বিজয়ের মাসে প্রত্যাশা
যতীন সরকার০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
বিজয় কথাটার তাত্পর্য অত্যন্ত গভীর। যে কোনো বিষয়ে বিশেষ কৃতিত্ব লাভ করলে তাকেই আমরা বিজয় বলি। বিজয়ের সঙ্গে থাকে প্রতিকূল শক্তিকে পরাজিত করবার আনন্দ। সেই আনন্দই জাতিগতভাবে আমরা লাভ করেছিলাম ১৯৭১-এর ডিসেম্বরে।

আমাদের যে নানাভাবে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিলো, সেই বঞ্চনাবোধ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছিলো। এক পর্যায়ে সেই বঞ্চনা থেকে মুক্তির জন্যই আমাদের যুদ্ধে প্রবৃত্ত হতে হয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে সেই যুদ্ধ ছিল পাকিস্তান নামক একটি অমানবিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। তবে প্রকৃত প্রস্তাবে আমাদের সেই বঞ্চনা মুক্তির যুদ্ধ কেবলমাত্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই ছিল না, পাকিস্তানকে সর্বতোভাবে সহায়তা করে চলছিল যে আন্তর্জাতিক শক্তি, সেই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধেই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে যেমন ছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, তেমনি আমরা সক্রিয় সহায়তা পেয়েছিলাম। সারাবিশ্বের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের। এ কারণেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে একটা ছোটখাটো বিশ্বযুদ্ধ বলেও যদি আখ্যায়িত করি— তাতেই সম্ভবত বেশি একটা ভুল হয় না।

সেই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করেছি অবশ্যই। তবে একথাও না বলে পারছি না যে, জয়ের আনন্দে আমরা এমন অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম যে, আমরা ভুলে গিয়েছিলাম পরাজিত শত্রুদের প্রতিশোধ গ্রহণের বিষয়টি। আমাদের এরকম আত্মবিস্তৃতি আমাদের পরাজিত শত্রুদের সংহত হয়ে উঠতে সহায়তা করে। আমাদের অজান্তেই তারা নিজেদের শক্তিকে সংহত করে নিয়ে এক পর্যায়ে আমাদের বিজয়ের ফলকে অনেকটাই কেড়ে নিতে সক্ষম হয়। তাদের সেই সক্ষমতার প্রমাণেই অভিব্যক্ত হয়ে পড়ে আমাদের জাতির স্থপতির সপরিবারে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর পরেই দেখা গেল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়ে বসেছে সেই পরাজিত শক্তি। ওরা আমাদের অসাধারণ রাষ্ট্রীয় সংবিধানটিকে কেটে-কুটে বিকৃত করে ফেলে। পাকিস্তানি ভাবধারাকেই অনেকাংশে ফিরিয়ে আনে।

দীর্ঘ চার দশকের পরে আমরা উঠে দাঁড়িয়েছি। ঐ শত্রুদের বিচারের কাজ শুরু করেছি, দণ্ড প্রদানও করছি। আশা করা যাচ্ছে যে, বিজয়ের সমস্ত সুফল আমরা ফিরে আনতে পারবো। সেই সুফল ফিরে আনা মানে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠা। সেই প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রয়োজন আমাদের সংবিধানের চার মূল নীতিকে যথাযথভাবে কার্যকর করা, যে কোনোরূপ গোঁজামিলের আশ্রয় থেকে মুক্ত থাকা। প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিষ্ঠা করা। বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে না দেয়া। দেশের সকল নাগরিকের জন্য অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এরকমটি করতে পারলেই বলতে পারবো যে, আমাদের বিজয়ের পরিপূর্ণ প্রাপ্তি ঘটেছে।

[লেখক: প্রাবন্ধিক]

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন