ফাইনালে টাইগাররা
দেবব্রত মুখোপাধ্যায়০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
ফাইনালে টাইগাররা
গর্জন, আলোর খেলা এবং ভুবন মাতানো দোলা। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম তখন জনসমুদ্র। পর্দায় মাঝে মাঝে ভেসে উঠছে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকৃত্রিম হাস্যোজ্জল মুখ। সাথে সাথে জনসমুদ্রে উল্লাসের জোয়ার উঠছে। এই বাড়তি উল্লাসের আরেকটা কারণ আছে। বলা হয়, প্রধাণমন্ত্রী স্টেডিয়ামে আসলে বাংলাদেশ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

গতকালও ব্যতিক্রম হলো না। বাংলাদেশের আরেকটা ঐতিহাসিক জয়ের স্বাক্ষী হলেন তিনি। কেবল ঐতিহাসিক নয়, অনন্য এক জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটের এই জয়ে বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে চলে গেলো। সেই সাথে প্রথমবারের মতো কোনো টি-টোয়েন্টি টূর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলো মাশরাফির দল। কারণ, আগের এশিয়া কাপগুলো ছিলো ওয়ানডে ফরম্যাটে।

শেষ পর্যন্ত এই জয়টা এলো সৌম্য সরকারদের ব্যাটে চেপে। পাকিস্তানের ছুড়ে দেওয়া ১৩০ রানের লক্ষে ছুটতে গিয়ে কখনোই সেভাবে হোচট খেতে হয়নি বাংলাদেশকে। তামিম শুরুতে আউট হয়ে গেলেও অসামান্য এক ফ্লিকে মোহাম্মদ আমিরকে ছক্কা মেরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, দিনটা আমাদের।

এরসর সাব্বিরকে সাথে নিয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়েন সৌম্য সরকার। সাব্বির ১৪ রান করে ফিরে গেলে মুশফিককে নিয়ে শুরু হয় সৌম্যর পাল্টা আক্রমণ। এরপরও শুরু হয়েছিলো টানটান এক উত্তেজনা। মুশফিক ও সাকিব আউট হয়ে যাওয়ায়ই বিপাক। তখনই মাঠে নামলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নেমেই আমিরকে পরপর দুটো চার মেরে এবং ১৯তম ওভারে রিয়াদ ও মাশরাফি ১৫ রান তুলে নিয়ে সব হিসেব মিটিয়ে দিলেন। ২০তম ওভারের শেষ বলে চার মেরে রিয়াদ জয় নিশ্চিত করলেন। 

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। এশিয়া কাপের অন্যান্য ম্যাচে উইকেটে ঘাস থাকলেও এই ম্যাচে একদমই ঘাসহীন ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিলো। সেখানেই বাংলাদেশকে দারুন শুরু এনে দেন বোলাররা।

তাসকিন নিজের প্রথম ৩ ওভারে ১ মেডেন নিলেন, ১টা উইকেট নিলেন; রান ব্যয় করলেন মাত্র ২টি। তবে প্রথম আঘাতটা যথারীতি করেছিলেন আল আমিন হোসেন; ফিরিয়েছিলেন খুররম মঞ্জুরকে। এরপর মোহাম্মদ হাফিজকে এলবিডব্লু করে ফেরান নিজের প্রথম ওভারে মাশরাফি বিন মুর্তজা। নিজের প্রথম ওভারে আঘাত করেন আরাফাত সানিও। সাথে ‘কৃপণ’ তাসকিন হাত মেলানোয়, ৮.২ ওভারে ২৮ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের এই রানের শোচনীয় অবস্থা ১২ ওভার পর্যন্তও চলমান ছিলো। ১২ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ছিলো ৪ উইকেটে ৪৬।  মানে, ওভারপ্রতি ৩.৮৩ করে। আর এ সময় থেকেই পাকিস্তানের রানের চাকাটা ঘোরাতে শুরু করেন উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া শোয়েব মালিক ও শরফরাজ আহমেদ।

এই দু জনের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ৮.২ ওভারে ৭০ রান তোলার পর; মানে জুটিতে ৮.৪০ করে রান তোলেন দু জন। একটা সময় মনে হচ্ছিলো, অবিচ্ছন্ন থেকেই তারা টেনে নিয়ে যাবেন পাকিস্তানকে। কিন্তু আরফাত সানি নিজের শেষ ওভারে এসে আঘাত হানেন। তুলে নেন ৩০ বলে ৪১ রান করা মালিকের উইকেট।

শেষ ৭ ওভারে ৭৫ রান উঠেছে স্কোরবোর্ডে। আল আমিন অবশ্য এই সময়ে নিজেকে আরও শানিত করে ফেলেন। তুলে নেন আরও ২ উইকেট। সবমিলিয়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন