বিচার বিভাগের সহাযোগিতা ছাড়া নির্বাহী বিভাগের কোনো কাজ কার্যকর করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ মে, ২০১৫ ইং
বিচার বিভাগের সহাযোগিতা ছাড়া নির্বাহী বিভাগের কোনো কাজ কার্যকর করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ একটি। আমরা (বিচারক) চাই অন্য দুটি অঙ্গের (আইন ও নির্বাহী বিভাগ) সঙ্গে মিলেমিশে ও সহযোগিতা করে চলতে। রাষ্ট্রের এই দুটো অঙ্গের অস্তিত্বকে আমরা কোনোভাবে অস্বীকার করছি না। এ দুটি প্রতিষ্ঠান যাই করুক না কেন, বিচার বিভাগের সহযোগিতা ছাড়া প্রশাসনিক বা নির্বাহী বিভাগের কোনো কাজ কার্যকর করা যাবে না। গতকাল শনিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ মহিলা জজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আপিল বিভাগের বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেলা জজ নুরুন নাহার ওসমানী।

প্রধান বিচারপতি বলেন, অপরাধ করলে পুলিশ প্রশাসন অপরাধের তদন্ত করে থাকে। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। চাইলে অপরাধীকে আজীবন জেলে রাখা যায় না। বিচার বিভাগ রায় দিলে সেটা কার্যকর করে নির্বাহী বিভাগ। একটার সঙ্গে আরেকটা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি আমাদের পরিবারের সদস্য। আপনি জানেন যে, আমাদের কাজ করতে হয় বেশ কিছু প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মর্যাদা রক্ষার্থে কিছু ন্যায্য দাবি রয়েছে বিচারকদের। আমি বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্যই এ দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলেছি। কোনো ব্যক্তিকে কোনো আঘাত করার জন্য কিছু বলিনি। বিচারকরা ট্রেড ইউনিয়নের মতো দাবি-দাওয়া নিয়ে হাজির হতে পারে না। তবে অনেক সময় নীরব থাকাও সম্ভব নয়। যখন একেবারেই অসম্ভব হয়ে যায়, একজনকে তো বলতেই হবে। আজকে এতজন বিচারক এই সভায় সংক্ষিপ্ত আকারে যে অভিযোগ করলেন, সে ধরনের অনেক বিচারকও তাদের নানা সমস্যা মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, উচ্চ পর্যায়ে পদ খালি হলে তা নিচ থেকে পূরণ করতে হবে। যেমন এ বছরের শেষ দিকে ১০ জন জেলা জজ অবসরে যাবেন। কিন্তু এর কোনো তথ্যভিত্তিক হিসাব নেই। কিন্তু জনপ্রশাসনে সব অফিসারের ডাটা আছে। যেটা বিচার বিভাগে নেই। আইন মন্ত্রণালয়ে নেই। অতিরিক্ত জেলা জজের যতগুলো পদ খালি আছে সেগুলো পূরণ করতে হবে। এসব পদ শূন্য রাখা যাবে না। জেলা জজের পদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সরকারের প্রতিটি সেক্টরে ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম আছে। পুলিশের এসআইদেরও ট্যাব দেয়া হয়েছে। আমাদের ১২৫টি ল্যাপটপ দিলো। সেগুলো মাঠ পর্যায়ের বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুধু বিচারক নয় মহিলা স্টাফদের জন্যও এ সুবিধা থাকবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে কার্যকর বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। মানসম্পন্ন বিচার বিভাগের অভিযাত্রায় আমাদের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জও কম নয়। কেবল মামলাজট নয়, বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকবল, অর্থ বরাদ্দ বা অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে না।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩১ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৪৪
এশা৮:০৭
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৯
পড়ুন