যুক্তরাষ্ট্রে লাইভ অনুষ্ঠানে গুলি, দুই সাংবাদিক নিহত
ইত্তেফাক ডেস্ক২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
যুক্তরাষ্ট্রে লাইভ অনুষ্ঠানে গুলি, দুই সাংবাদিক  নিহত
যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি সম্প্রচারের সময় দুই সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ভার্জিনিয়া রাজ্যের মনেটা শহরে এই ঘটনা ঘটে। এতে একজন আহত হয়েছে। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ বলতে পারেননি। তবে রাজ্যের গভর্ণর জানিয়েছেন, ওই টেলিভিশনের সাবেক এক সাংবাদিকই তাদের গুলি করেছে। তাদের দু্জনের মধ্যে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বন্দুক সহিংসতার আরেকটি উদাহরণ এটা। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও গার্ডিয়ানের।

বলা হচ্ছে, সন্দেহভাজন আততায়ী নিজেও ওই চ্যানেলের একজন সাবেক রিপোর্টার ভেস্টার লী ফ্লান্যগান (৪১)। তাকে ধরার জন্য পুলিশ অভিযান চালালে তিনি গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তার গাড়ি ধাওয়া করলে তিনি নিজের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নিজের প্রাণ নেয়ার চেষ্টা করেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- ডাব্লিওডিবিজে-সেভেন টেলিভিশনের রিপোর্টার অ্যালিসন পার্কার (২৪) এবং ভিডিও ধারণকারী অ্যাডাম ওয়ার্ড (২৭)। ভার্জিনিয়ার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৭টায় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় বেডফোর্ড কাউন্টিতে সকালের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, ওই নারী সাংবাদিক তার অতিথির সাক্ষাত্কার নেয়ার আগে হাঁসি ঠাট্টা করছিলেন। এর পরপরই কয়েক দফা গুলি চালানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে চিত্কার শোনা যায় এবং সাংবাদিক লুটিয়ে পড়েন। ক্যামেরাও মাটিতে পড়ে যায়। তবে তখনো ক্যামেরা চলছিল। এতে দেখা যায়, কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি হাতে বন্দুক দিয়ে দ্রুতগতিতে স্থান ত্যাহ করে চলে যান।

টেলিভিশন স্টেশন ডব্লিউডিবিজে-সেভেন জানায়, পার্কার স্মিথ মাউন্টেইন লেকের কাছে ব্রিজওয়াটার প্লাজা শপিংমলে একজনের সাক্ষাত্কার নিচ্ছিলেন। তখনই তাদের গুলি করা হয়। চ্যানেলটি জানিয়েছে, রিপোর্টার অ্যালিসন পার্কার এবং ক্যামেরাম্যান অ্যাডাম ওয়ার্ড ঘটনাস্থলেই নিহত হন। চ্যানেলের জেনারেল ম্যানেজার জেফ মার্কস জানান, হত্যাকারী সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। গভর্ণর টেরি ম্যাকঅলিফি বলেন, দুই সাংবাদিককে হত্যকারী হিসেবে ওই টেলিভিশনেরই এক সাংবাদিককে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার পরিচয় জানা গেছে। সে ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটাতে পারে। ওই ব্যক্তি একটি গাড়িতে ছিল। পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

আত্মহত্যার চেষ্টা করার আগে অবশ্য নিজের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্টে গোটা ঘটনার ভিডিও সে আপলোড করেছে। গুলি চালানোর আগের মুহূর্ত অবধি সে নিজেই শ্যুট করে। ভিডিয়োর এক জায়গায় দেখা যায় পিস্তল অ্যালিসন পার্কারের দিকে তাক করা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিজের ক্যামেরা ফোনেই ভিডিয়ো তুলেছিল আততায়ী। পোস্ট করা সেই ভিডিয়োর দৌলতেই আততায়ীকে শনাক্ত করা সহজ হয়। গুলি খাওয়ার আগে অ্যাডম ওয়ার্ডের ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে আততায়ী।

পুলিশ জানায়, উইলিয়ামস ছিল ওই টিভি চ্যানেলটির সাবেক কর্মী। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিহত রিপোর্টার অ্যালিসন পার্কার বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন। যার জের দু-জনের মধ্যে বাদানুবাদও হয়। ওই রিপোর্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগও করেছিলেন। সেই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফুঁসছিল অভিযুক্ত। ফ্লানাগন যে এমন একটা কিছু করতে চলেছে, তেমন ইঙ্গিতও দেয় নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে। সংবাদ সংস্থার খবর, গোটা ঘটনা জানিয়ে এবিসি নিউজের কাছেও ২৩ পাতার একটি ফ্যাক্স পাঠায় সে। তবে জেফ মার্কস জানান, ভেস্টার লী ফ্লান্যগান অসুখী ছিল। ২০১৩ সালে সে চ্যানেল থেকে চলে যায়। এরপর সে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ করে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন