ব্যাটিং ধস ও ক্যাচ মিসের একটা দিন
ব্যাটিং ধস ও ক্যাচ মিসের একটা দিন
আগের দিন মুমিনুল হক বলছিলেন, এই উইকেটে তারা প্রথম ইনিংসে তিনশ রান করলেও লিড নিতে পারবেন।

উইকেটের চরিত্র বোঝাতে হালকা চালে বলা মুমিনুলের কথাটাকে মনে হয় তার সতীর্থরা খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। ফলে গতকাল বুধবার সকাল থেকে সেট হয়ে আউট হওয়ার এক সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে লাঞ্চের পরপরই বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে গেল মাত্র ৩৩২ রানে। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশি ফিল্ডারদের উদারতায় বারবার জীবন পেয়ে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা দারুণ রুখে দাঁড়িয়েছেন। গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলেছে তারা ২২৭ রান; সেঞ্চুরি করেও উইকেটে আছেন মোহাম্মদ হাফিজ। হাতে ৯ উইকেট নিয়ে পাকিস্তান পিছিয়ে আছে ১০৫ রানে।

খুলনা টেস্টের গতকাল দ্বিতীয় দিনটা প্রথম দিনের একেবারেই বিপরীত ছিলো। টিকিটের জন্য কোনো হাহাকার নেই, মাঠের বাইরে বিশেষ কোনো ভিড় নেই; গ্যালারি অর্ধেকেরও বেশি ফাঁকা হয়ে গেল দুপুরের আগেই। কারণ একটাই, এই টেস্টে সেভাবে লড়াইয়ে থাকতে পারেনি বাংলাদেশ দল।

৪ উইকেটে ২৩৬ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিলো মুশফিকুর রহিমের দল। উইকেটে ছিলেন সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া ব্যাট করার অপেক্ষায় ছিলেন মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, শুভাগত হোমের মতো স্বীকৃত তিন ব্যাটসম্যান। তারপরও মাত্র ৩০.১ ওভারে ৯৬ রান তুলতেই বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে ফেললো বাংলাদেশ। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ব্যাটসম্যানরা সকলেই সেট হয়ে আউট হলেন।

আগের দিন তামিম, ইমরুল, মাহমুদউল্লাহ যা করে গেছেন; গতকাল তাই করলেন সাকিব, মুশফিক, সৌম্য। সাকিব ২৫ ও সৌম্য ৩৩ রান করে দুর্দান্ত দুটো ক্যাচের শিকার হলেন। অবশ্যই সেই ক্যাচের আগে তাদের অমন হঠকারী শটের যৌক্তিকতা নিয়ে হাজারটা আলোচনা হতে পারে। ৩২ রান করে মুশফিকের প্রাকটিস করার ভঙ্গিতে ক্যাচ তুলে দেয়াটা সবচেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্য ছিলো।

এমনকি কারো স্কোরিং শট দেখেই মনে হলো না যে, মুমিনুল আগের দিন যেটা বলেছেন, উইকেট আসলেই রান তোলার জন্য এতোটা কঠিন।

পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের সময় সেটাকে তো আরো সোজা বলে মনে হলো।

পাকিস্তান শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছিলো। এর মধ্যে রিভিউ নিয়ে সামি আসলামকে ফেরালো বাংলাদেশ; কিন্তু আরেক রিভিউ নিয়ে মোহাম্মদ হাফিজ টিকে গেলেন। অন্য প্রান্তে দুই ক্যাচ পড়লো আজহার আলীর। আর এই আজহার ও হাফিজ কার্যত ছিটকেই দিলেন বাংলাদেশকে।

হাফিজ টানা তৃতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি করে ফেললেন। ফিফটি করে ফেললেন আজহারও। হাফিজ ১৩৭ রানের এক অসামান্য ইনিংস খেলে অপরাজিত আছেন। সঙ্গী আজহারের রান ৬৫।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন