পুলিশের গুলিতে ৯ জঙ্গি নিহত
কল্যাণপুরের আস্তানায় অস্ত্র-গোলাবারুদ ও আইএসের পতাকা উদ্ধার এক জঙ্গি আটক, পালিয়েছে আরেকজন
পুলিশের গুলিতে ৯ জঙ্গি নিহত
রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গিদের একটি আস্তানায় সোমবার রাতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। টের পেয়ে পুলিশের উপর গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জঙ্গিরা। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। অস্ত্র-বোমা নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে জঙ্গিরা। এক পর্যায়ে পুলিশের বিশেষায়িত টিম সোয়াত ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে অভিযান চালায়। এই অপারেশনে পুলিশের গুলিতে মারা যায় ৯ জঙ্গি। ধরা পড়ে একজন। একজন পালিয়ে গেছে। কল্যাণপুরের ওই ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে ১১ জন জঙ্গি অবস্থান করছিল। পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রীসহ ওই ভবনের ৪২ জনকে আটক করে নিয়ে গেছে। প্রাথমিক তথ্যে পুলিশ জানতে পেরেছে, মিরপুর বাঙলা কলেজের ভুয়া আইডি কার্ড দেখিয়ে ফ্লাটটি ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা। মাস খানেক আগে গত ২০ জুন এই ফ্লাটে ওঠে তারা। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে ৮ জনের পায়ে কেডস্ পরা ছিল। পোশাকও ছিল কালো। এদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এরা সবাই উচ্চ শিক্ষিত বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন, গুলশানের হামলাকারীদের সঙ্গে এদের মিল রয়েছে। তবে এরা আইএস নয়, দেশীয় জেএমবির সদস্য। এরা বড় হামলার পরিকল্পনা করছিল। এদের দেখে মনে হয়েছে, এরা উচ্চ শিক্ষিত। পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে হাসান নামে এক জঙ্গি। কমিশনার বলেন, কল্যাণপুরের ওই বাড়িতে থাকা ১১ জঙ্গির মধ্যে ৯ জঙ্গির নাম জানা গেছে। তারা হল- রবিন, সাব্বির, তাপস, অভি, আতিক, সোহান, ইমরান, ইকবাল ও হাসান। এদের মধ্যে হাসান গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। সে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিত্সাধীন। অন্য ৮ জন মৃত। এদের নাম হাসানই জানিয়েছে। তবে এদের পুরো পরিচয়ের ব্যাপারে হাসান বিস্তারিত কিছু বলতে পারেনি। সে সুস্থ হলে অনেক কিছুই জানা যাবে।

ঢাকা মেডিক্যালে হাসান সাংবাদিকদের জানায়, সে জঙ্গিদের বাবুর্চি হিসেবে কাজ করত। এক মাস আগে তাকে ওই বাসায় কাজে নিয়ে আসে। তার কাজ ছিল ওই মেসের ১০ জনের রান্না করা। তাকে বাসার বাইরে বের হতে দিত না। পুলিশের অভিযান চালানোর সময় তৃতীয় তলা থেকে সে পাশের একটি টিনশেড বাড়ির উপর ঝাঁপ দেয়। তার সঙ্গে মেসের আরো একজন ছিল। সে পালিয়ে গেছে। হাসান জানায়, তার বাড়ি বগুড়ায়। বাবা মৃত রেজাউল করিম। বগুড়ার সরকার শাহ সুলতান কলেজ থেকে গত বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে হাসান।

স্থানীয় ১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম কিবরিয়া পিয়াস ইত্তেফাককে বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীর কল্যাণপুরের বিভিন্ন বাড়ির মেসে তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। মেসের বাসিন্দারা পুলিশ কর্তৃক সরবরাহ করা ভাড়াটিয়া ফরম পূরণ করেছে কি-না, মেসের সদস্যরা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য মূলত এ অভিযান শুরু হয়। পুলিশের কাছে মেস-বাসা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় মিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতার জন্য আমরাও অভিযানে যোগ দেই। রাত ১০টার পর ৬নং সড়কের কয়েকটি মেসে তল্লাশি অভিযান শেষে ১২টার দিকে ৫নং সড়কের ছয়তলা বিশিষ্ট ‘জাহাজ বিল্ডিং’ বাসায় অভিযান শুরু হয়।’ তিনি বলেন, রাত ১২টা ১০ মিনিটে ওই বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় পুলিশ উঠলে হঠাত্ একটি গুলির শব্দ শুনতে পাই। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বেশ কয়েকটি গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। পাঁচতলা থেকে দু’জন পালানোর চেষ্টা করলে হাতেনাতে হাসান নামে এক জঙ্গিকে পুলিশ আটক করে। আরেকজন পালিয়ে যায়। জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় কল্যাণপুরের আরেকটি সড়ক থেকে ব্যাগ হাতে ১০/১২ যুবককে এলাকা ছাড়তে দেখেছেন লোকজন।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মিরপুর মডেল থানা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আল্লাহ আকবর শ্লোগান দিয়ে জঙ্গিরা বোমা ও গুলি ছুড়লে অল্পের জন্য আমরা রক্ষা পাই। তবে জাহাজ বিল্ডিংয়ের পাঁচতলা থেকে গুলি ছোড়া হলে মিরপুর থানার এক এসআইয়ের হাতে লাগে। বুলেট গ্রুফ জ্যাকেট থাকার কারণে ওই পুলিশ সদস্য রক্ষা পান। রাত সোয়া ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের গোলাগুলি হয়। আটক জঙ্গি সদস্যর কাছ থেকে একটি চাকু পাওয়া যায়। তাতে সিরিয়া লেখা ছিল। আটক জঙ্গি সদস্য প্রাথমিকভাবে আমাদের জানান, পাঁচতলায় তাদের আরো নয়জন সদস্য রয়েছে।

ওই বাসার একজন ভাড়াটিয়ার নাম শাহীন। ঘটনার সময় তিনি বাইরে ছিলেন। পরে শাহীন তার বাবা জহুর আলীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। বাবাকে উদ্ধৃত করে তিনি জানান, পুলিশ ভবনের তিন তলা পর্যন্ত উঠলেই উপর থেকে জঙ্গিরা হামলা চালায় পুলিশের ওপর। শাহীন আরো জানান, তিনি ওই ভবনে ভাড়া থাকলেও জানতেন না এই ভবনে জঙ্গি রয়েছে। জঙ্গি আস্তানার আশপাশের বাসিন্দা বাসিন্দারা কেউই স্কুল, কলেজ বা অফিস যেতে পারেননি।

ভোর রাত ৫টা ৫১ মিনিটে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াত অপারেশন শুরু করে। তখন মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঠিক ৬টা ৫১ মিনিটে গুলির শব্দ থেমে যায়। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান ভবন থেকে বেরিয়ে এসে জানান, অপারেশন শেষ। অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

পুলিশের ওপর হ্যান্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ঃ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করলে জঙ্গিরা আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে পুলিশকে প্রতিহত করা শুরু করে। তারা পুলিশের ওপর গুলি ও হাত বোমা নিক্ষেপ করে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে এক জঙ্গি গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে আহতাবস্থায় আটক করে পুলিশ। অভিযান চালানোর পরে ওই ভবন থেকে পুলিশের ওপর একটি হ্যান্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করা হয়। এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১টার পর থেকে ওই বাড়িটি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে  রেখেছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কল্যাণপুর মেইন রোড থেকে ৫ নম্বর রোডের চারপাশে এক-দেড় কিলোমিটার এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক গাড়ি মোতায়েন করা হয়। জাহাজ বিল্ডিংয়ের পাশের ভবনগুলোর ছাদে অবস্থান নেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থলের আশপাশের সবকটি সংযোগ সড়কেও ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হাসানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তখন জানানো হয় ভোরের সূর্য উঠলেই অভিযান শুরু হবে।

ঘটনাস্থলে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার ঃ সকাল সাড়ে ৭টায় পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর আসেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আইজি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কল্যাণপুরের নিহত জঙ্গিরা জেএমবি’র সদস্য। তারা নিজেদের বলে আইএস। আমরা বলি জেএমবি। তারা  গুলশান হামলার জঙ্গিদের মতোই কালো পোশাক পরা ছিল। তাদের মাথায় ছিল পাগড়ি। তারা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। আমাদের কারণে সেটা তারা পারেনি।’

ছয়তলা বিশিষ্ট ‘জাহাজ বিল্ডিং’ ঃ রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়িটির নাম তাজ মঞ্জিল হলেও জাহাজ বিল্ডিং নামেই বেশি পরিচিত। ছয়তলা বিশিষ্ট এই ভবনের দোতলায় থাকেন বাড়িওয়ালা। বাড়ির বর্তমান মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অ্যাডভোকেট জুয়েল। বাড়িটির তিন তলায় ফ্যামিলি ভাড়া দেওয়া হয়। চার ও পাঁচ তলায় মেস। ছয় তলা ফ্যামিলি ও মেস রয়েছে। ভবনটির প্রতিটি তলায় ৪টি করে ইউনিট রয়েছে। গত ২০ জুন ভবনটির ৫ তলা একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা।

কালো পোশাকে জঙ্গিদের লাশ : কল্যাণপুরের সেই জঙ্গি আস্তানায় মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালানোর পর বাড়িটি পুলিশ প্রহরায় রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরেনসিক বিভাগের লোকজন ও পুলিশ বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পুলিশের তোলা ছবিতে মেঝেতে পড়ে থাকা জঙ্গিদের গায়ে কালো পোশাক দেখা গেছে। তাদের কারো কারো মাথায় পাগড়িও দেখা গেছে। ছবিতে ঘরের ভেতর ও সিঁড়িতে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তাদের পরনে ছিল কালো পায়জামা-পাঞ্জাবি। মেঝেতে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। ঘরের ভেতর আসবাবপত্র বিশেষ কিছু নেই। একটি প্লাস্টিকের তাক রয়েছে তাতে কিছু বই রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে তোশক, বালিশ ও চাদর। আসবাবপত্র না থাকলেও বাসায় ১০-১২টি ব্যাগ ও ব্যাগপ্যাক রয়েছে। 

ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যালে : কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে নিহত জঙ্গিদের লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রথম অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয় চারটি মরদেহ। দ্বিতীয় অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানো হয় দুটি লাশ। তৃতীয় অ্যাম্বুলেন্সে তিনটি মরদেহ। মোট ৯টি লাশ ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। 

জঙ্গি আস্তানা থেকে অস্ত্র, গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধার : কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে অপারেশন স্টর্ম-২৬ নামের অভিযান শেষে মঙ্গলবার দুপুরে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২২টি গুলি, ২৩টি গ্রেনেড ও ৫ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী। এর মধ্যে ভবনটির ৫ম তলায় কথিত জঙ্গি আস্তানা থেকে ৩টি পিস্তল এবং এর পাশের ভবনের ছাদ থেকে আরেকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আরো কিছু জিহাদি বই, কালো পোশাক, কালো পতাকা ও আরবি ভাষায় লেখা আইএসের পতাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বাড়িওয়ালা ও তার মাসহ ৪২ জন আটক : কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে তাজ মঞ্জিল নামের ভবনটিতে মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালানোর পর দুপুরে ভবনটি থেকে ৩ নারী ও দুটি শিশুসহ ৪২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিরপুর থানায় নিয়ে গেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে ভবনটির মালিক ও তার মাও রয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের থানায় নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বাড়ির বর্তমান মালিক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অ্যাডভোকেট জুয়েল, তার মা মমতাজ বেগম এবং কেয়ারটেকার। এ ছাড়াও ভবনটির বিভিন্ন তলা থেকে যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লামা ইকবাল অনিক, আশিক, শাহাবুল ও কামরুল। জানা গেছে, বাড়ির মালিক জুয়েল ঈদের আগে দেশে ফিরে আসেন। এ ছাড়াও আল্লামা ইকবাল অনিকের বাড়ি কুড়িগ্রামে, আশিক শ্যামলী পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ২য় বর্ষের ছাত্র, শাহাবুলের বাড়ি দিনাজপুর। তিনি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবং কামরুল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, তিনি মিরপুরের একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। অন্যদের ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।  

পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে সাতজনের লাশ পাওয়া গেছে পঞ্চম তলার করিডোরে, দুজনের লাশ ছিল দুটি কক্ষে। সকালে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায় পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, দোকানপাট বন্ধ। ওই বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে বা  বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন