জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখুন
আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী
ফারাজী আজমল হোসেন২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ এলাকায় দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের জরুরি বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলে শুধু জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি গঠনই নয়, সত্যিকার অর্থে কমিটিগুলোকে কার্যকর এবং একইসঙ্গে জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও তাদের মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্স খুঁজে বের করে একে পুরোপুরি দমন করতে বদ্ধপরিকর। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এখন থেকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের জন্যও দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ২ বছর ৩ মাস বাকি। এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দশম সংসদের ১১তম অধিবেশন শেষ হচ্ছে। অধিবেশন শেষে সংসদ সদস্যদের এলাকায় গিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো বুকলেট আকারে তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে মনোযোগী হতে হবে।

এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাদের সাহস জোগাতে হবে। চলমান উন্নয়ন কাজগুলো তদারক করে এগুলো এগিয়ে নিতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এখন জরুরি। দেশে যাতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে, মানুষ নিরাপদ থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংসদ সদস্যের পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সজাগ ও সতর্ক থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে এই শান্তির ধর্মের প্রকৃত ব্যাখ্যা জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাতে হবে। শোলাকিয়ার খতিব ফরিদ উদ্দিন মাসউদের নেতৃত্বে দেশের এক লাখ আলেমের যৌথ বিবৃতিও দেশজুড়ে প্রচার করতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদেরও পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কেউ আর যাতে ইসলামের নামে জঙ্গিবাদে যুক্ত না হয়, বিপথে না যায়—অভিভাবক ও শিক্ষকদের সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

এমপিদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিং সৃষ্টি না করার নির্দেশ দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী এ বছরই অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, দেশে অল্প সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সরকার এ পর্যন্ত সফলভাবেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করছে। যে কোনো ঘটনা ঘটার পর পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী স্বল্পতম সময়ে সেগুলো দমন করেছে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সরকার দলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. হাছান মাহমুদ, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, বিএইচ হারুণসহ কয়েকজন এমপি বক্তব্য রাখেন। তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন