চেয়ার আছে ক্ষমতা নেই
স্থানীয় সরকারে নারী প্রতিনিধিদের অবহেলার চিত্র
ইয়াসমিন পিউ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
চেয়ার আছে ক্ষমতা নেই। পদ আছে দায়-দায়িত্ব নেই। এই হলো স্থানীয় পর্যায়ে নারী আসনের প্রতিনিধিদের বাস্তব চিত্র। স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সকল নারী প্রতিনিধিদের একই অবস্থা। তারা জানেন না তাদের কাজ কি।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও ইউপি ও উপজেলা পরিষদের নারী সদস্যরা জনগণের জন্য তেমন কোনো কাজ করতে পারছেন না। প্রশাসনের নিম্নস্তর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যন্ত কেউই স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কথা মূল্যায়ন করেন না। বিয়ের অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী সভা, এমপিদের পাশাপাশি থাকা আর মিটিং করা ছাড়া তেমন কোনো কাজ নেই তাদের। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পদ্ধতি সংস্কার না করলে ইউপি মেম্বার থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের মহিলা কমিশনার, উপজেলা নারী ভাইস  চেয়ারম্যানদের দ্বারা কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আহমেদ বলেন, আমরা নারী বলেই প্রথমত বৈষম্যের শিকার হই। নারীদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয় প্রতি পদে পদে। আমাদের যাতায়াতের জন্য কোনো গাড়ির ব্যবস্থা না থাকায় রাতে কোনো দূরবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের সমস্যা হলে ইচ্ছে থাকলেও সেখানে যেতে পারি না। এক কথায় বলা যায়, চেয়ারম্যান কিংবা পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষমতা শতকরা ৯৯ ভাগ আর নারী ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বড় জোর ১ ভাগ। তিনি বলেন, স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে, তবে সেটা শুধু ‘মিটিং সিটিং’ এ সীমাবদ্ধ। আর মিটিংয়ে পুরুষরা যা বলবে তাই হবে, এটাই অলিখিত নিয়ম। 

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জোসনা খাতুন বলেন, আমাদের অর্থসংশ্লিষ্ট কোনো কাজ দেয়া হয় না। আমরা কেবল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সমাজকল্যাণমূলক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কাজ করে থাকি। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী ভাইস চেয়ারম্যানদের ট্রেনিং করার কথা থাকলেও তা এখনো হয়নি।

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন তাদের কোনো রকম মূল্যায়ন করা হয় না বলে অভিযোগ করে বলেন, আমরা কোনো প্রকল্পের কাজই করতে পারি না। অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতারও বলেন, সরকার নারীদের পোস্ট দিয়েছে কিন্তু অর্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজে ভূমিকা রাখার ক্ষমতা দেয়া হয়নি।

নারী ভাইস চেয়ারম্যানরা দাবি করেন, উপজেলার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য তৈরি ফাইলপত্রে ভাইস চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাদের স্বাক্ষর ছাড়া যেন কোনো কর্মকাণ্ড, আয়, ব্যয় না হয় এটা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন, দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হয় তাহলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের একক আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। সচিবালয় কিংবা সরকারি অফিসের মতো উপজেলা পরিষদের সব ফাইল নিম্নস্তর থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান পর্যন্ত উঠতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম কিংবা আর্থিক কেলেঙ্কারি বন্ধ হবে না। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, চেয়ারম্যানরা নারী ভাইস চেয়ারম্যানদের গুরুত্ব দেয় না।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন