চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারত
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
সচিব পর্যায়ের বৈঠকে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ভারত ব্যবহার করতে পারবে। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুই দেশের নৌ-পরিবহন সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকালে এ বিষয়ে চুক্তির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। 

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নৌ-সচিব অশোক মাধব রায়। আর ভারতের পক্ষে সে দেশের নৌ-সচিব রাজিব কুমার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বৈঠক উদ্বোধন করেন।

নৌ-সচিব অশোক মাধব রায় এক প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, এই বৈঠকে পায়রা বন্দরে একটি টর্মিনাল নির্মাণসহ মোট চারটি চুক্তির বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ ব্যাপারে সচিব পর্যায়ে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার, পায়রা বন্দরে মাল্টিপারপাস (কন্টেইনার) টার্মিনাল নির্মাণ, লাইটহাউজ ও লাইটশিপ ব?্যবহার, কোস্টাল ও প্রটোকল রুটে যাত্রী ও ক্রুজ সার্ভিস নিয়ে ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান সচিব।

তিনি বলেন, তারা কীভাবে বন্দর ব্যবহার করবে এটা নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করে একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছি। বন্দর ব্যবহারের ফি নির্ধারণের বিষয়ে অশোক মাধব রায় বলেন, এ ধরনের চুক্তির তিনটি পর্যায় থাকে। প্রথমে হয় সমঝোতা স্মারক, এরপর এগ্রিমেন্ট, তারপর এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর)। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওরে ফি নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা শুধু চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছি। তিনি জানান, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি করার কথা আছে চুক্তির একটি ধারায়। সেই কমিটিই পরে এসওপি তৈরি করবে।

নৌসচিব বলেন, ভারতকে বিশেষভাবে কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। কেবল বাংলাদেশের রুট ও বন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিতে এই চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অন্যান্য বন্দর ব্যবহার করলে বন্দর যেভাবে সুবিধা পায়, সেভাবে সবকিছু প্রযোজ্য থাকবে। কাস্টমস, বন্দরের যে সব চার্জ সবই তারা (ভারত) দেবে।

পায়রা বন্দরের কাজকে নয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে জানিয়ে অশোক মাধব বলেন, একটি কম্পনেন্টে ভারত সহায়তা করতে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়েও একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে।

পায়রা বন্দরের টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ভারতকে দেওয়ার বিষয়ে নৌ-সচিব বলেন, ভারত এটা পিপিপি (সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব) বা সরাসরি বিনিয়োগের যে কোনো একটি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে টার্মিনাল নির্মাণ করবে।

পায়রা বন্দরের জন?্য এখনও কারও কাছ থেকে অর্থায়ন চাওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা ইআরডিতে (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) একটি পিডিপিপি (প্রাইমারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফর্মা) পাঠিয়েছি। ১২৫টি দেশ বিভিন্ন কম্পনেন্টে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা।

তিনি বলেন, আমরা প্যাসেঞ্জার ক্রুজ সার্ভিস চালু করব। একটা রুট করে দেওয়া হবে, সেই রুটে পর্যটকরা পরিদর্শন করতে পারবেন। আগে তো জাহাজের ক্রুরাও নামতে পারতেন না। এবারের চুক্তিতে দুই দেশের ক্রুদের তিন দিনের অন অ্যারাইভালের ভিসা দেওয়ার কথা থাকবে। যাত্রী নামার বিষয়টি পরবর্তী মিটিংয়ে আসতে পারে। আগে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে চালাব, পরে সিদ্ধান্ত নেব।

পায়রা বন্দরে টার্মিনাল নির্মাণে কোনো কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে জানতে চাইলে ভারতের নৌসচিব রাজীব কুমার জানান, ইন্ডিয়ান পোর্ট গ্লোবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারি কয়েকটি কোম্পানি পায়রা বন্দরে টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী।

ভারত কবে থেকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করতে চায়- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই এটা শেষ হবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক সুব্রত রায় মৈত্র, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল খালেদ ইকবাল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ মুনির চৌধুরী, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর এম জাকিউর রহমান ভুঁইয়া, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া) এম মনোয়ার হোসেন, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এম সাইদুর রহমান প্রমুখ।

ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা হলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাজাত সাচার, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এম কে সাহা, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অমিতাভ ভার্মা, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক)  শ্রীকান্ত মহারাজা, আগরতলা কাস্টমস এর যুগ্ম কমিশনার, ভিভান্তা ওয়াটারওয়েজ এর পরিচালক আর সুশীলা, আইসিএম (আই) প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান বি এস চৌহান এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমারের আন্ডার সেক্রেটারি মিনি কুমান।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন