নিষিদ্ধ ওষুধ বাজারে পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা
বিশেষ প্রতিনিধি২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
নিষিদ্ধ ওষুধ বাজারে পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা
সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ডায়াবেটিসের দুইটি ও প্যারাসিটামল কম্ব্বিনেশনের একটি ওষুধ বাজারে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক ও উত্পাদনকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান। গতকাল বুধবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, প্যারাসিটামল ৫০০ মি. গ্রা.+ডিএল-মেথিওনিন ৪৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেট, ডায়াবেটিসের ওষুধ পায়োগ্লিটাজন ৩০ মি.গ্রা. ও ৪৫ মি.গ্রা. এবং রসিগ্লিটাজন ২ মি.গ্রা. ও ৪ মি. গ্রা. জেনেরিকের ওষুধগুলো বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরের ২ জুলাই ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তম সভার সুপারিশ অনুযায়ী ৩০টি কোম্পানির ৫১টি আইটেম বাতিল করা হয়। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ক্যান্সার, হূদরোগসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থাকায় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির সুপারিশে এসব ওষুধ বাতিল করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব ওষুধ কোন দোকানে পাওয়া গেলে ওই দোকান বন্ধ করে দেয়া হবে। একইসঙ্গে উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনও বাতিল করা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ৯ প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি কম্বিনেশন ট্যাবলেটের উত্পাদন ও বাজারজাতকরণ স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- গ্লিমিপিরিড ২ মি.গ্রা.+ রসিগ্লিটাজন ৪ মি. গ্রা., গ্লিমিপিরিড ১ মি.গ্রা.+রসিগ্লিটাজন, মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ৫০০ মি.গ্রা.+রসিগ্লিটাজন ২ মি.গ্রা., মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ৫০০ মি.গ্রা.+রসিগ্লিটাজন ১ মি.গ্রা., মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ১ মি.গ্রা.+রসিগ্লিটাজন ২ মি.গ্রা, মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ১ মি.গ্রা.+রসিগ্লিটাজন ৪ মি.গ্রা, গ্লিমিপিরিড ৪ মি.গ্রা+পায়োগ্লিটাজন ৩০ মি.গ্রা এবং গ্লিমিপিরিড ২ মি.গ্রা+পায়োগ্লিটাজন ৩০ মি.গ্রা কম্বিনেশন ট্যাবলেট।

মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ ওষুধসমূহ জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনেকে এ ধরনের ওষুধ জব্দ করে তা অবহিতও করেছেন। কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতিসহ নিষিদ্ধ ওষুধের পোস্টার বিভিন্ন ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চিকিত্সকের চেম্বারে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত সাত মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে নকল, ভেজাল ওষুধ বিক্রি ও উত্পাদনের জন্য ৪৯৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ড্রাগ কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও মোবাইল কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা, ২০ জনকে কারাদণ্ড ও ১০ প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনিময় শনাক্তকরণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমম্বয়ে তিনটি পরিদর্শক দল গঠন করা হয়েছে। ওষুধের ভেজাল ও নকল রোধে আরো বেশকিছু পদক্ষেপের কথা সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। 

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. রুহুল আমিন। এ সময় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন