শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনা আকস্মিক ঘটনা
বন্দর থানা পুলিশের প্রতিবেদন
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা পুলিশ দাবি করেছে, শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠ-বস করার ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটেছে। এমপি একেএম সেলিম ওসমান ও শিক্ষক শ্যামল উভয়ই পরিস্থিতির শিকার মাত্র। এ ঘটনার জন্য কারো বিরুদ্ধেই কারো কোনো অভিযোগ নেই। যে কারণে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল রবিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের ডিভিশন  বেঞ্চে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বন্দর থানার এসআই মোখলেছুর রহমান এ দাবি করেন। কিন্তু হাইকোর্ট তার এই প্রতিবেদন এখনো গ্রহণ করেননি। আদালত বলেছে, এই ঘটনার ‘মাস্টার মাইন্ড কে বা কারা তা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে এই প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট গত ১৮ মে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কি আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানাতে বলা হয়। এরপর জেলা পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয় যে, ওই লাঞ্ছনার ঘটনায় বন্দর থানায় একটি জিডি করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমতি নিয়ে তার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গত ৩ আগষ্ট নিন্ম আদালতে দাখিল করে পুলিশ। আদালত নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ঘটনার বিষয়ে সত্যতা না পাওয়ায় তা নথিভুক্তির নির্দেশ দেয়। এরপরই গতকাল ওই তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি কর্তৃক ছাত্র রিফাতকে মারধর এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গত ১৩ মে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষকের বিচার স্কুলে হবে-উল্লেখ করে জুমার নামাজের পূর্বে মাইকে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পরেই হাজার হাজার লোক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার মধ্য হতে কতিপয় ব্যক্তি শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান, স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উপস্থিত হলে উত্তেজিত জনতা পুনরায় ওই শিক্ষকের বিচারের দাবি জানায়। তখন পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করার মধ্যেই প্রধান শিক্ষককে জনগণের রোষানল থেকে রক্ষার জন্য উত্তেজিত জনতার দাবির প্রেক্ষিতে কান ধরে উঠ-বস করার ঘটনাটি আকস্মিকভাবে ঘটে। এ ঘটনায় এমপি সেলিম ওসমান ও শিক্ষক শ্যামল কান্তি দু’জনই উদ্ভূত পরিস্থিতির শিকার।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে শ্যামল কান্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান যে, এমপি সেলিম ওসমান এবং তিনি নিজে পরিস্থিতির শিকার। ঘটনার আকস্মিক পারিপার্শ্বিকতায় এটি ঘটেছে মাত্র। ফলে এ ঘটনায় তিনি কাউকে দোষী বা কারো বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি এ ঘটনায় তিনি আদালত বা পুলিশের নিকট কোথাও কোনো অভিযোগ দাখিল করবেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্যামল কান্তিসহ উক্ত প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিরই কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি ঘটনায় জড়িত করে কারো সম্পর্কে কেউ কোনোরূপ জবানবন্দি প্রদান করেননি। তাই এই বিষয়ে কারো বিরুদ্ধে কোনোরূপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন চিকিত্সা গ্রহণ শেষে গত ১০ জুলাই থেকে শ্যামল কান্তি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমকে রহমান বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এ প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমবে।

এ পর্যায়ে ডিএজি মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর কেউ নারাজি দরখাস্ত দেয়নি। এমকে রহমান বলেন, নারাজি দরখাস্ত না দিলেও আদালতের উচিত ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় বিষয়টি বিবেচনা করা।

এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে অ্যাডভোকেট জেআই খান পান্না আদালতে বলেন, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাটি বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে। কিন্তু পুলিশ প্রতিবেদন দিয়ে বলছে, এ ঘটনায় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশের এই প্রতিবেদন সঠিক নয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আগামী ১০ আগস্ট আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন