আমেরিকা-চীন দ্বন্দ্ব ও বৈশ্বিক পরিবর্তন
২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বেগ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাইতেছে। আসন্ন দিনগুলিতে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থামিয়া যাইবার তেমন কোনো লক্ষণও এখন অবধি দেখা যাইতেছে না। বিশেষ করিয়া, ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হইবার পর হইতে দুই দেশের সম্পর্কের দ্রুত অবনতির কারণে একুশ শতকের বিশ্ব পরিস্থিতি বিষয়ে ঘোরতর অনিশ্চয়তায় পড়িয়াছেন অনেক পর্যবেক্ষক। চলতি শতকের শুরুতে, বিশেষ করিয়া ২০০১ সালে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় চীনের অন্তর্ভুক্তি দেখিয়া যাঁহারা এই দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়িয়া উঠিবার ইঙ্গিত পাইয়াছিলেন, তাহারা ইতোমধ্যেই ভুল প্রমাণিত হইয়াছেন।

বর্তমানে, একদিকে, কমিউনিজমের নামে একদলীয় ব্যবস্থাধীন চীন বিশ্বায়নের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করিয়া প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী চীনা-পুঁজির বিস্তার ও বাজার অর্থনীতির সম্প্রসারণ করিতেছে। পক্ষান্তরে, পুঁজিবাদী দুনিয়ার এতদিনকার নেতৃত্বে থাকা আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে অর্থনীতির ক্ষেত্রে শুরু হইয়াছে একধরনের উগ্র জাতীয়তবাদী মানসিকতার প্রতিফলন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বলিয়া ট্রাম্প প্রকারান্তরে বিশ্বায়নের বিপরীতেই অবস্থান লইতেছেন। ট্রাম্পের নীতির ফলে আমেরিকার সহিত বাকি দুনিয়ার একধরনের বিচ্ছিন্নতা দেখা দিতেছে। ট্রাম্পের নীতি প্রকারান্তরে অর্থনীতিতে প্রচণ্ডভাবে শক্তিশালী অবস্থায় থাকা চীনের জন্য বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করিবার সুযোগ আনিয়া দিয়াছে। চীনের শিল্প ও প্রযুক্তিগত প্রসার এককথায় বিস্ময়কর; বিশ্ববাণিজ্যে দেশটির প্রভাব ক্রমসম্প্রসারণশীল। পক্ষান্তরে, আমেরিকার চিত্রটি ভিন্ন। বিশ্বজুড়িয়া দেশটির একক প্রাধান্য ক্রমহ্রাসমান, দেশের ভিতরে অবকাঠামো ও শিক্ষাব্যবস্থার ভিত ক্রমশ দুর্বল হইতেছে; বিশ্ববাণিজ্যে দেশটির অংশীদারিত্ব হ্রাস পাইতেছে। ইহা ব্যতীত, ট্রাম্পের বিভাজনের রাজনীতি আমেরিকার জাতীয় সংহতি ও জাতীয় শক্তির উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলিতেছে। পক্ষান্তরে, শি জিনপিং জাতীয় শক্তি ও জাতীয় সমৃদ্ধির উপরে ভর করিয়া সারা বিশ্বে আমেরিকার বিকল্প হিসাবে চীনকে দাঁড় করাইবার জন্য অর্থনৈতিক সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করিতেছেন। চীনের বিপুল সামরিক ব্যয়ের পিছনেও যুগপত্ আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করিবার ও আমেরিকা কর্তৃক আক্রান্ত হইবার ভীতি কাজ করিতেছে।

চীন যে বর্তমানে নানাদিক হইতে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে তাহাতে সন্দেহ নাই। তবে একুশ শতক চীনের শতক হইয়া উঠিবে কিনা সেই ব্যাপারে নানাদিকে চিন্তার অবকাশ আছে। ইতিহাসের সাক্ষ্যমতে, অনুগামী রাষ্ট্রগুলিকে বশীভূত রাখিবার জন্য অতীতের প্রধান পরাশক্তিগুলি কখনোই কেবল অর্থনৈতিক বা সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের উপরে নির্ভর করে নাই। উদাহরণস্বরূপ, উপনিবেশের বিস্তারের জন্য স্পেন ক্যাথলিক ধর্ম ও হিস্পানিক সংস্কৃতির বিস্তার করিয়াছে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন নিজ-নিজ উপনিবেশে যথাক্রমে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটাইয়াছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আমেরিকা মাঠে নামিয়াছে গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে আপ্তবাক্য হিসাবে ব্যবহার করিয়া। ইহা ব্যতীত, হলিউড, বাস্কেটবল-বেসবল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সারা দুনিয়াতে আমেরিকার মুখ ও মুখোশ হিসাবে ব্যবহূত হইয়াছে। চীনের নিকট তেমন কিছু রহিয়াছে কি? উত্তরটি এখন অবধি পরিষ্কার নহে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন