প্যাকেজ ভ্যাটের স্থায়ী সমাধান চান ব্যবসায়ীরা
অন্যথায় সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা প্যাকেজ ভ্যাট দিতে গেলে জমা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো ভ্যাট কর্মকর্তারা টার্নওভার ট্যাক্সের দাবিতে ব্যাংক হিসাব তলব করছেন। খাতাপত্র জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি উপেক্ষা করে প্যাকেজ ভ্যাট হার অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে বাজেট পরবর্তী এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। প্যাকেজ ভ্যাট হার কমিয়ে নতুন ভ্যাট আইনে অন্তর্ভুক্তের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরাম। দাবি মানা না হলে ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা নেতারা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা ও দোকান খাতে প্রতিবন্ধক ভ্যাট, শুল্ক ও কর কাঠামো সংস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির মহাসচিব আবু মোতালেবের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবদুর রাজ্জাক, এমএস কামাল উদ্দিন, এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ প্রমুখ।

ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের নেতারা বলেন, এফবিসিসিআই সভাপতি সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাজেট পরবর্তী সময়ে সঠিকভাবে লিয়াজোঁ করতে পারেননি। সভাপতি ও প্রথম সহ-সভাপতি নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব সঠিকভাবে করতে না পারায় তাদের দাবি মানা হয়নি। এ কাজে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। অতীতে এ ধরনের কোনো নজির দেখা যায়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবু মোতালেব বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট নিয়ে গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি যন্ত্রণায় আছি। প্যাকেজ ভ্যাট দিতে গিয়েও ব্যবসায়ীরা হয়রানি-ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হচ্ছে। টার্নওভার ট্যাক্সের জন্য ব্যাংক হিসাব তলব করছে। খাতাপত্র জব্দ করে নিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর প্যাকেজ ভ্যাটের হার শতভাগ বাড়ানো হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থে নতুন ভ্যাট আইনে প্যাকেজ ভ্যাটকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ভ্যাট হারের বৃদ্ধি বিগত অর্থবছরের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। যাতে ভ্যাট নিয়ে বছর বছর ব্যবসায়ীদের আন্দোলন-সংগ্রাম করতে না হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে এবং ভ্যাটের হয়রানি অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। প্রয়োজনে এফবিসিসিআই ও এনবিআর ঘেরাও করা হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে ভ্যাটের বিষয়ে বৈঠক করেছি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমস্যার বিষয়ে তাকে জানালে তিনি বলেছেন ফেডারেশন থেকে কিছু জানানো হয়নি। এতে বোঝা যায়, বাজেটে এবং বাজেটের পরে এফবিসিসিআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে ধ্বংস করতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চক্রান্ত সরকারের ভিতরে প্রবেশ করেছে। শিল্প-ব্যবসাকে নিরুত্সাহিত করতে তাদের প্রেসিক্রপ্শন অনুযায়ী আইন-কানুন বানানো হচ্ছে।

এমএস কামাল উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারি পর্যায়ে পণ্য সরবরাহের ওপর ৭ শতাংশ উেস কর আরোপ করা হয়েছে। অথচ ১০০ টাকার পণ্য সরবরাহ করে ৭ টাকা লাভ করা যায় না। এসব আইনের কারণে ব্যবসায়ীরা নাকানি-চুবানি খাচ্ছেন। এভাবে ব্যবসা করা সম্ভব না।

সংবাদ সম্মেলনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ন্যায় প্যাকেজ ভ্যাট হার বহাল রেখে প্রতিবছর ২০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা টার্নওভার পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও সেবা খাতে দশমিক ০৫ শতাংশ টার্নওভার কর নির্ধারণ, ৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে রেয়াত গ্রহণে অসমর্থ প্রতিষ্ঠানের ৪ শতাংশ ভ্যাট, হাতে তৈরি পাউরুটি, কেকের প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত, প্রতি জোড়া রাবারের হাওয়াই চপ্পল ও প্লাস্টিকের পাদুকা ১২০ টাকা পর্যন্ত এবং পাওয়ার লুমে উত্পাদিত পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানানো হয়। এসব দাবি বাস্তবায়নে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া না গেলে ১ সেপ্টেম্বর ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বৈঠক করে সারাদেশে কর্মবিরতি পালন, ধর্মঘট, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা, এনবিআর ও এফবিসিসিআই ঘেরাও করা হবে বলে হুমকি দেন তারা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন