বত্রিশ হাজার রোহিঙ্গার স্থান হবে ঠেংগার চরে
গড়ে তোলা হবে হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি, আশ্রয় কেন্দ্র
বিশেষ প্রতিনিধি১৫ জুন, ২০১৫ ইং
বত্রিশ হাজার রোহিঙ্গার স্থান হবে ঠেংগার চরে
কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবির থেকে ৩২ হাজার রোহিংগাকে নোয়াখালীর ঠেংগার চরে স্থানান্তরের কাজ এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ওই এলাকা পরিদর্শন করে উদ্বাস্তু রোহিংগাদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। সেখানে একটি থানা প্রতিষ্ঠাসহ হাসপাতাল এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূলত পর্যটন শহর কক্সবাজারের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পূর্ণ জোয়ারের সময় এই চর কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সরকারের এ পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়িত হবে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এদিকে, গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের উদ্বাস্তু শিবিরে বাস করা মানুষদের ঠেংগার চরে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্তে রোহিংগাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশনারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপে এতগুলো মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা অনেকটা চ্যালেঞ্জের হবে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপির লোকজন ঠেংগার চরে গেলে সেখানকার বন কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন, জোয়ারের সময় চরটি তিন থেকে চার ফুট পানিতে তলিয়ে যায়।  আট বছর আগে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠে ঠেংগার চর। হাতিয়া থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ চরটি গুগল ম্যাপে এখনো দৃশ্যমান নয়। হাতিয়ার প্রশাসনের অধীনে থাকা এ চরে বর্ষাকালে যাওয়া দুরূহ ব্যাপার। বিশেষ করে প্রতিবছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সাগর উত্তাল থাকায় দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। হাতিয়া থেকে স্পিডবোটে এই দ্বীপে যেতে দুই ঘন্টা সময় লাগে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর সরকারি কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে দ্বীপটি জরিপ করে এসেছেন। এদের মধ্যে হাতিয়ার একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, কয়েক হাজার লোককে এখানে থাকার বন্দোবস্ত করা চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। কিন্তু হাসপাতাল, সাইক্লোন সেন্টার এবং বাঁধ নির্মাণ করে এটিকে বাসযোগ্য করা যায়। হাতিয়া পুলিশের কর্মকর্তা নূরুল হুদা এএফপিকে বলেন, রোহিংগাদের সরিয়ে আনার জন্য এটি আদর্শ জায়গা। তবে আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য এখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, এমনিতে বনদস্যু এবং জলদস্যুদের উত্পাতে হাতিয়ার মানুষ সমস্যায় আছে। রোহিংগাদের এখানে জায়গা দেয়া হলে এ সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

রোহিঙ্গাদের সরানোর পরিকল্পনায় ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর হাতিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। গতকাল রবিবার যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার গত মাসে প্রায় ৩২ হাজার নথিভুক্ত রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ উপকূলীয় এলাকায় পর্যটক আকর্ষণ। কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষের এ স্থানান্তরের বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছে ইউএনএইচসিআর।

বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গারা জাতিসংঘের শরণার্থী হিসেবে গণ্য হয়। ১৯৯২ সাল থেকে তাদের খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য সহায়তা করে আসছে ইউএনএইচসিআর। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, নোয়াখালীর হাতিয়ার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ টেঙ্গার চর জোয়ারে কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেখানে রাস্তা নেই, বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থাও নেই। কিন্তু এরপরও সরকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সেখানে স্থানান্তর করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল জোয়ারে পুরো দ্বীপটিই তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। তাই এখানে বাস করা প্রায় অসম্ভব। নিম্নাঞ্চল টেঙ্গার চর হাতিয়া দ্বীপ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। মাত্র আট বছর আগে এটি সমুদ্রবক্ষে জেগে ওঠে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন