মোশতাকের হালুয়া রুটির জন্য তারা ভিড় করেছিল: ইনু
বিশেষ প্রতিনিধি২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
মোশতাকের হালুয়া রুটির জন্য তারা ভিড় করেছিল: ইনু
তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের জাতীয় চার নেতাসহ হাতে গোনা কয়েকজন ত্যাগী ছাড়া বহুজনই সেদিন খন্দকার মোশতাকের করুণা ভিক্ষা এবং হালুয়া রুটির ভাগাভাগির জন্য তার চারপাশে ভিড় করেছিল। জাসদ সেদিন নির্যাতন ভোগ করেছে।

গতকাল সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বর্তমানে তাকে এবং জাসদকে ঘিরে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, এতে বিএনপি-জামায়াত লাভবান হবে। তিনি বলেন, মোশতাকের তিন মাসের শাসনেই জাসদের ৭০ নেতা-কর্মীকে হত্যা, অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ১৯৭২ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। সেই নির্বাচনে বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জাসদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে চলেছে, কী বিষয় নিয়ে জাসদ কথা বলত তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এই ব্যাপার নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিককালে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কতিপয় নেতা হঠাত্ করেই জাসদের বিরুদ্ধে বিষোদগার অথবা সমালোচনা শুরু করেছেন। আমি বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা যাঁরা একই সুরে জাসদের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করেছেন, তাদের সঙ্গে কোনো বাকযুদ্ধে লিপ্ত হতে চাচ্ছি না।

জাসদ সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মোশতাকের ক্ষমতা দখলের ৪৮ ঘণ্টার ভেতর জাসদ একটি প্রচারপত্র বিলি করে, সেই সময় আমরা খুনি মোশতাক সরকারের বিরোধিতা করেছিলাম। এই বিরোধিতার ফলে খন্দকার মোশতাকের ৮৩ দিন শাসনকালে জাসদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ৭০-এর অধিক নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কিন্তু রেকর্ডভুক্ত।’

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আরেকটা হচ্ছে খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা দখলের পরে জাসদের কোনো নেতা এবং জাসদ দলগতভাবে তাদের সঙ্গে হাত মেলায়নি। কারা খন্দকার মোশতাকের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল? কারা খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিল? সেটা আপনারা জানেন, দেশবাসী জানে।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময় ৮৩ দিন জাসদ পালিয়ে বেড়িয়েছে, আর না হলে কারাগারে নিক্ষিপ্ত হয়েছে, না হলে হত্যাকাণ্ডের সম্মুখীন হয়েছে। এই ছিল জাসদের অবস্থা। সুতরাং খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতা দখলের পর জাসদ কিন্তু সুফলভোগী নয়। জাসদ ৮৩ দিনে কোনো সুফলভোগী ছিল না। এ রকম পরিস্থিতিতে আমি বলব যে, যাঁরা এ কথাটা বলছেন তাঁরা হয় ইতিহাস জানেন না অথবা সচেতনভাবে অন্য কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছেন।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন