শূন্য থেকে বাংলাদেশের উন্নতি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে
ইত্তেফাক কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট
বিশেষ প্রতিনিধি০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
শূন্য থেকে বাংলাদেশের উন্নতি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বলেছেন, শূন্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যে পরিমাণ উন্নতি করেছে তা খুবই ঈর্ষণীয়। দুই দশক ধরে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, গড় আয়ু, মাথাপিছু আয়, উত্পাদন, আর্থ-সামাজিক খাতের উন্নয়ন খুবই উত্সাহব্যঞ্জক। এখানকার মানুষ সৃজনশীল। কষ্ট ও বিবাদকে জয় করে এগিয়ে যাবার ক্ষমতা রাখেন। গতকাল বুধবার বিকালে কাওরান বাজারে ইত্তেফাক কার্যালয় পরিদর্শনে এসে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময়কালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও এর ভবিষ্যত্ সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাধা, বিপত্তি ও শঙ্কা সত্ত্বেও এদেশ অনেক এগিয়ে, সামনে আরো এগুবে। দিব্যি চোখে দেখছি বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, প্রকাশক ও কার্যনির্বাহী পরিচালক তারিন হোসেন মতবিনিময়ে অংশ নেন।

মার্শা বার্নিকাট বলেন, আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ভাল। জনগণের অফুরন্ত কর্মশক্তি প্রয়োগ করে দেশ উন্নতির অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। জনগণ সজাগ ও শক্তিবান থাকলে বাধাগুলো রোধ করা সম্ভব। গণতন্ত্র চর্চাও এতে সুগম হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের অবাধ অংশগ্রহণ থাকলে সমাজ বিরোধী ও দুষ্কৃতকারীরা পিছিয়ে যাবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই সোচ্চার এক্ষেত্রে। শক্ত হাতে দমন করছেন। এখানে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর অস্তিত্ব, আল-কায়েদার তত্পরতা ও জেএমবি পুনরুজ্জীবনের ব্যাপারে আরো সজাগ থাকা দরকার। বাংলাদেশে জঙ্গিগোষ্ঠীর সর্বশেষ ১২টি ঘটনাই আইএস নিজ থেকে দায় স্বীকার করেছে। সাইট, ওয়েবসাইটে গুলশান কূটনৈতিক এলাকার ছবি পর্যন্ত এসেছে। নিরীহ ও সহজ-সরল পরিবারগুলোকে সহজেই আইএস মন ভুলিয়ে দিতে পারে। সাইবার প্রযুক্তিতে ওরা বেশ অগ্রগামী। একই পরিবারের একাধিক সন্তান বই পড়া, স্কুল বাদ দিয়ে ওই দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। এসব উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর আক্রমণের লক্ষ্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলো। গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ও উদার সমাজ আছে— এমন দেশে ওরা আক্রমণ চালাচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতন্ত্র খুবই কঠিন একটি বিষয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে এখানে বহু মত আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে উত্সাহিত করে। জনগণ ব্যাপকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে বাধাগুলো দূর হবে।

মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে আমার বয়স ছিল ১৮ বছর। কলেজে পড়ার সময় পৃথিবীতে কোন দিন সফল হবে না এমন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে বলা হত। হেনরি কিসিঞ্জারের বাংলাদেশকে নিয়ে ‘ঝুড়ি তত্ত্ব’ জেনেছি। কিন্তু আজ বাংলাদেশ তা মিথ্যা প্রমাণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রেসিডেন্ট ওবামার একাধিক বিশ্বব্যাপী কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত হয়েছে।’

‘ফিড দি ফিউচার্স’ কর্মসূচি বাংলাদেশ থেকেই নেয়া।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রশংসা করে মার্শা বার্নিকাট বলেন, সম্প্রতি গার্মেন্টস শিল্পে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অনেক পোশাক কারখানা দেখার মতো। আমি বেশ কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখেছি। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। রানা প্লাজার অভিজ্ঞতায় অগ্রগতি ভাল। প্রতিটি পক্ষ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ দ্বিগুণ পরিমাণ পোশাক রফতানি করবে এটা আমরা চাই। বাংলাদেশকে শর্তগুলো পূরণ করে আরো উন্নতি করতে হবে।

মতবিনিময়কালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের পরিবেশ ও প্রযুক্তি বিষয়ক অফিসার মিস ক্যাথেরিন সিজরেভস উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিষ সৈকত, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক অশোক সিংহ, বিশেষ প্রতিনিধি মাঈনুল আলম, শ্যামল সরকার, জামাল উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, সিনিয়র রিপোর্টার শামসুদ্দীন আহমেদ প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন