আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জালে অর্ধশত জঙ্গি
*এদের মধ্যে ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা *খালিদ ও জাহাঙ্গীর দুই অঞ্চলের সামরিক প্রধান
আবুল খায়ের০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জালে অর্ধশত জঙ্গি
দেশে হঠাত্ জঙ্গি তত্পরতা বেড়ে যাওয়ায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। গুলশানে ও শোলাকিয়ায় জঙ্গিরা পরপর দু’টি হামলার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী করছেটা কি? এমন প্রশ্নও তুলছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্লেষকরাও। ইত্তেফাকের পক্ষ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দফতরে কথা বলে জানা গেছে, দেশের এমন পরিস্থিতিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই। তাদের একের পর এক অভিযান ব্যর্থ হয়নি। এসব অভিযানে অন্তত অর্ধশত জঙ্গি তাদের জালে এসেছে। এদের মধ্যে ১১ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাও রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে এসব জঙ্গিকে জনসম্মুখে হাজির করা হবে। জঙ্গিদের নেটওয়ার্কে হাত দিতে পেরেছেন বলেও দাবি গোয়েন্দাদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের ৬৪ জেলাকে জেএমবি ৮টি সামরিক ভাগে ভাগ করে একেক জন করে সামরিক কমান্ডারকে দায়িত্ব দেয়। এর বাইরে হিযবুত তাহ্রীর ও আনসার আল ইসলামের পৃথক নেতৃত্ব রয়েছে। কোথাও কোথাও জেএমবি, হিযবুত ও আনসার আল ইসলাম একসঙ্গেও কাজ করেছে। একই ব্যক্তি বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন দু’জন হলেন- খালিদ হাসান ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে টাইগার ওরফে সুভাষ ওরফে আদিল। এ দু’জনের একজন দিনাজপুর অঞ্চলে এবং অপরজন রংপুর অঞ্চলের সামরিক বিভাগের দায়িত্বে আছেন। এই দু’জনের নেতৃত্বে অন্তত অর্ধ ডজন ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “আমরা ভেতরে ভেতরে কিছু কাজ করছি, যা এখনই বলা যাচ্ছে না। আর জঙ্গিদের কোন একজনকে ধরলেই তাদের  নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানা যায় না। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ের জঙ্গি সদস্যদের এমনভাবে মগজধোলাই করা হয়, গ্রেফতারের পর তারা মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত, তবুও কোন তথ্য দেয় না। ফলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক খুঁজতে একজনকে আটকের পর তার সঙ্গে আরেকজনের তথ্য মিলিয়ে ‘মালা গাঁথার মত করে’ সামনে এগুতে হয়। ফলে এতে করে অনেক সময় চলে যায়। বাইরে থেকে মনে হয়, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কোন কাজই যেন করছে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেক জঙ্গিই আমাদের নেটওয়ার্কে মধ্যে আসলেও তাকে ধরা হয় না, দেখা হয়। তার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করতে হয়। একটা পর্যায়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তখন সবাই বিষয়টা জানতে পারে।”

অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, পর্যবেক্ষণে থাকা বা জালের মধ্যে এসেছে এমন জঙ্গির সংখ্যা অন্তত অর্ধশত। এদের মধ্যে ১১ জন নেতাও রয়েছে যারা বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্বে আছেন। এমন দু’জন নেতা খালিদ হাসান ও জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে টাইগার ওরফে সুভাষ ওরফে আদিল। তাদের হাতেই খুন হয়েছেন অর্ধ ডজন ব্যক্তি। 

রংপুর অঞ্চলের সামরিক প্রধান জাহাঙ্গীর আলম। তার বাবা মৃত ওসমান গনি মন্ডল। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায়র পশ্চিম রাঘবপুরে তার জন্ম। তবে গত ৫ বছর ধরে সে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মালঞ্চা গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, পশ্চিম রাঘবপুরে তার বৃদ্ধ মা থাকেন। জাহাঙ্গীর মায়ের কোন খোঁজও নেন না, খেতেও দেন না। ভিক্ষা করে চলেন তার মা। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে জাহাঙ্গীর মালঞ্চা চলে আসেন। ওসি বলেন, নিখোঁজের তালিকায় তার নাম আছে। তাকে ধরতে অভিযানও হয়েছে। পুলিশ এখনো তাকে খুঁজছে। নিয়মিত তার ব্যাপারে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

আমাদের গোবিন্দগঞ্জ প্রতিনিধি মালঞ্চা গ্রামে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেন, ৫ বছর আগে জাহাঙ্গীর সেখানে আসার পর জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। মাঝে মধ্যে রিক্সা চালাতেন, মিস্ত্রির কাজও করতেন। তার চাল চলনে এলাকাবাসীর সন্দেহ হতো। মাঝে মধ্যে তিনি মসজিদে বয়ান দিতেন। তবে গত এক বছর যাবত তাকে এলাকায় দেখা যায় না। সর্বশেষ এক মাস আগে তার বাড়িতে একটা গোপন বৈঠক হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে বৈঠককারীরা গ্রেনেড ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে রানা নামে এক জঙ্গি মারা যায়। বর্তমানে খালি পড়ে আছে বাড়িটি। পরিবারের সদস্যরাও লাপাত্তা। দুই সন্তানসহ তার স্ত্রী কোথায় আছে সে ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

এই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বেই রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসিও কুনি হত্যা, কাউনিয়ায় পীর রহমত উল্লাহ হত্যা, বাহে সম্প্রদায়ের রুহুল আমিন হত্যা চেষ্টা, দিনাজপুরের ডা. বীরেন্দ্র হত্যা, টাঙ্গাইলে দর্জি নিখিল হত্যা ও কুষ্টিয়ায় হোমিও চিকিত্সক সানাউলকে হত্যা করা হয়েছে। ভয়ঙ্কর এই জঙ্গি নেতা এখন গোয়েন্দাদের জালের আওতার মধ্যেই আছেন বলে জানা গেছে।

দিনাজপুর এলাকার সামরিক কমান্ডার খালিদ হাসান। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায়। এই খালিদও পুলিশের খাতায় নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোয়েন্দাদের জালের আওতাতেই আছেন খালিদ। যে কোন সময় তার সম্পর্কে তথ্য জানা যাবে। তার নেতৃত্বেই দিনাজপুর সদরের ক্যাথলিক চার্চের ফাদার ইতালির নাগরিক ডা. পিয়োরো পিচং হত্যার চেষ্টা হয়। পাশাপাশি দিনাজপুরের কাহারুলে স্কন মন্দিরে হামলা ও কান্তাজিউ মন্দিরের রাশ মেলায় হামলা হয়েছে। এসব হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন