তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারা চ্যালেঞ্জ করে রিট
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে ৫৭ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে। এতে বিবাদী করা হয়েছে আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিবকে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটকারীর পক্ষে আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মো. মনির।

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন পাস হয়। সে সময় এই আইনে সর্বনিম্ন কারাদণ্ডের সময়সীমা ছিল না। ফলে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী যে কোন ধরনের দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা আদালতের ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে সংশোধিত এই আইনে যে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সাত বছর এবং সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০০৬ সালের মূল আইনে আদালতের ওপর জামিনের ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আদালত যে কোন পর্যায়ে আসামিকে জামিন দিতে পারতেন। কিন্তু ২০১৩ সালের আইনে এই আইনের অধীনে অপরাধসমূহ অজামিনযোগ্য এবং আমলযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অপরাধ আমলযোগ্য হওয়ায় আদালতের পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্যকোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ’। উপধারা (২)এ বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বছর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন’।

রিট আবেদনে এই ৫৭ ধারাকে সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশ্যভাবেই খর্ব করা হয়েছে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে। আবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৪ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৬ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। রিট পিটিশনে এই রায়ের নজির তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় এমনভাবে অপরাধ সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যেমন ইন্টারনেটে যে কোন কর্মকাণ্ডকেই এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েই আছে। এরকম একটি আইনে এতদিন যে রক্ষাকবচ (সেফগার্ড) ছিল এই সরকারের আনীত সংশোধনীর ফলে সেটিও উঠে গেছে। অর্থাত্ এতদিন মামলা করতে হলে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হতো। এখন আর অনুমতির প্রয়োজন হবে না। আবেদনে বলা হয়, মানুষের বাক-স্বাধীনতার জায়গাটি, সংবিধানে যেটিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে সেই অধিকার হরণ হচ্ছে চরমভাবে। যেহেতু বাক-স্বাধীনতা খর্ব করছে সেহেতু আইনটি সংবিধান বিরোধী ঘোষণার দাবি রাখে। এই আইনে পুলিশকে দেয়া হয়েছে ব্যাপক ক্ষমতা, যা মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে হরণ করবে। 

জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি এই রিট আবেদন দায়ের করেছেন। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মো. মনির ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, সম্পর্কোচ্ছেদের পর রিট আবেদনকারী তার স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুত্সা রটনা করেছেন এই অভিযোগে তার স্ত্রী আদালতে মামলা করেন। গত ২৪ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলাটি করা হয়। ৫৭ ধারায় করা ওই মামলায় রিটকারী ভুক্তভোগী হওয়ায় তিনি এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

এদিকে এই আইনের ৫৭ ও ৮৬ ধারা বাতিলের জন্য সরকারকে উকিল নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। গতকাল রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব এবং তথ্য সচিবকে ওই নোটিস পাঠান আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন