সৈনিকদের আবাসিক এলাকার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার ঢাকার সেনানিবাসে সৈনিকদের জন্য আবাসিক এলাকা উদ্বোধন করেন। এছাড়াও অফিসার, জেসিও ও সৈনিকদের জন্য একই এলাকায় থাকার আবাসিক এলাকাও উদ্বোধন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে সেনা সদস্যদের বাসস্থানের সমস্যা প্রায় সমাধানের পথে। বিশেষ করে বছরের পর বছর সৈনিকরা এক বেডে দুইজন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান করে আসছিলেন। অনেকের থাকার জায়গা না থাকায় বারান্দায় রাত যাপন করেছেন। সৈনিকরা মানবেতর জীবন কাটিয়েছিলেন বহু বছর। এ অবস্থার ফলে তাদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল থাকত দুর্বল। ঢাকা সেনিনিবাসের শহীদ মোস্তফা কামাল লাইন-এ সৈনিকদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক এলাকা ‘নিসর্গ’, ‘৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে’র নব নির্মিত আধুনিক অফিস ও সৈনিক লাইন, অফিসার, জেসিও ও সৈনিকদের জন্য নবনির্মিত নয়নাভিরাম ও আধুনিক আবাসিক এলাকা ‘নির্ঝর’ এবং সেনাপরিবার কল্যাণ সমিতির নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ‘সূর্যকন্যা’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সূর্যকন্যা ভবন উদ্বোধনকালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাপরিবার কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট তাহমিনা করিম।

এ আবাসিক ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সৈনিকদের দীর্ঘদিনের বাসস্থানের চরম দুরবস্থার অবসান ঘটল। আধুনিক দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে এসব আবাসিক ভবন ও ব্যারাক নির্মিত। আবাসিক এলাকার মধ্যে রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা। লেকের দুদিকে রয়েছে নান্দনিক পরিবেশ। সৈনিকদের শিশু সন্তানদের জন্য রয়েছে খেলাধুলার ব্যবস্থা। লেকের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ডিজাইনের ব্রিজ ও রেস্টুরেন্ট। সেনাপরিবার কল্যাণ সমিতির নবনির্মিত ভবনটি দেখার মতো, আধুনিক ডিজাইনে করা। আবাসিক এলাকায় রয়েছে বাংলা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কলেজ। প্রধানমন্ত্রী ওইসব স্থান ও এলাকা ঘুরে দেখেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল মো. আবদুল কাদির ও লগ এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমদ সিদ্দিক, নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান আরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং ঢাকা ও মিরপুর সেনানিবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সেনাবাহিনীর প্রধান স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা সর্বজনবিদিত। প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নির্দেশনা ও সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিপূর্ণ আস্থা রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামী প্রজন্মের উপযোগী একটি বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের অভ্যন্তরীণ যেকোনো আপত্কালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সেনাপ্রধান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন