খালেদা বেদীতে উঠে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন :-- প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
খালেদা বেদীতে উঠে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন :-- প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শ্রদ্ধা নিবেদনকালে মূল বেদীতে উঠে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করেছেন। মধ্যরাতে বেরোনোর কারণে উনি বেতালা থাকতে পারেন; কিন্তু তার সঙ্গে থাকা দলের নেতারা তো তাকে শ্রদ্ধা নিবেদনের ঠিক জায়গাটা দেখিয়ে দেবেন। উনার সাঙ্গপাঙ্গরাও কী বেতালা ছিলেন? গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চিরপ্রেরণার অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ভাষার প্রতিও বিএনপি নেত্রীর এতটুকু সম্মান নেই। শহীদ মিনার অত্যন্ত পবিত্র স্থান। শহীদ মিনারের যে স্থানটিতে (বেদী) রাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ সবাই শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, সেই স্থান মাড়িয়ে বিএনপি নেত্রী দলবল নিয়ে উঠে গিয়ে ফুল দিয়েছেন। বেদী ছেড়ে উনি কোথায় ফুল দিলেন? নিজের পায়ে কী ফুল দিলেন? যেখানে সবাই শ্রদ্ধা জানালেন, বিএনপি নেতা তার ওপর উঠে শহীদ মিনারকে অবমাননা করলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (খালেদা জিয়া) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। এরা দেশের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় কীভাবে উপলব্ধি করবে? এদের মন তো স্বাধীন বাংলাদেশে নেই, এদের মন পড়ে থাকে হাজার মাইল দূরের পেয়ারের পাকিস্তানে। এ কারণেই শহীদ মিনারে কোথায় ফুল দিতে হয় তা জানে না। যারা (বিএনপি-জামায়াত) দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, তাদের কাছে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের কোনো মূল্য থাকতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমি এবং আমার পরিবারই ছিল সেই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য। তবে সততার শক্তি ছিল বলেই আমরা সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পেরেছি।

বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও উচ্চারণে দেশের নতুন প্রজন্মকে আরো সচেতন হওয়ার আবারো আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষা যেভাবে গ্রহণ করা যায়, অন্য কোনো ভাষায় তা হয় না। তবে গোটা বিশ্বই এখন গ্লোবাল ভিলেজ। তাই মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষাও শেখার সুযোগ থাকতে হবে। তবে ইদানিং দেখছি একটি শ্রেণির যেন ফ্যাশনে ও প্রবণতায় পরিণত হয়েছে বাংলাকে ইংরেজি একসেন্টে (উচ্চারণ) বলা। বাংলাকে ইংরেজি ধ্বনিতে বলার এই প্রবণতা অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নিজের মাতৃভাষাকে বিকৃত করে অন্যদেশের ভাষার আদলে কথা বলার প্রবণতা দূর করতে সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।

জাতির ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস জানতে নতুন প্রজন্মকে তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইতিহাস ও অতীত জানতে হবে। যে ছেলে ইতিহাস-অতীত জানতে পারে না, সে সত্যিকার অর্থে বাঙালি হতে পারে না। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অধ্যাপিকা মেরিনা হোসেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও কবি নির্মলেন্দু গুণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

দারিদ্র্য নির্মূলই সরকারের প্রধান লক্ষ্য:প্রধানমন্ত্রী

বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম আখতার জাহানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য মুক্তির মাধ্যমে একটি ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা। দেশের একটি লোকও ভিক্ষা করবে না, না খেয়ে থাকবে না, যাতে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে সেটিই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বিশ্বে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত  প্রবেশাধিকার বিস্তৃতি করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার। এরফলে ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ বেশ কিছু দেশ পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে। 

সরকারি দলের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর অপর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট এবং তা হলো জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করা। বিমানকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জাসদের নাজমুল হক প্রধানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

জাতীয় পার্টির (জাপা) নূরুল ইসলাম ওমরের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মহাসড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নূরুল ইসলাম মিলনের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে যথেষ্ট আগ্রহী করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি দলের কামরুল আশরাফ খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা ছাড়া বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও ক্ষতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন