পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচন
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে নির্বাচন
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে একেক ধরনের মত দিয়েছেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) বলেছে, সিটি নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য নয়। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন ছিল জালিয়াতপূর্ণ। গতকাল বুধবার বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এসব মন্তব্য করা হয়।

‘নির্বাচন অনিয়ম ও সহিংসতায় ভরপুর এবং বিশ্বাসযোগ্য নয়’ বলে মত দিয়েছে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি)। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আবদুল আলীম লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ব্যালট ছিনতাই করে সিল মারার ঘটনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কক্ষ দখল এবং নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। পর্যবেক্ষিত অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কার্যক্রমের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হলেও নানা ধরনের নির্বাচনী অনিয়মের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সার্বিক সততা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, অনিয়মের কারণে নির্বাচনটি বিশ্বাসযোগ্য মনে করা যায় না।

ইডব্লিউজির তথ্য অনুযায়ী, তাদের পর্যবেক্ষিত ৬১৯ কেন্দ্রের মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৫৫টি, দক্ষিণে ৪৬টি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৭টি কেন্দ্রে জোরপূর্বক ব্যালট পেপারে সিল মারার ঘটনা ঘটে। ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় ঢাকা উত্তরে ৩৩টি, দক্ষিণে ৩৯টি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩০টি কেন্দ্রে। এ ছাড়া সহিংসতার ঘটনা ঘটে ঢাকা উত্তরে ৬৬টি, দক্ষিণে ২৬টি ও চট্টগ্রামে ৭২টি কেন্দ্রে। সংবাদ সম্মেলনে ভোট কেন্দ  বন্ধ করে দেয়া, ভোট কেন্দে র ভেতরে গ্রেফতার, পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়াসহ নানা ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, এ ধরনের অনিয়ম ও সহিংস ঘটনা ব্যাপক ঘটনার অংশমাত্র। এসব ঘটনার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তিন সিটি করপোরেশনে যেসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা নির্বাচনী ফলকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোর সবগুলোই ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থীর এজেন্ট ও নিরাপত্তা বাহিনীর সামনেই ঘটেছে। এ সময় ইডব্লিউজির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, তালেয়া রহমান, কামরুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে তিন সিটি নির্বাচনকে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল প্রতারণায় ভরা। ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক, পোলিং অফিসাররা মিলে ব্যালটে সিল মারা এবং ভোট জালিয়াতি করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তিন সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। নির্বাচনে ‘কারচুপি, বিভিন্ন কেন্দে  গোলযোগ ও সহিংসতা, ভোট প্রদানে বাধা, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনৈতিক প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রনির্ভর নির্বাচন আয়োজনে’ নির্বাচন কমিশন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতায় হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে একথা জানান।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন