বিচারকের স্বাক্ষর জালে শতাধিক আসামির মুক্তি
আসামি নাঈমের আদালতে স্বীকারোক্তি
কোর্ট রিপোর্টার২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
বিচারকের স্বাক্ষর জালে শতাধিক আসামির মুক্তি
বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন মামলার শতাধিক আসামিকে কারাগার থেকে বের করে এনেছে একটি চক্র। এই চক্রে আদালতের পেশকার, পিয়ন ও আইনজীবীও রয়েছেন। শতাধিক আসামিকে জামিনে মুক্ত করে চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এমএলএসএস (পিয়ন) শেখ মো. নাঈমের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়ায়েজ কুরুনী খানের আদালতে এই জবানবন্দি দেন  নাঈম।

 জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক। এর আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে নাঈমকে তিন দিনের হেফাজতে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের একটি দল নাঈমকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির মো. উবায়দুল করিম আকন্দ ঢাকার কোতোয়ালি থানায় জামিন জালিয়াতির মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের দিনই গ্রেফতার হয়েছেন ওই আদালতের পেশকার মো. মোসলেহ উদ্দিন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক আছেন। ভুয়া জামিননামার মাধ্যমে কারাগার থেকে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের মুক্তির ব্যবস্থা করে দুই কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেয়ার কথা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন মোসলেহ উদ্দিন। এরপর মামলাটির তদন্তে নামে দুদক।

 গত রবিবার আলোচিত কোটিপতি পিয়ন শেখ মো. নাঈমকে রাজধানীর আদাবর থেকে আটক করে র্যাব। ওইদিনই দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ৭৬টি মামলার ১১০ আসামিকে পাঁচ মাসে কারাগার থেকে বের করে দিয়েছে শক্তিশালী একটি জালিয়াত চক্র। জালিয়াতি করে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চাঞ্চল্যকর খুনের মামলার আসামি, তালিকাভুক্ত ভয়ংকর সন্ত্রাসী, মাদক ও জালটাকার ব্যবসায়ী রয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের খাতায় দুর্ধর্ষ এসব আসামি এখন পলাতক। পিয়ন শেখ মো. নাঈম ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম-দায়রা জজ আদালত থেকে গত বছরের ১১ নভেম্বর বদলি হয়ে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসেন। তার সার্ভিস বুক ও হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নভেম্বরে বদলির প্রায় দুই মাস পর বিচারকের জাল স্বাক্ষর করে টাকার বিনিময়ে আসামিদের জামিন দেয়া শুরু করেন গত জানুয়ারি মাস থেকে। তার সঙ্গে যোগ দেন পেশকার মোসলেহ উদ্দিন।

সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ১৪টি মামলার ১৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১০টি মামলার ২০ জন, মার্চ মাসে ১৪টি মামলার ২০ জন, এপ্রিলে ১২টি মামলার ১৬ জন এবং মে মাসে ২৬টি মামলার ৪০ জন আসামির জামিনে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন দুই আসামি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন