এবারো ছেলেরা এগিয়ে
মাহবুব রনি৩১ মে, ২০১৫ ইং
এবারো ছেলেরা এগিয়ে
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হারে বরাবরের মত এবারো ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। অবশ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা সংখ্যায় কম ছিল। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৮টি সাধারণ বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডে ছেলেদের পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪১ এবং মেয়েদের পাসের হার ৮৬ দশমিক ৬৪। ১০টি বোর্ডে মোট এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন জিপিএ ৫  পেয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ হাজার ৩৭০ জন ছাত্র ও ৫১ হাজার ৫৩১ জন ছাত্রী।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করেছিল এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। ৫ম শ্রেণিতেই পাবলিক পরীক্ষার স্বাদ পাওয়া এ বর্ষের শিক্ষার্থীরাই ৫ বছর পর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ২০০৯ সালে (ইবতেদায়ী ছাড়া) পাস করেছিল ১৬ লাখ ২০ হাজার ৫৪ জন। পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাত লাখ ৫১ হাজার ৪৬৫ জন ছাত্র এবং আট লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৯ জন ছাত্রী। ছেলেদের পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৮৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন। এদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৭ লাখ ৬১ হাজার ৬৩০ জন ছেলের মধ্যে ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪ জন এবং ৭ লাখ ১১ হাজার ৯৬৪ জন মেয়ের মধ্যে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৪ জন পাস করেছে। 

আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ঢাকা, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুরে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীদের পাসের হার বেশি। ঢাকা বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৪৮ এবং ছাত্রীদের ৮৮ দশমিক ৮২, যশোরে ছাত্রদের ৮৩ দশমিক ৯৪ ও ছাত্রীদের ৮৪ দশমিক ১২, বরিশালে ছাত্রদের ৮৩ দশমিক ৯০ ও ছাত্রীদের ৮৪ দশমিক ৮৪, দিনাজপুরে ছাত্রদের ৮৫ দশমিক ৩৯ ও ছাত্রীদের ৮৫ দশমিক ৬২। এছাড়া কারিগরি বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৮২ দশমিক ২৫ ও ছাত্রীদের ৮৫ দশমিক ১৪।

অন্যদিকে রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বোর্ডে ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্রদের পাসের হার বেশি। রাজশাহী বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৯৪ দশমিক ৮৬ ও ছাত্রীদের ৯৫ দশমিক ৯, কুমিল্লায় ছাত্রদের ৮৬ দশমিক ১৪ ও ছাত্রীদের ৮২ দশমিক ৫৭, চট্টগ্রামে ছাত্রদের ৮৪ দশমিক ৬০ ও ছাত্রীদের ৮১ দশমিক ১১, সিলেটে ছাত্রদের ৮৩ দশমিক ২০ ও ছাত্রীদের ৮৪ দশমিক ৭০। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৯১ দশমিক ৬৬ ও ছাত্রীদের ৮৮ দশমিক ৬৩।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ও পাসের সংখ্যা বেশি থাকলেও এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত তা বজায় থাকছে না। এর বড় কারণ গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিবাহ ও অভিভাবকদের মধ্যে ছাত্রীদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে অনীহা এবং অসচেতনতা। প্রাথমিকে বিদ্যালয়গামী ও উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা গর্ব করার মত হলেও সেটি ধরে রাখতে এখনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেই।

এদিকে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এর আগে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা পিছিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে ৭৭ হাজার ৫৫১ ছাত্র ও ৬৪ হাজার ৭২৫ ছাত্রী, ২০১৩ সালে ৫২ হাজার ৩৯২ ছাত্র ও ৩৮ হাজার ৮৩৪ ছাত্রী এবং ২০১১ সালে ৪৫ হাজার ৮৬০ ছাত্র ও ৩০ হাজার ৮৮৯ ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছিল।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন