জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন
২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং

হতদরিদ্র ও দুস্থ জনগণের মাঝে চাল বিতরণের জন্য সরকারের রহিয়াছে ভিজিএফ কর্মসূচি। তালিকাভুক্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিকট এই চাল বিতরণের দায়িত্ব পাইয়া থাকেন বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা; কিন্তু যদি সেই জনপ্রতিনিধিরাই দরিদ্রের চাল আত্মসাত্ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে ইহা এক অমার্জনীয় অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হইতে পারে। এইরূপ কতক অপরাধীর সন্ধান মিলিয়াছে সম্প্রতি। চাল বিতরণে পাওয়া গিয়াছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর। বিভিন্ন স্থানে চাল আত্মসাত্ করিয়া কালোবাজারে বিক্রি, পাচারের চেষ্টা, ওজনে কম দেওয়া, ভুয়া কার্ড তৈরি, স্লিপ বিক্রি, প্রকৃত দরিদ্রদের না দিয়া অন্যদের মধ্যে বিতরণের অভিযোগ উঠিয়াছে কতিপয় জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। চাল আত্মসাতের অভিযোগে ঈদের পূর্বেই দিনাজপুর পৌরসভার মেয়রকে আটক করিয়াছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা পৌরভবন হইতে ট্রাক বোঝাই করিয়া পাচারকালে ৩২৫৬ কেজি চাল জব্দ করা হইয়াছে। এই ঘটনায় পৌর মেয়রের অপসারণ চাহিয়া বিক্ষোভ করিয়াছেন দুস্থরা। ইহা ছাড়া জামালপুরের বকশীগঞ্জে ৭৮ বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় একজন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হইয়াছে। অনুরূপ ঘটনা ঘটিয়াছে জামালপুরের মেলান্দহে, টাঙ্গাইলের বাসাইলে, রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এবং কুড়িগ্রামের রৌমারিসহ আরও কিছু স্থানে।

রক্ষক ভক্ষকে পরিণত—এইরূপ জুতসই উদাহরণ আর পাওয়া যাইবে কিনা সন্দেহ। দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গার উদাহরণ বর্ণনা করাই এইক্ষেত্রে যথেষ্ট হইবে। দিনাজপুরে পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে প্রতি ব্যাগে ২০ কেজির পরিবর্তে ১৮.৪০ কেজি চাল বিতরণ করা হইয়াছে। চুয়াডাঙ্গায় রাত ১০টার দিকে চালবোঝাই একটি মিনি ট্রাক চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা কার্যালয়ের ভিতর হইতে প্রধান প্রবেশদ্বার অতিক্রম করিয়া রাস্তায় উঠিতে দেখিয়া জনগণের সন্দেহ হয়। লোকজন দ্রুত একত্রিত হইয়া ট্রাকটি আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ভিজিএফের চাল পাচারের ঘটনার বিচার দাবি করিয়া রাত্রেই ছাত্র-জনতা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরদিন দুস্থ নারীরা ঘটনার প্রতিবাদ জানাইয়া বিক্ষোভ করেন। ইহা ছাড়া জনগণ পৌরসভার মেয়রের অপসারণ ও বিচার দাবি করিয়া জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঈদের প্রাক্কালে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটাইবার জন্য সরকার চাল বিতরণের উদ্যোগ নিয়াছে, যাহা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়; কিন্তু সামান্য প্রাপ্তি হইতে অসামান্য খুশি হইয়া থাকে যেই দরিদ্র মানুষ, তাহাদের হাসিটুকু আগাম হরণ করিতে বিবেকে একটুও বাধে নাই সেই পাপিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিদের, যাহাদের অনেকের এমনিতেই অঢেল সম্পত্তি রহিয়াছে। এই সকল ঘটনা প্রমাণ করে, দরিদ্রের প্রাপ্য হরণ করিয়াই তাহারা ধনী হইতেছেন। তাহাদের জনপ্রতিনিধি হইয়া উঠিবার পিছনে বহু দরিদ্রের প্রাপ্য আত্মসাত্ করিবার লোভ ও হীন মানসিকতাই মূলত প্রধান হইয়া ওঠে। কতিপয় ব্যক্তির এমন অনৈতিক আচরণ রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের অনাস্থা ও ঘৃণাবোধ তৈরি করিতেছে। তাই জড়িত ব্যক্তিবর্গের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তাহারা জনপ্রতিনিধি নন, ঘৃণ্য অপরাধী। এই অপরাধের শাস্তি তাহাদের পাইতে হইবে। তাই তাহাদের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনিয়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন, যাহাতে ভবিষ্যতের জনপ্রতিনিধিগণ, তাহাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হইতে পারেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন