আনন্দের দিনে বেদনার অশ্রু
সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত জিসান এসএসসিতে ভাল ফল করেছে
আনন্দের দিনে বেদনার অশ্রু
আমার আব্বা পাস করেছে। আজ আমাদের আনন্দের দিন। প্রতিবেশীদের মিষ্টি খাওয়ানোর দিন। সন্ত্রাসীরা জিসানকে হত্যা করে আমাদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

গোপালগঞ্জ শহরের এসএম মডেল স্কুলের মেধাবী ছাত্র আশিক ইসলাম জিসানের ফুফু আঞ্জু বেগম এ কথাগুলো বলে আহাজারি করেছেন। এ বছর জিসান এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৮ পেয়েছে। শনিবার ফল প্রকাশের পর তার ফুফুসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

এসএসসি পরীক্ষা শেষে গত ১২ এপ্রিল জিসান ঢাকায় তার বাবার কাছে বেড়াতে যায়। গত ১৩ মে ঢাকার ধানমন্ডি লেকের কাছে সন্ত্রাসীরা তাকে পিটিয়ে মারত্মক জখম করে। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন ১৪ মে জিসান সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ব্যাপারে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জিসানের ছোট ফুফু লাইজু বেগম জানান, জিসানের আড়াই বছর বয়সের সময় তার মা জেমিন বেগম জন্ডিসে রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জিসানের বাবা আজাহার মুন্সি ড্রইভিং পেশায় নিয়োজিত। বড় ফুফু আঞ্জু শহরের মিয়াপাড়া এতিমখানায় বাবুর্চির চাকরি করেন। চাকরির পাশাপাশি অনেক দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে বড় ফুফু আড়াই বছর বয়স থেকে জিসানকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। জিসানের মৃত্যুতে তার বড় ফুফু মুষড়ে পড়েছেন। এসএসসি পাসের খবর পাওয়ার পর শোক আরো বেড়ে গেছে। জিসান পিএসসি ও জেসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছে। এছাড়া প্রতিটি ক্লাসে তার ভালো রেজাল্ট ছিল। স্কুল ছুটি হলেই জিসানের বাবা তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে চাইত। কিন্তু তার বড় ফুফু তাকে ঢাকা যেতে দিত না। সারক্ষণ যক্ষের ধনের মতো আগলে রাখত। 

জিসানের সহপাঠী প্লাবন বণিক বলেন, জিসানের কোন শত্রু ছিল না। তারপও সে সন্ত্রাসী হামলায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। তার এ মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। তার খুনীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানাই।

গোপালগঞ্জ এসএম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র মন্ডল বলেন, জিসান আমাদের স্কুলের মেধাবী ছাত্র। সে সব শ্রেণিতেই ভালো রেজাল্ট করেছে। কিন্তু তার এমন পরিণতি হবে, এটা আমরা কল্পনাও করতে পরিনি।

লালপুরে বাঁধনের বাড়িতে বিশাদের ছায়া

লালপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বাশিদুর রহমান বাঁধনের পরীক্ষার ফল নিয়ে তার বাড়িতে পড়েছে বিশাদের ছায়া। সে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা স্কুল শিক্ষক বজলুর রহমান ও মা সাইমা খাতুনের বুক ফাটা কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। ফল প্রকাশের মাত্র এক সপ্তাহ আগে ২৩ মে দুপুরে ইলেক্ট্রিক মোটরের সাথে সংযুক্ত টিউবওয়েলে পানি তুলতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় বাঁধন।

গতকাল উপজেলার মোমিনপুর সরকার পাড়া গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বজলুর রহমান ও তার পরিবারের লোকদের সান্ব্তনা দিতে প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনদের ভিড়। কিছুতেই থামছে না বজলুর রহমান ও তার স্ত্রী’র বুক ফাটা কান্না।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন