আইনে বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে চাপ বাড়ছে
তারিন হোসেন, প্যারিস থেকে০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
আইনে বাধ্যবাধকতার ব্যাপারে চাপ বাড়ছে
কয়েকটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের আপত্তি সত্ত্বেও দূষণ কমাতে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা চুক্তি করার ব্যাপারে চাপ প্রবল হচ্ছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বিশ্বনেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার রেশ ধরেই আগামী কয়েকদিন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নিরন্তর আলোচনা চালিয়ে যাবেন। এ আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে চুক্তির ভবিষ্যত্। অর্থনীতিতে দ্রুত বর্ধনশীল দেশ চীন এবং ভারত শুরু থেকেই আইনি বাধ্যবাধকতা চুক্তি না করার পক্ষে। তবে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দেশের সরকার প্রধান যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য ছিলো।

কয়েকটি দ্রুত বর্ধনশীল দেশের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এই মুহূর্তে তারা আইনগত বাধ্যবাধকতা চুক্তির পক্ষে নয়। তাদের মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করছে তাদের ভবিষ্যত্। তবে তাপমাত্রা কমিয়ে আনার ব্যাপারে একটি বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে না গেলেও ওই দেশগুলো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট হারে তা কমিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

প্যারিস সম্মেলনে পৃথিবীর তাপমাত্রা এবং দূষণ কমনোর উপায় নিয়ে আলোচনা শুরুর একদিন পরে বোমা ফাটালো ভারতীয় গণমাধ্যম। হিন্দুস্থান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দিল্লীর বাতাসের দূষণের মাত্রা বেইজিং-এর চেয়ে অনেক বেশি। এ খবরে নড়েচড়ে বসেছেন প্যারিসে থাকা ভারতীয় প্রতিনিধিরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শহর কর্তৃপক্ষ স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঘরের বাইরে যেতে বারণ করেছে। কলকারখানাগুলোকে উত্পাদন সীমিত করার পাশাপাশি নির্মাণকাজের সময়সীমা কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে। বেইজিং শহরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানেও শিক্ষার্থীদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পুরো শহর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। ভারতের ব্যাপারে সেদেশের সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই)-এর বিজ্ঞানী বিবেক চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই এ অবস্থা থকে পরিত্রাণের ওপায় নেই।

তবে জলবায়ু সম্মেলন শুরুর দিনে চমক দেখিয়েছে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভারনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)। ফিলিপাইনের নেতৃত্বে থাকা এ সংগঠনটি যে ঘোষণাপত্র দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা কমাতে যে লক্ষমাত্রা ঠিক করা হয়েছে তা যথেষ্ট নয়। এটি আবার পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। গড় তাপমাত্রা বৃৃদ্ধি দুই ডিগ্রিতে রাখলে পৃথিবীর অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য লক্ষ্যমাত্রা দেড় ডিগ্রির নীচে রাখতে হবে। বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ এই ফোরামের সদস্য। তাপমাত্রা কমানো ছাড়াও এ ফোরাম ২০৫০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে। এই ফোরামে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, তাপমাত্রা কমিয়ে আনার দায়িত্ব সকল দেশের। এটি করা না হলে তা অপরাধ হবে।

রাজনীতিবিদদের সাথে সাথে পোপ ফ্রান্সিসও বলেছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে প্যারিসে একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা চুক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা ইতিমধ্যে বিশ্বনেতারা উপলব্ধি করেছেন। আফ্রিকা সফরশেষে দেশে ফেরার পথে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব এখন আত্মহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে। পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে এখনি চুক্তি করা না গেলে আর কোনোদিন সেটার প্রয়োজন হবে না।’ তার মতে, প্রতিবছরই অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে; কিন্তু রাজনীতিবিদরা এর হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে খুব কম কাজই করছেন; কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে তারা এখন কিছু একটা করবে। পোপ এজন্য তার প্রার্থনা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান।

প্যারিস সম্মেলন শুরু হতে না হতেই বিভিন্ন উন্নত দেশ জলাবয়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অভিযোজন (এ্যাডাপটেশন) খাতে অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিচ্ছে। গতকাল ১১টি দেশ এ খাতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। দেশগুলো হলো- কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইটালি, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র।

অপরদিকে, প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে অর্থনৈতিক উন্নয়নের শীর্ষে থাকা দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে অর্থ বরাদ্দ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এ খাতে দেশগুলো গবেষণার অর্থ দ্বিগুণ করারও ঘোষণা দিয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, চীন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইটালি, জাপান, মেক্সিকো, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সুইডেন, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্র।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন