৯ ডিসেম্বর প্রচারণা শুরু
পথসভার ৪৮ ঘণ্টা আগে অনুমতি লাগবে মংলা পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত
সাইদুর রহমান০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণা চালাতে পারেন না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর। আর ১৪ ডিসেম্বর থেকে বৈধ প্রার্থীদের প্রতীক                 বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষদিন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ পূর্বে প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আইনভঙ্গ করে কেউ প্রচারণা চালালে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থেই পৌর নির্বাচনে ঘরোয়া বৈঠকের জন্য প্রার্থীদের ২৪ ঘণ্টা আগে অনুমতি নেয়ার বিধান করা হয়েছে।

দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনের কারণে এবার প্রার্থী ও দলের ক্ষেত্রে আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে দলকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থীকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা ৬ মাসের জেলসহ প্রার্থিতা বাতিলও করতে পারবে ইসি।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইনানুযায়ী দল ও প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না, শুধু পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে পারবেন তারা। পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে চাইলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থান ও সময় জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। নেই মিছিল (শোভাযাত্রা) বের করারও সুযোগ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের প্রচারের পাশাপাশি বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় নির্ধারিত সংখ্যক মাইকে প্রচার চালানো যাবে। সরকারি সুবিধাভোগী ‘অতিগুরুত্বপূর্ণ’ প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, চিফ হুইপ, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপ-মন্ত্রী বা তাদের সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

যদিও বিদ্যমান আচরণবিধিতে দলীয় প্রধানদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের প্রচার কাজে ব্যবহারের জন্য হেলিকপ্টার নেয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে দলীয় প্রধান অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলে প্রচারণার সুযোগ পাবেন না। দলীয় প্রধানদের প্রচার চালানোর সুযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, এটা আইনে স্পষ্ট করা আছে। আচরণবিধির এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এটা ভুল না। এটা একটা বিষয়ের পরিমাপ করা। এটাই তো শেষ নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রয়োগ করা হবে। এখন যদি দেখা যায় কোনো বিষয় সঠিক হচ্ছে না, তখন সামনের নির্বাচনের এধরনের ক্রটি সংশোধন করা হবে।

প্রচারণায় থাকছে যেসব নিষেধাজ্ঞা

পৌর নির্বাচনের আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে সড়কে পথসভা করা যাবে না, বানানো যাবে না মঞ্চও। কোনো প্রার্থী প্রতিপক্ষের পথসভা ও ঘরোয়া সভায় বাধা দিতে পারবে না। দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ও দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টারে রাখতে পারবেন, তবে রঙিন পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কিংবা প্রার্থনা বা ‘বিশেষ ভঙ্গির’ ছবিও পোস্টারে দেয়া যাবে না। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় পাঁচজনের বেশি সমর্থককে সঙ্গে নেয়া যাবে না। মেয়র প্রার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্বাচনী ক্যাম্প, কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতি ওয়ার্ডে ক্যাম্প করতে পারবেন।

এছাড়া ভোটের প্রচারে সার্কিট হাউজ ব্যবহার, জীবন্ত প্রতীক ব্যবহার, তোরণ নির্মাণ ও দেয়াল লিখন, যানবাহন নিয়ে মিছিল-শোডাউন, বিলেবোর্ড ব্যবহার ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে বিধি-নিষেধ রয়েছে। সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতে কর্তৃত্ব এবং এ সংক্রান্ত সভায় প্রার্থীদের যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে যেমন বিধি-নিষেধ দেয়া হয়েছে, তেমনি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নির্বাচনী এলাকায় সরকারি প্রকল্প অনুমোদন, ফলক উন্মোচন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যাবে না। পৌর মেয়র, কাউন্সিলর বা অন্য কোনো পদাধিকারী অনুমোদিত প্রকল্পের অর্থও অবমুক্ত করতে পারবেন না।

ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব সামসুল আলম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল, দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আচরণবিধি অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের একটি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। নতুন আইন-বিধি পাঠানো হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও।

মংলা পৌর নির্বাচন স্থগিত

এদিকে শুরুতে ২৩৪ পৌরসভার তফসিল ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে গাজীপুরের শ্রীপুর ও রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভা নির্বাচনের তালিকায় যুক্ত করা হয়। গতকাল হাইকোর্টের আদেশে বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি অনুমোদন হয়। এরপর বিকালের দিকে তা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

ইসির আইন শাখার কর্মকর্তারা জানান, সীমানা সংক্রান্ত এবং ভোটার সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে গত ১৮ নভেম্বর নির্বাচনের সব কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন আদালত। আর ইসি তফসিল ঘোষণা করে ২৪ নভেম্বর। আদালতের আদেশটি তফসিল ঘোষণার আগে না পৌঁছানোর কারণে মংলা পৌর নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছিল; কিন্তু আদেশ পাওয়ার পর কমিশন সে নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এখন ২৩৫টি পৌরসভায় ভোট হবে। ইসিতে নিবন্ধিত অন্তত ২২টি দল ইতোমধ্যে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন