বন্যা :কমছে পানি, বাড়ছে দুর্ভোগ
ইত্তেফাক ডেস্ক০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
পানি কমতে থাকলেও বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ বাড়ছে। খাবার সংকট দেখা দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুধু ত্রাণ দিয়ে নয়, বরং নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের পরিকল্পনা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পর্যপ্ত পরিমাণ ঋণ সহায়তার বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বানভাসীরা। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

জামালপুর: জেলা প্রশাসন তথ্য সূত্র জানায়- ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, বকসিগঞ্জ ও জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলার ৬২টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়। সারা জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩শ’ ৯৩টি পরিবার। ৩০১টি ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ রূপে ও ৩২৭টি ঘরবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাত উপজেলায় ৬ কি. মি. বাঁধ সম্পূর্ণ ও ৫৮.৯০ কি. মি. বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা রাস্তা সম্পূর্ণ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১৭ কি.মি. ও আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৫২২ কি.মি.। পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সম্পূর্ণ রূপে ১৭ ও আংশিক ১০০ কি.মি.। ৪০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আলীম। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আংশিক ২৪৮টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসেব অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। ইসলামপুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ইউসুফ শাহী জানান, ২৬ কোটি টাকার ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, উপজেলায় ৮৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসা, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক সহশিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, শতাধিক বিদ্যালয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, বন্যায় প্রায় ৩ হাজার ৬ শ’ ৩৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ: জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল জানান, পানি কমতে শুরু করেছে। তবে টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার পদ্মা তীরের গ্রামগুলোয় কয়েক হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দী। বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকটে বানভাসীরা। বন্যাকবলিত এলাকায় পানি বাহিত রোগ দেখা দিচ্ছে।

রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম): উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুকুর, সবজি রোপা আমন ক্ষেত, কালভার্ট ও সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বারাকাত মো. খুরশিদ আলম জানান, সংস্কারাধীন তুরা সড়কের ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিন ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) জানান, ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২৪ হাজার ৯শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার জানান, রৌমারী উপজেলায় ১৮৮ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য রুহুল আমিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল): উপজেলা কৃষি অফিসার বি এম রাশেদুল আলম জানান, উপজেলায় প্রয় চার হাজার হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে। ভারড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৯৫ ভাগ পরিবার পানিবন্দী। স্রোতে ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড দুটি রাক্ষসে যমুনা গ্রাস করে নিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন