বুড়িগঙ্গা থেকে ডাচ-বাংলা চেম্বারের সভাপতির লাশ উদ্ধার
কেরানীগঞ্জ সংবাদদাতা২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
বুড়িগঙ্গা থেকে ডাচ-বাংলা চেম্বারের সভাপতির লাশ উদ্ধার
নিখোঁজের তিন দিন পর ডাচ-বাংলা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিবিসিসিআই) সভাপতি হাসান খালেদের ভাসমান লাশ কামরাঙ্গীর চর থানাঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ উদ্ধার করে। পরে নিহত হাসান খালেদের ছোট ভাই মুরাদ হাসান ঘটনাস্থলে এসে তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি বলেন, পরনের কাপড়, হাতঘড়ি, গাড়ির চাবি, জুতা ও পরনের পোশাক ইত্যাদি দেখে আমরা নিশ্চিত হয়েছি এটি আমার বড় ভাই হাসান খালেদের লাশ। তবে কি কারণে তার ভাই নিখোঁজ ও পরে তার লাশ নদী থেকে উদ্ধার হয়, এই মুহূর্তে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোঃ ইলিয়াস মিয়া লাশটি উদ্ধার করে থানাঘাট এলাকায় নিয়ে আসেন। এসময় ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি তদন্ত ও জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। হাসান খালেদের নিখোঁজের ব্যাপারে গত ২৪ জুলাই তার শ্যালক শরীফুল আলম ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন। যার ডিজি নম্বর ১০৫৫।

হাসান খালেদের নিখোঁজের জিডির ব্যাপারে ধানমন্ডি থানার ওসি নুরে আযম মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার সকালে ধানমন্ডির ৪/এ রোডের ৪৫ নম্বর বাসা থেকে তিনি ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যে বের হন। এর পরপরই তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়। পরে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। এই জিডি করার পর পুলিশ নিখোঁজ হাসান খালেদের পরিবারের সকল সদস্যকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একই সঙ্গে ইস্কাটনে তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়ছে। অপরদিকে তার অবস্থান জানার জন্য প্রযুক্তির সহযোগিতা নেয়া হয়েছে, তবে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার সর্বশেষ অবস্থান ওই বাসার নিচতলা নির্দেশিত হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে বেলা ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পকেটে থাকা ভিজিটিং কার্ড পেয়ে এটি নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাসান খালেদের বলে সন্দেহ হয়। পরে ভিজিটিং কার্ডে থাকা অফিসের টেলিফোন নাম্বারে যোগাযোগ করে লাশের খবর জানানো হয়। এরপর নিহতের ছোট ভাই মুরাদ হাসান, তার অফিসের নিউ ইরা ট্রেডিংয়ের ম্যানেজার অপারেশন কেএম রিয়াদ ফয়সাল ও অন্য স্বজনরা এসে   হাসান খালেদের লাশ শনাক্ত করেন। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।

নিহতের মামা হুমায়ুন কবীর বলেন, আমার ভাগ্নে ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের  ছিলেন। ধানমন্ডির ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাসবাস করতেন তিনি। কাছেই জিগাতলায় পৈত্রিক বাড়িতে থাকেন তার অন্য ভাইয়েরা। তার পিতার নাম মোঃ মোহসীন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার পূর্ব জয়পুর গ্রামে। নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদাউস হোসেন জানান, প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার প্যান্টের পকেটে থাকা ভিজিটিং কার্ড থেকে স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারা এসে লাশ শনাক্ত করেন। তিনি আরো জানান, কয়েকদিন পানিতে থাকায় মরদেহে পচন ধরে ফুলে গেছে। ফলে আঘাতের চিহ্ন আছে কি না বোঝা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পরপরই গুমের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা লাশটি নদীতে ফেলে গেছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন