গুজরাটে কারফিউ
কোটার দাবিতে প্যাটেল সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ৭
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
গুজরাটে কারফিউ
ভারতের গুজরাটে শিক্ষা ও চাকরিতে বিশেষ কোটার দাবিতে প্যাটেল সম্প্রদায়ের বিক্ষোভকালে গতকাল বুধবার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশের গুলিতেই পাঁচ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দু ও টেলিভিশন এনডিটিভি। তাদের খবরে বলা হয়, বুধবার গুজরাটের বিভিন্ন অংশে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আহমেদাবাদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ জন ও উত্তর গুজরাটের পালানপুরে দুইজন নিহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আহমেদাবাদ, সুরাট, মেহসানা, ভিসনগর ও উনঝার বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য অংশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আধা সামরিক বাহিনী প্রায় পাঁচ হাজার মোতায়েন রয়েছে। আহমেদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় তিনশো সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা রাস্তায় পতাকা নিয়ে প্রদক্ষিণ করবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে। সহিংসতা কমাতে আহমেদাবাদ ও সুরাটে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ফোন ও ইন্টারনেট সেবা। এদিকে, নিজ রাজ্য গুজরাটের এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শিক্ষা ও চাকরিতে কোটার দাবিতে গত মঙ্গলবার প্যাটেল সম্প্রদায়ের প্রায় তিন লাখ মানুষ আহমেদাবাদে বিক্ষোভ করে। আহমেদাবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ২২ বছর বয়সী হার্দিক প্যাটেল। মঙ্গলবার রাতে আন্দোলনের নেতা হার্দিক প্যাটেলকে অনশন মঞ্চ থেকে তুলে নিতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর পরেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুলিশ তাকে আটক করলে নিম্নবর্ণের কয়েকটি গোষ্ঠীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। ভাঙচুর হয় সরকারি সম্পত্তি, বাস। অন্তত একশো বাস জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। উত্তর গুজরাটে এক মন্ত্রী ও দুই বিধায়কের কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। দুটি ব্যাংকের এটিএম বুথেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হার্দিক প্যাটেলকে মুক্তি দেয়া হয়। খবরে বলা হয়, রাত তিনটা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিলো। এরপরই সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।

এরপর গতকাল বুধবার গুজরাটে সকাল থেকে অবরোধের ডাক দেন হার্দিক প্যাটেল। অবরোধে মূল শহর আহমেদাবাদ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দুপুরের দিকে আমেদাবাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় নতুন করে প্রায় ৫০টি সংঘর্ষ হয়। এ অবস্থায় রাজ্য সরকার সরকার আহমেদাবাদ, সুরাট ও রাজকোটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এসব এলাকার শিক্ষা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার থেকেই বন্ধ রয়েছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, হার্দিক প্যাটেল বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে অহিংস আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে। আর আহমেদাবাদের জেলা প্রশাসক আগামী সোমবার পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক বিবৃতিতে বলেন, আমি গুজরাটের জনগণকে শান্তি রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছি। সহিংসতা দিয়ে কখনো কিছু অর্জন করা যাবে না। এ সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য অবশ্যই আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা সংঘর্ষ ঠেকাতে কারফিউ জারি করেছি।

অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পরিস্থিতি অবহিত করেছেন। গুজরাটের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সামাল দিতে আরো ৫০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী গুজরাট পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত হার্দিক প্যাটেলকে আটক করার জন্যই পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে ওঠে। এ জন্য পুলিশকেও দায়ী করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার তাঁর বাহিনীর সদস্যদের এমন আচরণকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যেসব পুলিশ সদস্য সংঘাতে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রজনী প্যাটেল বলেছেন, পুলিশের বল প্রয়োগের বিষয়টি নজরে আসার পরে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন গুজরাটের বিরোধী দলীয় নেতা শঙ্করসিন ভাগেলা। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক কথা-বার্তাও কম নয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজুজি বলেছেন, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করতে কিছু লোক উস্কানি দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, নিজেদের ‘অন্যান্য অনগ্রসর জাতি’র অন্তর্ভুক্ত করার দাবি নিয়ে বেশ কিছু দিন থেকেই আন্দোলনে নেমেছে রাজ্যের প্যাটেল সম্প্রদায়। গুজরাটের প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ এই সম্প্রদায়ভুক্ত। গুজরাটের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তিও তারা। দীর্ঘদিন থেকেই বিজেপিরই কাছাকাছি ছিল তারা। কিন্তু শিক্ষা ও চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবি রাজ্যের বিজেপি সরকারের সঙ্গে ক্রমশই তাদের দূরত্বের সৃষ্টি করেছে। গত মঙ্গলবার প্যাটেলদের প্রায় তিন লাখ সমর্থক জমায়েত হয় জিএমডিসি ময়দানে। প্যাটেলদের এই ‘মহাসম্মেলন’-কে কেন্দ্র করেই শুরু থেকেই পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। আন্দোলনের নেতা হার্দিক মন্তব্য করেন, বিজেপি যদি অবহেলা করে, তা হলে ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে গুজরাটে পদ্মফুল ফুটবে না। এর পরেই অনশনে বসেন তিনি। ঘোষণা করেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেনকে ধর্নাস্থলে এসে দাবিপত্র নিয়ে যেতে হবে। যদিও রাজ্য সরকার সে পথে এগোয়নি। মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেল জানিয়েছেন, রাজ্যে কোটার পরিমাণ পঞ্চাশ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সর্বোচ্চ আদালত তা রদ করে দিয়েছেন। তাই নতুন করে প্যাটেল সম্প্রদায়ের জন্য কোনো কোটা দেয়া সম্ভব নয়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন