সাত খুন মামলার চার্জশিট ত্রুটিপূর্ণ : হাইকোর্ট
মানুষ চায় বিচার হোক :বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম
ইত্তেফাক রিপোর্ট০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
হাইকোর্ট বলেছে, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার অভিযোগপত্রে ত্রুটি রয়েছে। তবে অধিকতর তদন্তের নামে শতভাগ অর্জন করতে গেলে এই মামলায় যে সব আসামি কারাগারে রয়েছেন তারা যেন আবার এই ফাঁকে কোনো সুবিধা নিয়ে না নেন। আবার এটাও সত্য যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের সকলেরই বিচার হওয়া দরকার। দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে মামলাটির সুষ্ঠু বিচারের আশায়।

সাত খুন মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদনের ওপর শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এসব কথা বলেন। বেঞ্চের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি আমির হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে অধিকতর তদন্তের আবেদনকারীর আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার শুনানিতে বলেন, বাদী এজাহারে ৩৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু তদন্ত শেষে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে দেখা গেল এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ পর্যায়ে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, যথাযথ যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদন খারিজ করেছে নিম্ন আদালত। এছাড়া নিম্ন আদালত খারিজ আদেশে বলেছে আসামির নাম-পরিচয় পাওয়া গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারবে।

বাসেত মজুমদার বলেন, মামলার বাদী যদি এজাহারে কারো নাম বলে সাধারণত অভিযোগপত্রে তার নাম থাকা উচিত। কিন্তু পুলিশ যে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে সেখানে কারো নাম রয়েছে, আবার কারো নাম বাদ দেয়া হয়েছে। এতে বাদীর ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, এই সাত খুনের ঘটনার মূল হোতা নূর হোসেন মামলার তদন্তকালে দেশে ছিলেন না। সরকার তাকে ফিরিয়ে এনেছে। এখন রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এরপরও চার্জশিটভুক্ত আসামিকে (নূর হোসেনকে) রিমান্ডে নিয়ে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের কোনো নজির আছে কি?

আবেদনকারীর আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারক বলেন, মামলার বিচার যদি কোনো কারণে বিলম্বিত হয় তাহলে যারা ভেতরে (কারাগারে) রয়েছে তারা তো আবার কোনো সুযোগ নেবে না? আবার এটাও সত্য যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের সকলেরই বিচার হওয়া দরকার। বিচারপতি ইনায়েতুর বলেন, ‘অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে দেখেছি। মনে হয়েছে এতে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। যদিও ত্রুটির বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে বলব না। আপনারা (আবেদনকারীর আইনজীবী) অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে ত্রুটি বের করুন।’ এ পর্যায়ে বাসেত মজুমদার অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। আদালত রবিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকেও অধিকতর তদন্তের বিষয়ে আইনগত দিকটি জেনে আসার নির্দেশ দেয়। শুনানিতে বাসেত মজুমদারকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ একেএম মনিরুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা করা হয়। অপহরণের পরদিন অপহূতদের পরিবারের সদস্যরা দুটি মামলা দায়ের করেন। পরে তাদের লাশ উদ্ধারের পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এই হত্যা মামলায় পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন জানিয়েছিলেন মামলার বাদী নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে বাদ দিয়ে এই অভিযোগপত্র দাখিল করায় এই নারাজি দেয়া হয়। বাদীর করা দুটি আবেদন খারিজ করে দেয় নিম্ন আদালত। ওই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে ফৌজদারী রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে নূর হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্তের অনুমতি চাওয়া হয়।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন