সবার সেরা শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ
বারেক কায়সার৩১ মে, ২০১৫ ইং
সবার সেরা শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ
আলো ঝলমলে সকাল। অস্থির কিছু চোখ। মায়াভরা মুখের ছড়াছড়ি। সবাই অপেক্ষায়। কখন ফল প্রকাশিত হবে। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ। বিদ্যালয়ের মূল ফটকে টাঙানো হলো পরীক্ষার ফল। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। হাসি-গানে মুখরিত হয়ে ওঠে স্কুলের আঙ্গিনা।

গতকাল শনিবার এমনই ছিল শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের চিত্র। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে রাজধানীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডে এই বিদ্যালয়টি এবার প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে ২০১৪ সালে সম্মিলিত মেধা তালিকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিলে নবম। এবার সেটা আট ধাপ এগিয়ে সবার সেরা হয়েছে।

এ বছর শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সবাই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৪০ জন সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছে। শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জনকারী এ স্কুলটির এর আগের সর্বোচ্চ সফলতা ছিল ২০১২ সালের এসএসসিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা।

শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা প্রথম হয়েছি। নিয়মিত পাঠদান ও তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার অবস্থা নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করার কারণেই ফলাফল ভালো হয়েছে।

তিনি জানান, ভালো ফলাফল করতে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা কাটাতে বেশি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলে সিলেবাস তৈরি করে সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। মূল্যায়ন করা হয় শিক্ষকদের শিক্ষাদান পদ্ধতি।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত জানায়, সে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা পড়ালেখা করতো। ভালো ফলাফলের পিছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অবদান রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী জাহিদ আলমের মা নাহার আলম বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য প্রাইভেট শিক্ষকের ওপর নির্ভর না করে বাড়িতেই ছেলের লেখাপড়ার দিকে লক্ষ রেখেছি। ছেলের ভালো ফলাফলে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

১৯৮৯ সালে মাত্র ২৫ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা করে শামসুল হক খান কিন্ডারগার্টেন। তারপর শামসুল হক খান স্কুল। সর্বশেষ শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। অতঃপর ২০১৫ সালে এসএসসিতে সেরা। বর্তমানে ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান জানান, ১৯৯৪ সালে নবম ও দশম শ্রেণির স্বীকৃতির পর থেকেই স্কুলটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করছে। গত বছরও শতভাগ পাস করেছে এখানে। ২০১২ সালে দ্বিতীয় সেরা হওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশা ছিল একদিন সবার সেরা হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন