সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া জঙ্গি নিয়ে সংবাদ না ছাপার অনুরোধ
পুলিশ কর্মকর্তার ব্রিফিং
বিশেষ প্রতিনিধি০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
রাজধানীর গুলশানে আর্টিজান রেস্টুরেন্টে ও শোলাকিয়ার ঈদগাহ ময়দানের কাছে জঙ্গি হামলা নিয়ে সুনির্দিষ্ট রেফারেন্স ( তথ্য) ছাড়া কোনো ধরনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি প্রতিবেদন লেখার সময় তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন।

গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে গুলশানের আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি ইঙ্গিত করে মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কথিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে তদন্তকারীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ জানাচ্ছি, এ ধরনের প্রতিবেদন যেন কেউ প্রকাশ না করে। আর কারো কাছে যদি এক্সক্লুসিভ কোনো ছবি বা তথ্য থাকে তারা যেন সরাসরি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

হলি আর্টিজানে হামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তে অগ্রগতি আছে। কারা অর্থ ও অস্ত্রের যোগান দিয়েছিল সব তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের অনেককেই প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলেই পুরো ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে তাদের সংখ্যা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন তামিম চৌধুরী কল্যাণপুরে অভিযানের সময় ঢাকাতেই অবস্থান করছিলেন । তাকে ধরতে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে সমস্ত পুলিশ সদস্য সেখানে ( হলি আর্টিজান) প্রথমে হাজির হয়েছিল তাদেরকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ইন্টারভিউ হচ্ছে, অসংখ্য মানুষের ইন্টারভিউ হচ্ছে। সুনির্দিষ্টভাবে এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয় যে ঠিক কত মানুষকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।’

গুলশানের ঘটনায় কেউ গ্রেফতার আছে কীনা প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এখনো কেউ গ্রেফতার নেই। তবে তাহমিদ ও হাসনাত করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যদি পরিষ্কার হয় সে ক্ষেত্রে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। তিনি বলেন, হাসনাত করিম ও তাহমিদকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হাসনাত করিম ও অস্ত্র হাতে তাহমিদ হাসিব খানের যে ছবি পত্রিকায় এসেছে -সে ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা রিমান্ডে আছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আপনাদের স্পষ্টভাবে এই বিষয়গুলো জানাব। কী পরিস্থিতিতে তাদের হাতে অস্ত্র উঠল জানার জন্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত সংস্থার কাছে যদি তাদের এ মামলায় জড়িত বলে মনে হয়, সেক্ষেত্রে তাদের এ মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হবে।

গতকাল রবিবার একটি জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট করেছে, গুলশান হামলার কিছু ছবি তাদের হাতে পৌঁছেছে এবং তা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, ওই ঘটনায় হাসনাত করিম ও তাহমিদ হাসিব খান জড়িত। আর এ হামলার মূল হোতা হাসনাত করিম নিজেই। তবে তারা সুনির্দিষ্ট করে তথ্যের কোনো উেসর উল্লেখ করেনি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন