। বহির্বিশ্বেও নেতিবাচক বার্তা যায়। বাংলাদেশে সকল ধর্ম-বর্ণ-সমপ্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানের যেই ঐতিহ্য, সহনশীল পরিবেশে সকলের নিরাপদ জীবনযাপনের যেই অঙ্গীকার— তাহা যেকোনো প্রকারে রক্ষা করিতে হইবে। এই গুরুদায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর। প্রয়োজনে ইহার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন