২০৩০:অনেক উন্নতদেশকেও ছাড়াইয়া যাইবে বাংলাদেশ
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বাড়িতেছে। উন্নতির স্বর্ণশিখরে পৌঁছাইতে দেশটির নেওয়া আগামী পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়িত হইলে এই দেশ হইবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের পর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ যেভাবে হাঁটিতেছে, তাহাতে ইহা স্পষ্ট যে, কেহই দেশটির অগ্রগতি রুখিতে পারিবে না। সম্ভবত সেই কারণেই এক অনন্য স্বীকৃিত দিয়াছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হংকং এন্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি)। সম্প্রতি সংস্থাটির গ্লোবাল রিসার্চ প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, ২০৩০ সাল নাগাদ যেইসব দেশের অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়িবে, সেই তালিকায় বাংলাদেশের নাম সবার উপরে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ বা বিগেস্ট রাইজার্স হিসাবে অভিহিত করিয়াছে সংস্থাটি। দেশগুলির জনশক্তির আকার, মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নেওয়া পদক্ষেপ, রাজনীতি, বাজার উন্মুক্তকরণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে কোন দেশ কতটা প্রাধান্য দিয়াছে তাহা বিবেচনায় লইয়াই এইচএসবিসি ঐ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করিয়াছে। ইহার সঙ্গে দেশগুলির মাথাপিছু জিডিপি, কর্মক্ষম জনশক্তি, মোবাইল ফোন ব্যবহার, স্কুলে অন্তর্ভুক্তি, মানব উন্নয়ন সূচক, রাজনৈতিক অধিকার ও বাণিজ্য উদারীকরণ পরিস্থিতি বিবেচনা করা হইয়াছে।

এইকথা অস্বীকার করিবার উপায় নাই যে, বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। উন্নয়নসহযোগী সংস্থাগুলি বরাবরই বাংলাদেশের উন্নয়নে বিস্ময় প্রকাশ করিয়াছে। অনেকেই ইহাকে ‘মিরাক্যল’ বলিয়া অভিহিত করিয়াছে। বিপুল জনগোষ্ঠী, সেই তুলনায় আয়তনের দিক হইতে ছোট এই দেশটি যেইভাবে আগাইয়া যাইতেছে তাহা সত্যি বিস্ময়কর বটে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের গতি, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে নেওয়া উন্নয়নের এই রোল মডেল বিশ্বে বোধ করি আর নাই। যুগের সহিত তাল মিলাইয়া প্রযুক্তিবিশ্বে বাংলাদেশের দ্রুত অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াইয়া চলার বিষয়টি অনেককেই অবাক করিয়াছে। সমাজের নিম্নস্তর পর্যন্ত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মানুষকে নূতন জীবন দিয়াছে। দরিদ্র একটি দেশের এত দ্রুত পরিবর্তনের ফলে আজ বিশ্বে অনেক সূচকেই বাংলাদেশের নাম অগ্রভাগে রহিয়াছে। সঙ্গতকারণেই এইচএসবিসি বলিয়াছে, উন্নত, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান ৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি সবচেয়ে বেশি হারে বাড়িবে। বর্তমানে জিডিপির আকারের হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৪২তম। এই অবস্থান ২০৩০ সালে উঠিয়া আসিবে ২৬তম স্থানে। অবাক হইবার কোনো কারণ থাকিবে না যে, আজ যাহারা বাংলাদেশের তুলনায় আগাইয়া রহিয়াছে সেই ফিলিপাইন কিংবা মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশকেই ছাড়াইয়া যাইবে বাংলাদেশ। শুধু অপেক্ষা করিতে হইবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।

উন্নয়নের পথে হাঁটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করিবার ফলেই বাংলাদেশের অভূতপূর্ব এই সাফল্য ধরা দিয়াছে। দেশটির রহিয়াছে বিপুল পরিমাণ কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী। এই কর্মক্ষম গোষ্ঠীকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করিয়া তুলিতে পারিলে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি দ্রুতই ঘরে তোলা যাইবে। কারণ, কৌশলগত ও ভৌগোলিক দিক হইতে বাংলাদেশ চমত্কার অবস্থানে রহিয়াছে। ভারত ও চীনের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের পার্শ্বে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ নানাভাবেই গুরুত্ববহন করিতেছে। তদুপরি, বিশ্বের ৬০ ভাগ ভোক্তার বাজার বাংলাদেশের আশেপাশে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ আর যুক্তরাষ্ট্র থাকিতেছে না। আগামীর এক নম্বর অর্থনীতির দেশে পরিণত হইবে এশিয়ার দেশ চীন। কাজেই বাংলাদেশ নিয়া এই ধরনের পূর্বাভাস খুবই যৌক্তিক। তথাপি, এইখানে ব্যবসা করার নিয়ম-কানুন আরো সহজতর করা, বন্দর, যোগাযোগ, জ্বালানি, নগরায়ণ প্রভৃতি সুবিধার সম্প্রসারণ জরুরি। শিক্ষার মান বাড়াইতে আরো বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণও সময়ের দাবি। তবেই সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হইবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন