একক প্রার্থী আওয়ামী লীগের জোট নিয়ে লড়াইয়ে বিএনপি
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ৩০ ডিসেম্বরেই হচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য হল দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন। নির্বাচনে লড়তে প্রধান দুই দলই প্রস্তুতি নিচ্ছে জোরেশোরে। দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছর পর দলীয় প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামতে যাচ্ছে বিএনপি
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
২৩৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

g মেহেদী হাসান

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোও এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে যেখানে যে দলের প্রার্থী জনপ্রিয় থাকবেন সেখানে কিছু আসনে জোটগতভাবে সমন্বয় করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এদিকে ২৩৫ পৌরসভায় মেয়র পদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের ১৮ সদস্যের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। আজ বুধবারের মধ্যে ওই প্রত্যয়নপত্র প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৫ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। আর এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। যে কোন সময় ঘোষণা হতে পারে। একক প্রার্থী নির্ধারণে সত্, যোগ্য ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান ।  দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে গত দুই দিন গণভবনে দফায় দফায় মনোনয়ন বোর্ডের সভা হয়। দলের তৃণমূলের দেয়া প্রার্থী তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়-স্বজন ও নিজস্ব বলয়ের লোকেরাই প্রাধান্য পেয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের তদ্বির এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের খবরদারির কারণে তৃণমূলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা একক প্রার্থী বাছাইয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। যেসব স্থান থেকে একক প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে এসেছে, সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা অনেকটা জোর করেই তা চাপিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক স্থানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকরাও প্রার্থী হয়েছেন। আবার কোনো কোনো জায়গা থেকে সর্বোচ্চ ৭ জনের নামও এসেছে। জেলা আওয়ামী লীগ থেকে জমা দেয়া তালিকায় শেষ মুহূর্তে অনেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা নিজের পছন্দের নামও যোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া এমপিদের অতিমাত্রায় খবরদারিতে অনেক জেলা থেকে গতকাল পর্যন্ত কোন প্রার্থী তালিকাই আসেনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে। কোথাও তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থীরা এমপিদের কাছে টিকছেন না। আবার কোনো জেলায় এমপিদের পছন্দের প্রার্থী টিকছেন না তৃণমূলের কাছে। প্রার্থী বাছাইয়ে এমন স্বজনপ্রীতি ও বিশৃঙ্খলার কারণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ দলের হাইকমান্ড। স্থানীয় সরকার/পৌর মেয়র মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অধিকাংশ স্থানে তৃণমূলের প্রস্তাব কেটে দিয়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন রিপোর্টের ভিত্তিতে জনপ্রিয় ব্যক্তির নাম বসিয়ে দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। এসময় তিনি একক প্রার্থীদের পক্ষে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও নির্দেশ দেন।

এদিকে পৌরসভা নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি থাকলেও এখনো জোটগতভাবে কিংবা সমন্বয় করে অংশ নিতে আগ্রহী শরিকরা। সূত্র জানায়, যৌথভাবে নির্বাচন করার জন্য বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেনন জোটের মধ্যে থেকেই আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার দাবি জানান। এ সময় মোহাম্মদ নাসিম বিষয়টি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে জানানো হবে বলে মেননকে আশ্বস্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, কোনো স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণ করবে না। এটি শুধু পৌরসভা নির্বাচনেই নয়, সব স্থানীয় নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ এককভাবে অংশ নেবে। এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচন সরকার গঠনের কোনো নির্বাচন নয়। তাই এই স্থানীয় নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের উচিত এককভাবে নির্বাচন করা।

 

 

শরিকদের কারণেই প্রার্থী বাছাইয়ে বিলম্ব বিএনপির

g আনোয়ার আলদীন

পৌর নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন আগামীকাল। অথচ গতকাল পর্যন্ত বিএনপি তাদের মেয়র প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। দলের নেতারা বলছেন, অল্প কিছু কাজ বাকি আছে। ১৫-২০টা পৌরসভা বাকি আছে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলেই তা জানিয়ে দেয়া হবে। এদিকে গতকাল দুপুরের পর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরুর ঘোষণা দিলেও সেই কাজটি শুরু হয় গতকাল সন্ধ্যার পর। প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন মনোনীত দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। দল মনোনীত মেয়র প্রার্থীকে সরাসরি নিতে হচ্ছে এই প্রত্যয়নপত্র। তবে যারা ঢাকায় আসতে পারছেন না তাদের মনোনয়নপত্র প্রতিনিধি মারফত অথবা বিশেষ কুরিয়ারে পাঠানো হচ্ছে। মনোনীত প্রার্থীরা আজ বুধবার সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। যারা আজ দিতে ব্যর্থ হবেন তারা দেবেন কাল। ইতোমধ্যে নাম চূড়ান্ত হওয়া মেয়র প্রার্থীদের কাছ থেকে তাদের ভোটার নাম্বার ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বিএনপি নেতারা ইত্তেফাককে জানান, দলের মেয়র প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণ শরিক দলগুলো। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী। নিবন্ধন না থাকায় তারা দলীয় পরিচয়ে নির্বাচন করতে পারছে না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার।

জামায়াত যেসব স্থানে নির্বাচন করবে সেখানে বিএনপির অবস্থান কি হবে, সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌর নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক থেকে জোট নেত্রী বেগম জিয়াকে পৌর নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয়কারী হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, আসাদুজ্জামান রিপন ও জামায়াতের মাওলানা আবদুল হালিমকে দায়িত্ব দেন। ওই বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের মেয়র প্রার্থীদের একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে। বিএনপি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে বৈঠকে জানানো হয়।

জামায়াত নেতারা বিএনপিকে জানিয়েছে, কমপক্ষে ৩০টি পৌরসভায় মেয়র পদে তাদের জয় অবশ্যম্ভাবী। তবে জামায়াতকে কতটি পৌর মেয়র পদ ছেড়ে দেবে তা এখনও বিএনপির পক্ষ নিশ্চিত করা হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ প্রসঙ্গে বলেন, শরিকরা তাদের চাহিদার কথা দলীয় চেয়ারপারসনকে জানিয়েছেন। তিনিই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানান, যেসব পৌরসভায় সমঝোতার ভিত্তিতে ২০-দলীয় জোটের প্রার্থী দেয়া হবে সেসব পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীরা সরে দাঁড়াবেন। একই সঙ্গে তারা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।

এছাড়া বিএনপি জোটের শরিক ২০ দলের মধ্যে ১০টি দলের নিবন্ধন আছে। তারাও তাদের প্রার্থীদের তালিকা বিএনপির দপ্তরে জমা দিয়েছে। তবে শরিকদের জন্য কয়টি পৌরসভা ছেড়ে দেয়া হবে সে ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জানা গেছে, বিএনপির একক প্রার্থীদের সমর্থন দেবে জোটের শরিকরা। আর যেসব আসনে শরিকদের শক্ত প্রার্থী রয়েছে, সে রকম কিছু জায়গায় শরিকদের ছাড় দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এদিকে মনোনয়ন দেয়ার পর নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিতে যাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। দলের দায়িত্বশীল একজনকে বার্তাটির খসড়া তৈরি করতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, জুলুমের বিরুদ্ধে পৌর নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের আহবান জানাবেন বেগম জিয়া। দীর্ঘ সাড়ে ৭ বছর পর দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামতে যাচ্ছে বিএনপি। স্বয়ং বেগম খালেদা জিয়া এই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালে বিএনপি দলীয় প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়। এরপর স্থানীয় নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীরা অংশ নিলেও এবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

শাহজাহানের সংবাদ সম্মেলন

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান প্রত্যয়নপত্র বিতরণ শুরুর পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই নির্বাচনকে আমরা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছি। আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো নির্বাচনে থাকার।’ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বিএনপি ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করেন তিনি।

পৌর নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রথম প্রত্যয়নপত্র পেয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার প্রার্থী মহিউদ্দিন বারাক। গতকাল রাত ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী বিভাগের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেয়ার কথা। আজ দেয়া হবে ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মোহাম্মদ মকবুল হোসেনও বিএনপির প্রত্যয়নপত্র পেয়েছেন। শেরপুর নৌহাটা পৌর মেয়র পদের জন্য তিনি লড়বেন ধানের শীষ প্রতীকে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন