নারায়ণগঞ্জে স্কুলছাত্র ইমন হত্যার চার্জশিট দাখিল
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্কুলছাত্র ইমন হোসেনকে নয় টুকরো করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। এতে সাক্ষী করা হয়েছে ৩৫ জনকে। হত্যাকাণ্ডের ২ বছর পর রবিবার ১৪ জুন বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক ওই চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৩ সালের ১৩ জুন ইমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। ২২ জুন বাড়ির অদূরে শস্য ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ইমন হোসেন (১৩) ফতুল্লার দুর্গম চরাঞ্চল বক্তাবলীর কানাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ও চর রাধানগর এলাকার ইসমাইল হোসেন রমজান মিয়ার ছেলে।

এসআই আবদুর রাজ্জাক জানান, মামলার পর তদন্ত ও আদালতে দেয়া আসামিদের ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির প্রেক্ষিতে চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলো নিহত স্কুলছাত্র ইমনের আত্মীয় আবদুর সামাদের ছেলে সিরাজ (৪৫), আহম্মদ আলী (৫৫), আমান উল্লাহর ছেলে নাহিদ (২১), আহম্মদের ছেলে খোরশেদ আলম (১৮), সেন্টু মিয়া (২৫), মন্টু মিয়া (২২), সিরাজুল ইসলাম সিরাজের স্ত্রী সালমা (৪২), আমান উল্লাহর স্ত্রী আয়েশা (৪০), সিরাজুল ইসলাম সিরাজের ছেলে মামুন (২৪)  আহমেদ এর স্ত্রী হুসনা (৪৭)। ২০১১ সালে ইমনের বড়ভাই ইকবাল (সিঙ্গাপুর প্রবাসী)-এর সঙ্গে চাচা আহাম্মদ আলীর মধ্যে ঝগড়া হয়। সেদিন ইকবালের লাঠির আঘাতে চাচা আহাম্মদ আলীর মাথা ফেটে যায়। এরপর থেকেই তাদের দুই পরিবারের মধ্যে কোন্দল ও বিরোধ দেখা দেয়। ওই ঘটনার পরে ইকবালকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ার পরে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনার প্রায় ২ বছর পর ইকবালের পরিবারের উপর প্রতিশোধ নিতে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে আহাম্মদ আলী। সে পরিকল্পনা মোতাবেক ২০১৩ সালের ১৩ জুন রাত সাড়ে ৮টায় ইমনকে ডেকে নেন চাচা সিরাজ মিয়ার স্ত্রী সালমা বেগম। তিনি নিজেই ইমনকে ভাতের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে দেন। ওই ভাত খাওয়ার পর ইমন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে একটি নৌকায় করে নাহিদসহ অন্য কিলাররা মিলে বাড়ির অদূরের একটি ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে ৯ টুকরো করে হত্যা করে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন