আল্লাহ সুমতি দিন যাতে তারা গণহত্যা বন্ধ করে
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
ফারাজী আজমল হোসেন২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫ ইং
আল্লাহ সুমতি দিন যাতে তারা গণহত্যা বন্ধ করে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তথাকথিত আন্দোলনের নামে গাড়িতে পেট্রোল বোমা ও আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে গণহত্যা চালাচ্ছে। হরতাল-অবরোধ কার্যকর না হওয়ায় নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মেরে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা কোন রাজনীতি হতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড। কারো পক্ষেই তাদের এ ধরনের নির্মম ও নৃশংসতা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তারা তো খুনের দায়ে অভিযুক্ত।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দ্য সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনস বাংলাদেশ (এসপিএসবি) ৪ দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট নিরীহ, সাধারণ, খেটে খাওয়া মানুষের গায়ে আগুন দিচ্ছে। ট্রেন লাইনের ফিস প্লেট খুলে, ট্রেন ফেলে, অ্যাকসিডেন্ট ঘটিয়ে মানুষ মারা হচ্ছে। সিএনজি, রিকশা কোনো কিছু বাদ যাচ্ছে না। এমনকি লঞ্চেও আগুন দিচ্ছে। সম্প্রতি মুরগির বাচ্চা বোঝাই একটি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে পোড়ানো হচ্ছে। এটা সহ্য করা যায় না। পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মাধ্যমে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এটা খুব দুঃখের, খুব কষ্টের। এটা কোন ধরনের বীভত্সতা ও জুলুম? একটা মানুষ কীভাবে অন্য মানুষকে পুড়িয়ে মারছে? শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে অতীতে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল। তবে সেটা ছিল মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি। মানুষের একটু সুন্দর ও উন্নত জীবন দেওয়া, জনগণের সমস্যাগুলো দূর করা, এই তো রাজনীতির উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য কীভাবে হাসিল হবে যদি দেখি সেই সাধারণ মানুষকেই হত্যা করা হচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখছি বিএনপি-জামায়াত জোট অবরোধের সাথে হরতাল ডেকেছে, আর যখন তাদের এই কর্মসূচিতে  জনগণ সাড়া দিচ্ছে না তখন তারা ভীতি সৃষ্টির জন্য মানুষের গায়ে পেট্রোল বোমা মারছে। জনগণ তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, যারা আজ মানুষ পুড়িয়ে মারছে অন্তত আল্লাহ তাদের সুমতি দিন, এই কামনা করি। গত ৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভিতরে একটা শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখছে। তাহলে এই তাণ্ডব হঠাত্ করে কিসের জন্য? কার স্বার্থে? এটা ব্যক্তি স্বার্থে। আর কারো ব্যক্তি স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষ কেন কষ্ট ভোগ করবে? কেউ যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে তাহলে সেই ভুলের মাসুল কি দেশের সাধারণ মানুষ দিবে? জনগণ কেন দিবে? হরতালের জন্য বারবার এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা নষ্ট হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যত্ বংশধরদের জীবনটাকে ধ্বংস করে দিয়ে এটা কোন ধরনের আন্দোলন?

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যদি দেশ চালাতে ব্যর্থ হতাম তাহলে বুঝতাম তারা এজন্য সরকারের উত্খাতের আন্দোলন করছে। কিন্তু বাংলাদেশের কোথাও ব্যর্থতার কোন চিহ্ন নেই। বিশ্বব্যাপী মন্দা মোকাবেলা করে আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ ভাগ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে যে কয়টি দেশ উচ্চহারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভ ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের মূল্য স্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

আগুন লাগলে কি করণীয় এ বিষয়ে মানুষকে আরো সচেতন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক মানের একটি বার্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এতবেশি সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর পুড়ে যায়, আমাদের এজন্য আরো ডাক্তার প্রয়োজন। নার্স প্রয়োজন। এজন্য আমাদের একটা ইনস্টিটিউট করতে হবে। তিনি বলেন, আগামীতে প্রত্যেক জেলায় বার্ন ইউনিট করা হবে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো জায়গায় বার্ন ইউনিট করে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেক জেলায় আমরা বার্ন ইউনিট করে দিবো। উপজেলা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধদের চিকিত্সা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও অগ্নিদগ্ধদের আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বোচ্চ চিকিত্সা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। হরতাল-অবরোধের সহিংসতায় অগ্নিদগ্ধ ও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মালিকদের ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করতে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, এসপিএসবি’র সভাপতি ডা. সামন্ত লাল সেন, মহাসচিব মো. আবুল কালাম, সহ-সভাপতি ও সম্মেলন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অঞ্জন কুমার দেব।

মফস্বলেও চিকিত্সকদের আবাসন হবে

তৃণমূল পর্যায়ে অবস্থান নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যন্ত চিকিত্সকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি চিকিত্সকরা ঢাকাসহ বড় শহরের বাইরে যেতে চান না বলে বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করে থাকেন। মূলত আবাসনের জন্যই চিকিত্সকরা তৃণমূলে যেতে চান না। এ কারণে দেশের ইউনিয়ন পর্যন্ত আবাসন ব্যবস্থা করে দেব।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২২সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন