জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে নগরবাসী
মোহাম্মদ আবু তালেব১৫ জুন, ২০১৫ ইং
জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে নগরবাসী
বর্ষার আগেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনের বর্ষণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়ে। অসংখ্য মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েন। গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই থেমে থেমে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর অনেক এলাকা। বৃষ্টি সৃষ্ট এই জলাবদ্ধতা আর যানজটে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতায় নগরীর বাসিন্দাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়লেও তা দূর করার কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই গুলশান, বনানী, কুড়িল, কুড়াতলী, শাহজাদপুর, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মহাখালী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, খিলক্ষেত, উত্তরা, জোয়াসাহারা, কুড়িল প্রগতি সরণী রোড, মোল্লাবাড়ি রোড, কুড়িল কুড়াইত আলী রোড, ভাসানটেক, পল্লবীর কালশী, রূপনগর, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, ধানমন্ডি ও মগবাজার এলাকার অনেক রাস্তায় পানি জমে যায়।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ড্রেনেজ  লাইন পরিষ্কারে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে রাস্তা। একবার কোথাও পানি জমলে, তা আর সরতে চাইছে না। এছাড়া পানিতে ডুবে থাকায় রাস্তাগুলোও ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাচ্ছে। অনেক সড়কে পানি কম জমলেও কর্দমাক্ততার কারণে চলাচল দু:সহ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিপাতজনিত জলাবদ্ধতায় বর্ষা মৌসুমে এবার দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা নগরবাসীর।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার ডা. জিন্নাত আলী ইত্তেফাককে বলেন, এই ওয়ার্ডের ৪টি স্যুয়ারেজ লাইনের মুখই গত ৩ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাগামী রাস্তা ও কুড়িল কুরাত আলী রোডসহ ৪টি রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, পেশাজীবী ও পথচারীরা রিক্সা ও ভ্যান গাড়ি যোগে রাস্তা পার হতে বাধ্য হচ্ছে। প্রতিনিয়ত স্যুয়ারেজ লাইন থেকে গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিক বার ওয়াসার হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে পুরান ঢাকায়ও। বিশেষ করে  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, চকবাজার, চাঁদনিঘাট, যাত্রাবাড়ী, মিরহাজীর বাগ, পূর্বদোলাইরপাড়, জুরাইন, পোস্তগোলা, ফরিদাবাদ, ধলপুর, মানিকনগর, গোপীবাগ, মুগদা, বাসাবো, মাদারটেক এলাকার রাস্তাগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

মিরহাজীর বাগ বাজারের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, দশ-পনের মিনিট বৃষ্টি হলেই বাজারে হাঁটু পানি জমে। ফলে ক্রেতারা বাজারে আসেন না। এই পানির কারণে তিন দিন ধরে তাদের ব্যবসা খুব খারাপ যাচ্ছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি এলাকায় যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে তা দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আট মিলিমিটার বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। এর বেশি হলেই প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লা সবখানে পানি আটকে যায়। মহাসড়ক ও বড় সড়কগুলো থেকে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন তিন সংস্থার মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা ওয়াসা। রাস্তার পানি নিষ্কাশনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের রয়েছে ২ হাজার কিলোমিটারের বেশি সারফেস ড্রেন এবং প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন। বৃষ্টির পানি এসব ড্রেন লাইন হয়ে ওয়াসার ড্রেনেজ লাইন ও খালে গিয়ে পড়ে।

অন্যদিকে ঢাকা ওয়াসার রয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার বক্সকালভার্ট, প্রায় তিনশ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপ লাইন ও ৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের ২৬টি প্রাকৃতিক খাল। নগরীর ভেতরের পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে কল্যাণপুর ও ধোলাইখালে দুটি স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন এবং রামপুরা ও গোপীবাগের জনপথে রয়েছে দুটি অস্থায়ী পাম্পিং স্টেশন।

অভিযোগ রয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে এসব সারফেস ড্রেন, ভূগর্ভস্থ পাইপ কিংবা বক্সকালভার্টগুলো ভালভাবে পরিষ্কার করা হয় না। তবে বছরে একবার রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে যাচ্ছেতাইভাবে পরিষ্কার কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ড্রেনগুলো ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) কামরুল আলম চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, গত শনিবার তেমন জলাবদ্ধতা হয়নি। কারণ এদিন বৃষ্টির পরিমাণ ছিল তুলনামূলক কম। বেশি বৃষ্টি হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। ওইদিন দুই ঘণ্টায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে কয়েক ঘণ্টার জন্য কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ বলেন, রাস্তাগুলোকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি। তবে কয়েক দিন ধরে কুড়িল বিশ্বরোড ও প্রগতি সরণীতে জলাবদ্ধতার সমস্যা হচ্ছে। কারণ রাজউকের ফ্লাইওভার তৈরির সময় এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের আউটলেটগুলো (নিষ্কাশনপথ) বন্ধ হয়ে গেছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন