আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
তুহিন খান

সাভার উপজেলাধীন আশুলিয়া ভূমি অফিসের রাজস্ব সার্কেলটি ঘুষ-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এ অফিসে অর্থের বিনিময়ে অর্পিত ও খাস জমির নামজারিসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও দালালদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে একটি সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি সাধারণ মানুষ। কোনো কাজই ঘুষ ছাড়া সম্পন্ন হয় না। 

জানা যায়, সরকার ভূমি মালিকদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সাভার ভূমি অফিসকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে। এর মধ্যে একটি হলো আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ রাজস্ব সার্কেলে সেবা নিতে আসা জনগণ প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধু ঘুষই নয়, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে স্টাফদের ব্যবহার খুবই খারাপ। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। আর কর্মকর্তাদের চাহিদা মাফিক ঘুষ প্রদান করলে অবৈধ কাজও বৈধ হয়ে যায়। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে সরকারি খাস জমিও নামজারি করা হচ্ছে। ঝামেলার ভয়ে কেউ ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না।

অভিযোগ রয়েছে, আশুলিয়া সার্কেলের মাহমুদা সিদ্দিকা অফিস সহকারী হলেও তিনি একাই মিস কেইসের পেশকার ও নাজিরের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অফিসের সেবা প্রার্থীদের সঙ্গে সর্বদাই তিনি দুর্ব্যবহার করে থাকেন। প্রতি মিস কেইসে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন তিনি। চাহিদা মাফিক ঘুষ না দিলে কাগজপত্র সঠিক থাকলেও কাজ হয় না। তার বড় ভাই জেলা প্রশাসকের নাজির হওয়ায় তিনি আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলে প্রচণ্ড দাপটের সঙ্গে চলেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে না আসলে মাহমুদা সিদ্দিকাও অফিস করেন না।

অভিযোগ রয়েছে, অফিস সহকারী পদমর্যাদার হয়েও তিনি গাজীপুর চৌরাস্তায় ১০টি ছোট বাড়ি করে ভাড়া দিয়েছে। আশুলিয়ার বাইপাইলে তার ক্রয়কৃত জমি রয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহমুদা সিদ্দিকা। তবে অতিরিক্ত দুটি দায়িত্ব পালনের কথা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে গাজীপুরের চৌরাস্তায় তার বাড়ি থাকার কথা এই প্রতিবেদককে জানান।

অপর অফিস সহকারী শাহ আলম ধামরাইয়ে ৫০ লাখ টাকা এবং কেরানীগঞ্জের নতুন জেলাখানার পাশে ৩০ লাখ টাকা মূল্যে জমি ক্রয় করেছে। সেবা গ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রায়ই বাজে ব্যবহার করেন তিনি। রেকর্ডে জমি না থাকলেও ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে খাস জমি নামজারি করেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের সহকারী কমিশনার মো. যুবায়েরকে দিয়ে তিনি বেলমা মৌজার ১১৯ দাগে ৮০ শতাংশ খাস জমি (যার মূল্য ৫ কোটি টাকা) জনৈক কামাল উদ্দিন এর নামে নামজারি করে দেন। পরে তদন্তে খাস জমি অর্থের বিনিময়ে নামজারি করার ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায় এবং কামাল গং এর নামে নামজারি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

শাহ আলমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন ধামরাইয়ের জমিটি তার স্ত্রীর। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করা হলে এ প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান কে তাকে এসব জানিয়েছে।

কামাল, অফিস সহায়ক (পিয়ন)। বসে থাকেন চেয়ার টেবিল নিয়ে। দেখে মনে হয় তিনি একজন কর্মকর্তা। একজন পিয়ন হয়েও তার দাপট এমনই পর্যায়ে যে, নামজারির আদেশ গ্রহণ ও রেজিস্ট্রেশন লেখা এবং নামজারি হওয়ার পর পর্চা, খতিয়ান সে-ই সরবরাহ করে থাকে। প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি আশুলিয়ার কুটুরিয়া এলাকায় নিজ নামে ৮০ লাখ টাকা মূল্যের জমি কিনেছেন। কামালের বিরুদ্ধে শত শত অভিযোগ রয়েছে। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেশ কয়েকটি অভিযোগ তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।  অফিস সহায়ক কামালকে ফোন করা হলে তিনি অফিসে চায়ের আমন্ত্রণ জানান।

অফিস সহকারী মাহমুদা সিদ্দিকা, শাহ আলম ও পিয়ন কামাল সিন্ডিকেট সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দোহাই দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ আদায় করেন। আরো অভিযোগ রয়েছে, তাদের চাহিদা মাফিক ঘুষ প্রদান না করলে জমির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা বাতিল করে দেন। এছাড়া দালাল ছাড়া ওই অফিসে কোনো কাজই হয় না।

এ ব্যাপারে রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিকাশ বিশ্বাস বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষজনের জন্য আমার দরজা সর্বদাই খোলা। অভিযুক্ত তিন জনের অনিয়ম-দুর্নীতির ব্যাপারে তাকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, কেউ ভোগান্তির শিকার হয়েছে এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন